সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে কমিউনিটি ক্লিনিকের এক স্বাস্থ্যকর্মীর বিরুদ্ধে এক বছরেরও বেশি সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে নিয়মিত সরকারি বেতন ও ভাতা গ্রহণ করছেন। ক্লিনিকের অফিস সহকারীকে ‘ম্যানেজ’ করেই তিনি এই অপকর্ম করে বেড়ানোর অভিযোগ উঠেছে।
অভিযুক্ত ওই স্বাস্থ্যকর্মীর নাম ফারহানা বেগম। তিনি উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের শাহারপাড়া আউদত কমিউনিটি ক্লিনিকের কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারের (সিএইচসিপি) পদে কর্মরত। তিনি ২০১১ সালের ১৮ অক্টোবর চাকরিতে যোগদান করেন।
এদিকে ক্লিনিকে অনুপস্থিতির বিষয়ে ফারহানাকে একাধিকবার শোকজ তিনি তার কোনো জবাব দেননি বলে জানা গেছে। সর্বশেষ গত ৭ জুলাই তাকে ৫৬৫ নম্বর স্মারকে নোটিশ পাঠানো হয়। এরপর গত জুলাই মাস থেকে তার বেতন বন্ধ রেখেছে কর্তৃপক্ষ।
ক্লিনিক সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্যকর্মী ফারহানা বেগম গত বছরের মে মাস থেকে চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত টানা এক বছর ক্লিনিকে অনুপস্থিত ছিলেন। এরপরও চলতি বছরের মে মাসে তিনি ক্লিনিকের অফিস সহকারীকে ‘ম্যানেজ’ করে তিনি বেতন-ভাতা উত্তোলন করেছেন বলে জানা গেছে।
সরেজমিনে ক্লিনিকে গিয়ে দেখা যায়, দরজা খোলা থাকলেও ভেতরে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী নেই। সিএইচসিপি ফারহানা বেগম ও পরিবার কল্যাণ সহকারী সুলতানা বেগম—দুজনই অনুপস্থিত।
ক্লিনিকের সামনে অপেক্ষমাণ কয়েকজন রোগী বলেন, 'ফারহানা ম্যাডাম প্রায় এক বছর ধরে আসেন না। কয়েক দিন আগে একজন লোক আসতেন, তিনিও এখন আর আসেন না।'
ক্লিনিকসংলগ্ন এক দোকানদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, 'তিনি সরকারি চাকরি করেন, কিন্তু গত এক বছর তাকে কেউ এখানে দেখেনি। তারপরও নিয়মিত বেতন তুলেছেন—এটা সবাই জানে।'
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ফারহানাকে একাধিকবার শোকজ করা হয়েছে। সর্বশেষ গত ৭ জুলাই (২০২৫) তারিখে ৫৬৫ নম্বর স্মারকে নোটিশ পাঠানো হলেও তিনি এখনও কোনো জবাব দেননি। এরপর জুলাই মাস থেকে তার বেতন বন্ধ রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে ক্লিনিকের অফিস সহকারী ফয়সাল আহমেদকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, 'আমি শুধু বিল প্রস্তুত করি, স্যার তাতে স্বাক্ষর করেন। ফারহানা ক্লিনিকে যান কি না, সেটা আমার দায়িত্ব নয়।'
অনুপস্থিতির বিষয়ে ফারহানা বেগমের ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
জগন্নাথপুর উপজেলার পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কৃপেশ চন্দ্র রায় বলেন, 'ফারহানাকে একাধিকবার অনুপস্থিতির কারণে শোকজ করা হয়েছে। সর্বশেষ গত ৭ জুলাই আবার নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত তিনি যোগ দেননি। এসময় অনুপস্থিতির কারণ জানতে চাইলে ফারহানা অসুস্থ ছিলেন বলে জানান ডা. কৃপেশ।
সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. জসিম উদ্দিন বলেন, 'বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। যদি মেডিকেল ছুটি ছাড়া অনুপস্থিত থাকেন, তবে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চাকরিতে না থেকে কেউ বেতন পেতে পারেন না।'
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি 








