মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে কিডনি রোগীদের জন্য চালু থাকা ডায়ালাইসিস সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সরকারি অর্থ বরাদ্দ না থাকায় বর্তমানে সীমিত পরিসরে সেবা দেওয়া হচ্ছে মাত্র ১৫ জন পুরোনো রোগীকে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, নতুন কোনো রোগীকে গত এক মাস ধরে ডায়ালাইসিসের আওতায় নেওয়া হচ্ছে না। এমনকি পুরোনো রোগীদের জন্য যে সেবা এখনও সীমিতভাবে চলছে, সেটিও আগামী সেপ্টেম্বরের পর পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে জেলার কিডনি রোগীরা পড়েছেন চরম দুর্ভোগে। বাধ্য হয়ে তারা দ্বারস্থ হচ্ছেন বেসরকারি হাসপাতালের, যেখানে প্রতি সেশন ডায়ালাইসিস করতে গুনতে হচ্ছে কয়েক হাজার টাকা।
রোগী ও স্বজনরা জানান, কিডনি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেলে নিয়মিত ডায়ালাইসিস ছাড়া বাঁচার উপায় নেই। সরকারি হাসপাতালে সাশ্রয়ী মূল্যে সেবা পাওয়ায় অনেকেই বেঁচে থাকার আশা পেয়েছিলেন। এখন তা বন্ধ হয়ে গেলে চিকিৎসা ব্যয় বহন করা তাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়বে।
জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করে সেবাটি সচল রাখার দাবি জানিয়েছেন রোগী, স্বজন ও সচেতন মহল।
কিডনি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে কিডনি রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় ২ কোটি। কিন্তু এদের মধ্যে মাত্র ২৫ শতাংশ চিকিৎসার খরচ বহন করতে পারেন। ডায়ালাইসিস প্রয়োজন এমন রোগীদের ৭০ শতাংশই অর্থাভাবে সেবা নিতে পারেন না।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালে মোট ১৭টি ডায়ালাইসিস মেশিন থাকলেও বর্তমানে সচল রয়েছে ১৫টি। প্রতিটি রোগীকে ২০ হাজার টাকার প্যাকেজে ৪৮টি সেশনের ডায়ালাইসিস সেবা দেওয়া হয়। প্রতি সেশনের গড় ব্যয় প্রায় ৪শত টাকা, যেখানে বাকিটুকু সরকারিভাবে ভর্তুকি হিসেবে প্রদান করা হয়ে থাকে। মাসে প্রায় ৩০০ সেশন পরিচালনার জন্য প্রতি বছরে প্রায় ১ কোটি টাকার প্রয়োজন।
কিডনি রোগী লোকমান আহমেদ বলেন, সরকারি হাসপাতালে আগে ডায়ালাইসিস করাতাম। মাঝে ইনফেকশনের কারণে প্রাইভেট হাসপাতালে যাই।
এখন সদর হাসপাতালে গেলে তারা জানায়, নতুন রোগীদের আর নিচ্ছে না। সপ্তাহে দুবার ডায়ালাইসিস করাতে হয়। আর প্রতি সেশনে খরচ পড়ে তিন হাজার ৫শ টাকা। এত টাকা নিয়মিত খরচ করা অসম্ভব।
মৌলভীবাজার জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক (উপপরিচালক) ডা. প্রণয় কান্তি দাশ বলেন, আগে থেকে ডায়ালাইসিস নিচ্ছেন এমন রোগীদের আমরা আরও এক-দেড় মাস সেবা দিতে পারব। তবে নতুন রোগী নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ১ কোটি টাকার বরাদ্দ চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। আশা করছি, সেবা পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার আগেই বরাদ্দ পাওয়া যাবে।
জেলা প্রশাসক মো. ইসরাইল হোসেন বলেন, ডায়ালাইসিস সেবা চালু রাখার জন্য আমার পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে স্বাস্থ্য সচিব বরাবর ১ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে সেবা অন্তত আরও এক বছর চালানো সম্ভব হবে।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি 








