মৌলভীবাজার জেলাকে ‘চায়ের রাজধানী’ বলা হয়, কারণ এ অঞ্চলের বিশাল চা বাগান এবং উৎকৃষ্ট মানের চায়ে রয়েছে আন্তর্জাতিক খ্যাতি। চায়ের সুবাসে ভরপুর এই জনপদ এবার আলোচনায় এসেছে আরেকটি সৌন্দর্যের দিক থেকে—আল্পনায় মোড়ানো এক মনোমুগ্ধকর সড়কে।
শ্রীমঙ্গল উপজেলার বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিটিআরআই) সংলগ্ন প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কের দু’পাশে ছড়িয়ে থাকা সবুজ চা বাগানের মধ্যে আঁকা হয়েছে নান্দনিক আল্পনা। রঙের ছোঁয়ায় যেন পথই হয়ে উঠেছে এক চলমান ক্যানভাস। সবুজ প্রকৃতির কোলে রঙিন এই শিল্প পথচারী থেকে শুরু করে দূরদূরান্তের পর্যটকদেরও আকর্ষণ করছে।
এ সড়ক এখন শুধু যাতায়াতের মাধ্যম নয়, হয়ে উঠেছে দর্শনীয় স্থান। সকাল-বিকেল পরিবার, বন্ধু কিংবা প্রিয়জন নিয়ে মানুষ ভিড় করছেন এখানে। কেউ হাঁটছেন, কেউ ছবি তুলছেন, কেউ শুধু চুপচাপ দাঁড়িয়ে সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। এই আল্পনাময় পথ যেন মৌলভীবাজারের পর্যটনে যোগ করেছে নতুন মাত্রা—যেখানে প্রকৃতি আর শিল্প একত্রে বলছে নতুন গল্প।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইসলাম উদ্দিনের উদ্যোগে এই সড়কজুড়ে আঁকা হয়েছে মনোমুগ্ধকর আল্পনা।
মঙ্গলবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, রাস্তার দুই পাশে ভিড় জমেছে নানা বয়সী মানুষের। অনেকে মোবাইল বা ক্যামেরা হাতে দৃষ্টিনন্দন এই দৃশ্যকে ধরে রাখছেন ছবিতে। কেউ হাঁটছেন ধীরপায়ে, কেউ দাঁড়িয়ে আছেন রঙিন কোনো নকশার পাশে।
স্থানীয়রা জানান, এই রাস্তাটি শ্রীমঙ্গলের পর্যটন ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পর্যটক, প্রশাসন, সাধারণ মানুষসহ সবার কাছেই এই রাস্তার গুরুত্ব অনেক। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে যেভাবে সৃজনশীলভাবে আর্ট করা হয়েছে, তা দেখে মনে হয়েছে এটি শুধু রাস্তা নয়, যেন একটি স্থায়ী শিল্পকর্ম।
ঢাকা থেকে ঘুরতে আসা শিক্ষার্থী নওশীন রুমা বলেন, দুই হলো পরিবারের সবাই শ্রীমঙ্গলে বেড়াতে এসেছি। সকালে বের হলাম চা বাগান দেখতে। হঠাৎ এই রাস্তাটি দেখে ছবি তুলতে লাগলাম। এর মধ্যেই বৃষ্টি শুরু হলো, বৃষ্টিতে ভিজেই ছবি তুলেছি।
আরেক পর্যটক নাজনীন সুলতানা বলেন, এই রাস্তাটি অসাধারণ সৌন্দর্যের প্রতীক হয়ে উঠেছে। এমন উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। আমরা চাই, এভাবে আরও কয়েকটি রাস্তাও সৌন্দর্য বর্ধনের মাধ্যমে আকর্ষণীয় করে তোলা হোক।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসলাম উদ্দিন বলেন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, চা-বাগান আর বৈচিত্র্যপূর্ণ জীববৈচিত্র্যের এক অপার সম্ভাবনাময় পর্যটন নগরী শ্রীমঙ্গল। এই পর্যটন নগরীর সুনাম দেশ ছাড়িয়ে বিদেশবিভুঁইয়েও সমানভাবে সমাদৃত। এখানকার প্রকৃতিতে মিশে আছে সৌন্দর্য ও আতিথেয়তার স্পর্শ। আমাদের চেষ্টার মূল লক্ষ্য হচ্ছে এই প্রাকৃতিক ঐশ্বর্যকে আরও শৈল্পিকভাবে উপস্থাপন করা, যেন দেশি-বিদেশি পর্যটকরা শ্রীমঙ্গলে এসে শুধু নয়নে নয়, হৃদয়ে ধারণ করেন এক মুগ্ধ অভিজ্ঞতা।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি









