হাওরাঞ্চলে প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে ৩২টি প্রথমিক বিদ্যালয়
মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ০৪:১৯ AM

হাওরাঞ্চলে প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে ৩২টি প্রথমিক বিদ্যালয়

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৮/০৮/২০২৫ ১০:৪৪:৫২ AM

হাওরাঞ্চলে প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে ৩২টি প্রথমিক বিদ্যালয়


সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষার কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষক, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ও অফিস সহকারীর অভাবের পাশাপাশি অবকাঠামোগত সমস্যায় ভুগছে অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়। দীর্ঘদিন ধরে এসব সমস্যার সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষক–অভিভাবকেরা।

উপজেলার অন্তত ১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শিক্ষক সংকটের কারণে অনেককে একসঙ্গে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। প্রতিদিন ক্লাস নেওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনিক কাজ সামলাতে গিয়ে তারা হিমশিম খাচ্ছেন।

প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, মধ্যনগরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৮৪টি। এর মধ্যে ৩২টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য এবং ৬০টি সহকারী শিক্ষকের পদও খালি রয়েছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে ৬টি পদের মধ্যে একমাত্র শিক্ষা কর্মকর্তা ছাড়া সব পদ শূন্য। এতে মাঠপর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রম ও তদারকি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

উপজেলায় বর্তমানে ১১ হাজার ৬১৯ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। এর বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন মাত্র ৩৭৮ জন। শিক্ষক সংকটের কারণে একেকজন শিক্ষককে একাধিক শ্রেণির দায়িত্ব নিতে হচ্ছে।

চাপাইতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাসুদ রানা বলেন, আমি এখন সহকারী ও প্রধান শিক্ষক দু’জনের দায়িত্ব পালন করছি। প্রতিদিন নয়টি শ্রেণির ক্লাস নিতে হয়, আবার একই সময়ে একাধিক ক্লাস সামলাতে হয়। মাত্র চারজন শিক্ষক শতাধিক শিক্ষার্থীর পড়াশোনা চালাচ্ছেন।

অবকাঠামোগত সমস্যাও মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। ২১টি বিদ্যালয়ের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। কোথাও ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে, কোথাও বৃষ্টির পানি চুঁইয়ে পড়ছে। এতে পাঠদান বিঘ্নিত হচ্ছে।

মধ্যনগর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ৩২টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। অফিসে জনবল সংকট চরমে। এমনকি বসার জন্য একটি নির্দিষ্ট কক্ষও নেই। হাওরাঞ্চল হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল। শিক্ষক নিয়োগ ও ভবন সংস্কারের জন্য আমি লিখিত আবেদন করেছি।

সুনামগঞ্জ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহন লাল দাস বলেন, ধাপে ধাপে শিক্ষক ও জনবল সংকট সমাধান করা হবে। বিষয়টি বিভাগীয় উপপরিচালক, অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর