আর্জেন্টিনা দেখিয়ে দিল তারা শুধুই ‘মেসিনির্ভর’ নয়
বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১১:৫৪ AM

আর্জেন্টিনা দেখিয়ে দিল তারা শুধুই ‘মেসিনির্ভর’ নয়

ক্রীড়া ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬/০৭/২০২৬ ০৯:৩৮:৫৯ AM

আর্জেন্টিনা দেখিয়ে দিল তারা শুধুই ‘মেসিনির্ভর’ নয়


রেফারি শেষ বাঁশি বাজাতেই সেন্টার সার্কেলে হাঁটু মুড়ে বসে দুই হাত বুকের কাছে নিয়ে উল্লাস করছেন লিওনেল মেসি। ধীরে ধীরে তার কাছে এলেন সতীর্থেরা। তার আগের ১৫ মিনিট তার দল যে ফুটবলটা খেলেছে তা অবিশ্বাস্য। ৮৪ মিনিট পর্যন্ত পিছিয়ে থেকেও জিতেছে আর্জেন্টিনা। ইংল্যান্ডকে হারিয়ে উঠেছে বিশ্বকাপের ফাইনালে। কিন্তু মেসি তো একটিও গোল করেননি। তারপরেও জিতেছে তার দল। এই দল দেখিয়ে দিচ্ছে, মেসি গোল না করলেও জিততে পারে তারা।

মেসিকে যে প্রতিপক্ষ বোতলবন্দি করার চেষ্টা করবে, এ আর নতুন কী? একমাত্র আলজেরিয়া বাদে বাকি সব ম্যাচে তা দেখা গিয়েছে। ইংল্যান্ডও আটকে রেখেছিল তাকে। পুরো ম্যাচে বক্সে দুই বারের বেশি ঢুকতে পারেননি তিনি। তাতে কী? দলের জয় আটকায়নি।

মেসি শুরুটা করেন মাঝে। থ্রু বল ধরে ড্রিবল করে এগোনোর চেষ্টা করেন। কিন্তু ইংল্যান্ডের ডিফেন্স ভেঙে এগোতে পারছিলেন না। ফলে, শেষ দিকে প্ল্যান বি-তে চলে গেলেন তিনি। সরে গেলেন ডান প্রান্তে। সেখান থেকে একের পর এক ক্রস ভাসালেন। তারই পাস ধরে দূরপাল্লার শটে গোল করে সমতা ফেরালেন এঞ্জো ফের্নান্দেজ। তারই ডান পায়ের ক্রসে হেড করে জিতিয়েছেন লাউতারো মার্তিনেজ।

হ্যাঁ, খাতায়-কলমে মেসির দুই অ্যাসিস্ট থেকেই গোল এসেছে। কিন্তু ফের্নান্দেজের গোলের কৃতিত্ব সম্পূর্ণ তারই। অতো দূর থেকে তার নিখুঁত শট আটকাতে পারেননি জর্ডন পিকফোর্ড। আবার দ্বিতীয় গোলের ক্ষেত্রে নিজেকে ঠিক জায়গায় নিয়ে গিয়েছিলেন লাউতারো। নইলে ইংল্যান্ডের দীর্ঘদেহী ডিফেন্ডারদের টপকে গোল করতে পারতেন না।

এই দলটি মেসির জন্য খেলে। সতীর্থেরা জান লড়িয়ে দেন। মেসিকে কেউ ট্যাকল্ করলে তেড়ে যান। কিন্তু গোল করার জন্য মেসির অপেক্ষায় থাকেন না। দলের সেরা তারকা আটকে গেলে নিজেরাও গোল করার ক্ষমতা রাখেন।

চলতি বিশ্বকাপের নকআউটে একের পর এক ম্যাচে তা দেখা গিয়েছে। কখনো ফের্নান্দেজ, কখনো লাউতারো, আবার কখনো হুলিয়ান আলভারেজ গোল করেছেন। ইংল্যান্ড ম্যাচে আর্জেন্টিনা আরও একবার দেখিয়ে দিয়েছে, জেতার জন্য পুরোপুরি মেসির উপর নির্ভর করতে হয় না তাদের।

তবে আর্জেন্টিনার এই জয়ের ক্ষেত্রে ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেলও সমানভাবে দায়ী। প্রথম ৫৫ মিনিট ইংল্যান্ডই ভাল খেলেছে। অনেক বেশি আক্রমণ করেছে। তাদের গতির সঙ্গে পেরে উঠছিল না আর্জেন্টিনা। কিন্তু প্রথম গোলের পর হঠাৎ করে পুরোপুরি রক্ষণাত্মক হয়ে গেল ইংল্যান্ড।

এগিয়ে যাওয়ার পর সামান্য রক্ষণাত্মক হওয়া ভালো। কিন্তু পুরোপুরি নিজেদের বক্সে নেমে গেলে মুশকিল। টুখেল ‘পার্ক দ্য বাস’ নীতিতে চলে গেলেন। আক্রমণ ভাগের ফুটবলার তুলে ডিফেন্ডার নামালেন। ৫-৪-১ ছকে চলে গেলেন। এমনকি, হ্যারি কেনও ডিফেন্স করে গেলেন। তাতেই ডুবল ইংল্যান্ড।

এখনকার ফুটবলে এক গোলের ব্যবধান কিছুই নয়। তাই সকলেই চেষ্টা করেন, আরও এক গোল করে ফেলতে। তা হলে হাঁপ ছেড়ে বাঁচা যায়। কিন্তু টুখেল তা করলেন না। সেই সুযোগ কাজে লাগালেন আর্জেন্টিনার কোচ স্কালোনি। তিনি রক্ষণ ভাগের ফুটবলার তুলে স্ট্রাইকার বাড়ালেন। তাতে আরও চাপ বাড়ল ইংল্যান্ডের বক্সে।

আর্জেন্টিনা সমতা ফেরানোর পরও আক্রমণ করে গেল। তারা বুঝে গিয়েছিল, ইংল্যান্ড ভয় পেয়ে গিয়েছে। তার সুযোগ নিতে হবে। হলোও তাই। যে আক্রমণ আর্জেন্টিনা করল, প্রথম গোলের পর ইংল্যান্ড যদি তার অর্ধেকও করত, খেলার ফল অন্য রকম হত। কিন্তু টুখেলের পরিকল্পনা সব নষ্ট করে দিল। রক্ষণাত্মক মানসিকতার খেসারত দিতে হল তাদের।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর