কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সাদাপাথর থেকে লুট হওয়ার আরো ৫০ হাজার ঘনফুট পাথর জব্দ করেছে সিলেট সদর উপজেলা প্রশাসন।
শনিবার উপজেলার ধোপাগুল এলাকার ক্রাশার মিলে অভিযান চালিয়ে এসব পাথর জব্দ করা হয়।
জানা গেছে, শনিবার ধোপাগুল এলাকায় অভিযানে নামে উপজেলা প্রশাসন। ম্যাজিস্ট্রেট মেহদী হাসান হৃদয়ের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়।
এতে সহযোগিতা করেন র্যাব-৯ এর সদস্যরা। অভিযানে একটি ক্রাশার মিল থেকে প্রায় ৫০ হাজার ঘনফুট পাথর জব্দ করা হয়।
সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোশনূর রুবাইয়াৎ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলেন, ‘উপজেলা প্রশাসনের অভিযানে একটি ক্রাশার মিল থেকে ৫০ হাজার ঘনফুট পাথর জব্দ করা হয়েছে।
এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
গত বৃহস্পতিবার ধোপাগুলের পাঁচটি পুকুরে অভিযানের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পুকুর থেকে পাথর উদ্ধার এখনো শেষ হয়নি। মাঝখানে বৃষ্টির জন্য অভিযান পরিচালনা করা যায়নি। এটা শেষ হলে জানা যাবে কতটুকু পাথর লুকানো আছে।
প্রশাসনের শিথিলতার সুযোগে শুরু হয় বেপরোয়া পাথর লুট। প্রকাশ্যে প্রশাসনের সামনেই গত এক বছর ধরে লুটে নেওয়া হয়েছে পর্যটনকেন্দ্র সাদাপাথরের সব পাথর। মাঝেমধ্যে প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর তৎপরতায় কিছুদিন বন্ধ থাকে লুটপাট। তবে জুলাই মাসের শেষভাগে লুটপাট চূড়ান্ত মাত্রা পায়। এরপর মাত্র ১৮ দিনে নিঃশেষ হয়ে যায় সাদাপাথর।
হারিয়ে যায় অন্তত দুইশ কোটি টাকার পাথর। গত ১০ আগস্ট কালের কণ্ঠে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হলে দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য দেখা দেয়। এরপর থেকে দেশের গণমাধ্যমগুলোর সংবাদ ও ফেসবুকে সারা দেশের নেটিজেনরা সোচ্চার হলে প্রশাসনের টনক নড়ে। এরপর শুরু হয় পাথর উদ্ধারে অভিযান। পাথর উদ্ধার করে সাদাপাথরে পুনঃস্থাপনের কাজ শুরু করে প্রশাসন।
এ ঘটনায় সিলেটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদকে ওএসডি এবং কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজিজুন্নাহারকে বদলি করা হয়েছে।
আজকের সিলেট/এপি









