গত ২৪ আগস্ট হতে ২৬ আগস্ট পর্যন্ত সাদাপাথর ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য ৩ দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছিল উপজেলা প্রশাসন। বিভিন্ন জায়গায় লুকিয়ে রাখা সাদাপাথরগুলো নিজ খরছে ফিরিয়ে দিতে হবে। অন্যতায় ৩ দিন পর যদি কারো কাছে সাদাপাথর পাওয়া যায়, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
লুট হয়ে যাওয়া কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র ভোলাগঞ্জে সাদাপাথরের সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে আবার পাথর প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে। প্রশাসন বিভিন্ন জায়গা থেকে জব্দ করা পাথর দিয়ে কৃত্রিমভাবে সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। প্রতিদিন প্রায় পাঁচ শতাধিক শ্রমিক এই কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত প্রায় ৭ লাখ ঘনফুট পাথর পুনঃস্থাপন করা হয়েছে।
প্রশাসন জানিয়েছে, আরও সাড়ে ১৮ লাখ ঘনফুট পাথর প্রতিস্থাপন করা হবে। এতে সাদাপাথরের আগের রূপ ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রশাসন দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে প্রায় ২৫ লাখ ঘনফুট পাথর জব্দ করেছে। একই সাথে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কারণে অনেক ব্যক্তি স্বেচ্ছায় পাথর ফিরিয়ে দিচ্ছেন।
উপজেলা প্রশাসনের সূত্রে জানা গেছে, যারা স্বেচ্ছায় পাথর ফেরত দিচ্ছেন, তারা বেশিরভাগ রাতেই গাড়ি পাঠান। উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা সেসব পাথর রিসিভ করে নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে আনলোড করছেন।
গত ১১ আগস্ট থেকে স্থানীয়দের আন্দোলন ও প্রতিরোধের মুখে সাদাপাথর লুটপাট বন্ধ হয়। এরপর দেশজুড়ে খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রশাসন তৎপর হয়। এই ঘটনার জেরে সিলেটের জেলা প্রশাসক এবং কোম্পানীগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে।
গত ১২ আগস্ট থেকে প্রশাসন জব্দ করা পাথর প্রতিস্থাপন শুরু করে। কলাবাড়ী, কালিবাড়ী, ভোলাগঞ্জ, পাড়ুয়া, থানা সদর, ধুপাগুলসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার করা পাথর ভোলাগঞ্জ দশম্বর ডাম্পিং স্টেশনে নিয়ে আসা হচ্ছে। সেখান থেকে নৌকাযোগে পাথরগুলো পর্যটন কেন্দ্রে এনে শ্রমিকরা প্রতিস্থাপন করছেন।
গত দুই সপ্তাহে পাথর পুনঃস্থাপনের ফলে সাদাপাথরের সৌন্দর্য অনেকটা ফিরে এসেছে এবং পর্যটকদের আনাগোনাও বাড়ছে। পর্যটন ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, আগের সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে পর্যটকের সংখ্যা অনেকটা বেড়েছে।
সিলেট জেলা প্রশাসক মোঃ সারওয়ার আলম বলেছেন , বুধবার থেকে কারো কাছে পাথর পেলে তার বিরুদ্ধে আগের ঘোষণা অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাথর লুটপাটের মূল হোতাদের গ্রেফতার করতে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সেই সাথে যারা নিরীহ নিরপরাধ লোক তারা যাতে হয়রানির শিকার না হয় সেটিও আমরা মাথায় রেখে কাজ করছি।
তিনি আরো বলেন, আমরা ২৬ লক্ষ ঘনফুট পাথর উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি। এখন পর্যন্ত ১১ লক্ষ ঘনফুট পাথর প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। তাছাড়া ৫’শ শ্রমিক, ৪’শ নৌকা ও ৩’শ ট্রাক পাথর পুনঃস্থাপনের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিন মিয়া বলেন, ‘এখন পর্যন্ত যা সাদাপাথর পুনঃস্থাপন করা হয়েছে, এতে পর্যটন কেন্দ্রের সৌন্দর্য অনেকটা ফিরে এসেছে। জব্দ করা সব পাথর প্রতিস্থাপনের পর আমরা আশা করছি, আগের সৌন্দর্য সম্পূর্ণ ফিরে আসবে।’
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি 








