সাদাপাথর লুটপাট : তদন্ত কমিটির কী হবে?
মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ০৬:৫৩ PM

সাদাপাথর লুটপাট : তদন্ত কমিটির কী হবে?

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯/০৮/২০২৫ ০৫:৪৮:০০ PM

সাদাপাথর লুটপাট : তদন্ত কমিটির কী হবে?


সিলেটের সাদাপাথরে নজিরবিহীন লুটপাট নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে সোমবার সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) শের মাহবুব মুরাদকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) এবং কোম্পানীগঞ্জের উপজেলা ইউএনও আজিজুন্নাহারকে বদলি করা হয়েছে। এই আদেশের ফলে দুজনকেই চলে যেতে হচ্ছে বর্তমান কর্মস্থল ছেড়ে। এতে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে সাদা পাথরের লুটপাটের ঘটনায় জেলা প্রশাসন ঘটিত তদন্ত কমিটির কী হবে?

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জের সাদাপাথর লুট নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে গত ১২ আগস্ট তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন সিলেটের জেলা প্রশাসত শেখ মাহবুব মুরাদ। এই কমিটিতে তিনদিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছিলো। তবে এখন তারা প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি।

কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) পদ্মাসেন সিংহ। দুই সদস্য হলেন- কোম্পানীগঞ্জের ইউএনও আজিজুন্নাহার ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আফজালুল ইসলাম।

এ কমিটি গঠনের পর থেকেই শুরু হয় সমালোচনা। বিশেষত কমিটিতে কোম্পানীগঞ্জের ইউএনও আজিজুন্নাহারকে রাখা নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে। সাদাপাথর লুটপাট ঠেকাতে ব্যর্থতা ও লুটপাটকারীদের ব্যাপারে উদাসীনতার অভিযোগ রয়েছে এই ইউএনওর বিরুদ্ধে।

ইউএনও আজিজুন্নাহার এ বছরের জানুয়ারিতে কোম্পানীগঞ্জে যোগদান করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, তার দায়িত্বকালে লোকদেখানো অভিযান আরও শিথিল হয়ে গেছে, এবং সেই সুযোগে লুটপাটকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

সমালোচনার মুখে সোমবার ইউএনও আজিজুন্নাহারকে ফেঞ্চুগঞ্জে বদলি ও সিলেটের ডিসি শেখ মাহবুব মুরাদকে ওএসডি করা হয়েছে।

কমিটি গঠনকারী ও কমিটির এক সদস্যের বিদায়ের আধেশের ফলে সাদাপাথর লুটের ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটির প্রতিবেদন আলোর মুখ দেখবে কী- এমন শঙ্কা রয়েছে।

তবে শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে তদন্ত কমিটির প্রধান সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) পদ্মাসন সিংহ বলেন, যাদের বদলির আদেশ হয়েছে তা এখনও নিজ নিজ এলাকার দায়িত্বে রয়েছেন। দায়িত্ব হস্তান্তরের পূর্ব পর্যন্ত তারা আগের দায়িত্বই পালন করে যাবেন। ফলে তদন্ত কাজে কোন সমস্যা হবে না।

তিনি বলেন, তদন্ত কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে। আমরা অবশ্যই কালকের (বুধবারের) মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবো।

উল্লেখ্য. গত বছরের ৫ আগস্ট থেকে ভোলাগঞ্জের সাদা পাথর এবং সংলগ্ন রেলওয়ে বাঙ্কারে ভয়াবহ লুটপাট চলে আসছে। প্রথমে রাতের আঁধারে হলেও পরে দিনের আলোতেও প্রকাশ্যে এই লুট চলে।

স্থানীয়দের দাবি, এ পর্যন্ত অন্তত দুই কোটি ঘনফুট পাথর লুট হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ২০০ কোটির বেশি। সম্প্রতি সিলেটের সাদাপাথর এবং জাফলং পর্যটনকেন্দ্রের লাখ লাখ ঘনফুট পাথর লুটের ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয় সারাদেশে। নড়েচড়ে বসে সরকার। এমনকি রিট হয় উচ্চ আদালতেও। আদালত লুন্টিত পাথর উদ্ধার করে যথাস্থানে প্রতিস্থাপনেরও নির্দেশ দিয়েছেন।

এমন প্রেক্ষাপটে সিলেটসহ সারাদেশে শুরু হয় সাঁড়াশি অভিযান। উদ্ধার হয় অন্তত ৫ লক্ষাধিক ঘনফুট পাথর।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর