কোম্পানীগঞ্জের ইউএনও বদলি
মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ০৬:৫৩ PM

কোম্পানীগঞ্জের ইউএনও বদলি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮/০৮/২০২৫ ০৬:৩৭:১৫ PM

কোম্পানীগঞ্জের ইউএনও বদলি


এবার বদলি হলেন পাথর-চুরি কাণ্ডের সেই দেমাগি ইউএনও আজিজুন্নাহার। ৫ আগস্ট পটপরিবর্তনের পর তার পদায়ন হয় সিলেটে প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পদে। তিনি তার মতো চলেন। স্থানীয় সংবাদকর্মীসহ অনেকের অভিযোগ কাউকে পাত্তা দিতে নারাজ তিনি। তিনি নতুন দায়িত্ব নেয়ার পরও পাথর কোয়ারীতে পাথর চুরি বন্ধে কোন ব্যবস্থা নেননি তিনি।

একই সাথে সরকারি মহাল থেকে বালু উত্তোলিত হলেও তিনি ছিলেন চুপ। স্থানীয়রা এ বালু জব্দের জন্য তাকে বিভিন্নভাবে অনুরোধ করলেও রহস্যজনক ভূমিকায় ছিলেন তিনি। অনেকের অভিযোগ তার মদদেই ছিল পাথর-বালু চুরির হিড়িক। মূলত তার কারণে কোটি কোটি টাকার বালু পাথর চুরির ঘটনা ঘটে দিন-দুপুরে ভোলাগঞ্জে।

এর মধ্যে তাকে দিয়ে পাথর চুরির ঘটনা তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটি গঠন নিয়ে শুরু হয় নতুন সমালোচনা। বিশেষত কমিটিতে কোম্পানীগঞ্জের ইউএনও আজিজুন্নাহারকে কমিটিতে রাখা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সাদাপাথর লুটপাট ঠেকাতে ব্যর্থতা ও লুটপাটকারীদের ব্যাপারে অভিযোগ রয়েছে এই ইউএনওর বিরুদ্ধে। এ বছরের জানুয়ারিতে কোম্পানীগঞ্জে যোগদান করেন তিনি। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, তার দায়িত্বকালে লোক দেখানো অভিযান আরও শিথিল হয়ে গেছে, এবং সেই সুযোগে লুটপাটকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠে। এ নিয়ে কার্যত কোনোন ভূমিকা পালন করেননি তিনি। গত বছরের ৫ আগস্ট থেকে ভোলাগঞ্জের সাদা পাথর এবং সংলগ্ন রেলওয়ে বাঙ্কারে ভয়াবহ লুটপাট চলে আসছে। প্রথমে রাতের আঁধারে হলেও পরে দিনের আলোতেও প্রকাশ্যে এই লুট চলে। এদিকে, পাথর লুট তদন্তে গঠিত কথিত কমিটি গঠন করেছিলেন জেলা প্রশাসক। এই কমিটিতে তিনদিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছিল। তবে পাঁচদিন পেরিয়ে গেলেও তারা প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি আজও।

এমতাবস্থায় রোববার তদন্ত কমিটির মেয়াদ আরও তিনদিন বাড়ানো হয়েছে। তদন্ত কমিটির আবেদনের প্রেক্ষিতে এ সময় বৃদ্ধি। আগামী বুধবার তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা রয়েছে তাদের।

রোববার তদন্ত কমিটির আবেদনের প্রেক্ষিতে তিনদিন সময় বাড়ানো হয় বলে জানিয়েছেন কমিটির প্রধান সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) পদ্মাসন সিংহ।

এর আগে গত ১২ আগস্ট সিলেটের জেলা প্রশাসক শের মাহবুব মুরাদ ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) পদ্মাসেন সিংহ। দুই সদস্য হলেন- কোম্পানীগঞ্জের ইউএনও আজিজুন্নাহার ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আফজালুল ইসলাম। এমতাবস্থায় আজ প্রত্যাহার করা হয়েছে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদ কে। নতুন ডিসি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মো: সারোয়ার আলম। এছাড়া দেমাগি সেই ইউএনও কেও বদলি করা হয়েছে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায়। 

সোমবার সিলেট বিভাগীয় কমিশনার খান মো: রেজা-উন-নবী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে বদলির এ আদেশ দেয়া হয়।

আজকের সিলেট/এপি

সিলেটজুড়ে


মহানগর