ব্ল্যাক বেবি জাতের তরমুজ চাষে বাবা-ছেলের বাজিমাত
সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ০৪:০৪ PM

ব্ল্যাক বেবি জাতের তরমুজ চাষে বাবা-ছেলের বাজিমাত

বাহুবল (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৩১/০৮/২০২৫ ০১:০৬:১৪ PM

ব্ল্যাক বেবি জাতের তরমুজ চাষে বাবা-ছেলের বাজিমাত


হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার পশ্চিম জয়পুর গ্রাম। এ গ্রামের কৃষক মো. সিরাজ গাজী ও মো. তৌহিদ গাজী। তারা সম্পর্কে বাবা ও ছেলে। বাড়ির পাশে তারা প্রায় ৩০ শতক জমি লিজ নিয়ে আবাদ করেন। মে মাসের শেষ দিকে আবাদ করা জমিতে ইউনাইটেড কোম্পানির ব্ল্যাক বেবি জাতের তরমুজ চারা রোপণের জন্য কিছুদূর পরপর প্রস্তুত করা হয় বেড। ওই বেডে পলিথিন দিয়ে ঢেকে দেওয়ার পর চারা রোপণের স্থানে ফুটো করে তা রোপণ করা হয়। চারা কিছুটা বড় হলে বাঁশ, সুতা দিয়ে তৈরি করা হয় মাচা। বাঁশের খুঁটি দিয়ে মাচায় চারা তুলে দেওয়ার কাজ করা হয়।

বর্তমানে মাচায় মাচায় কালো রঙের তরমুজ ঝুলছে। তরমুজের ফলন এতটাই ভালো হয়েছে যে, দেখলে মন জুড়িয়ে যায়। আর খেতেও রসালো ও সুস্বাদু। এই তরমুজ বিক্রি করে ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা লাভের সম্ভাবনা রয়েছে। এখানে চাষাবাদে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৯ হাজার টাকা।

কৃষক মো. তৌহিদ গাজী জানান, তার বাবা মো. সিরাজ গাজীকে সঙ্গে নিয়ে তরমুজের চাষ করেছেন। একই জমিতে প্রথমবার চাষে সফলতা পেয়ে দ্বিতীয়বার তরমুজ চাষ করা হয়। দারুণ ফলন হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সিলেট অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় মাচায় গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষে পরামর্শ দিয়েছেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শামীমুল হক শামীম। ক্ষেতে প্রায় ৫০০ গাছে ৭০০ তরমুজ রয়েছে। আর কয়েক দিনের মধ্যে বিক্রির উপযোগী হবে এসব তরমুজ। তাই বর্তমানে গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান বাজারে তরমুজের প্রতি কেজির দাম প্রায় ৭০ থেকে একশ টাকা। সে হিসেবে প্রায় ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি  করা সম্ভব। সার্বিকভাবে পরামর্শ প্রদান করায় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শামীমুল হক শামীমের প্রতি কৃতজ্ঞ।

পশ্চিম জয়পুর গ্রামের ক্ষেতে গিয়ে দেখা যায়, সবুজ কচি লতাপাতার মাঝে ঝুলছে কালো রঙের তরমুজ। ছোট-বড় তরমুজে নুয়ে পড়েছে মাচা। মালচিং পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ করা হয়েছে। পোকা দমনে ব্যবহার হয়েছে হলুদ ও ফেরোমন ফাঁদ। এ তরমুজ চাষ দেখতে ভিড় করছেন এলাকাবাসী।

কৃষক মো. সিরাজ গাজী বলেন, এ মৌসুমের প্রথমে হলুদ, কালো ও সবুজ রঙের তরমুজ চাষ করে সফলতা পেয়েছিলাম। তাই আমার ছেলে আমাকে সঙ্গে নিয়ে দ্বিতীয়বার তরমুজ চাষ করেছে। এভাবে তরমুজ চাষ অব্যাহত রাখতে চাই। তরমুজ চাষে বিভিন্নভাবে সহায়তা করেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শামীমুল হক শামীম। এজন্য তার প্রতি কৃতজ্ঞ।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শামীমুল হক শামীম বলেন, এ অঞ্চলের মাটি তরমুজ চাষের জন্য উপযোগী। আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সিলেট অঞ্চলে কৃষি উন্নয়ণ প্রকল্পের আওতায় মোটিভেশনের মাধ্যমে গ্রীষ্মকালীন মাচায় তরমুজ চাষ করেন ছেলে কৃষক মো. তৌহিত গাজী ও বাবা মো. সিরাজ গাজী। তারা তরমুজ আবাদ করে সফল। তাদেরকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা করেছি। তরমুজের ফলন দেখে এলাকার অন্য কৃষকরাও এ জাতের তরমুজ চাষে আগ্রহী হয়েছেন। তারাও আমার কাছে পরামর্শ চাইছেন। আমি পরামর্শ দিয়েছি। এক কথায় কালো রঙের তরমুজ চাষে বাজিমাত।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা চিন্ময় কর অপু বলেন, বাহুবলে তরমুজ চাষ আগে হতো না। আমরা কৃষকদের উৎসাহ দিয়েছি। এতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে তরমুজ চাষ শুরু হয়েছে। এর মধ্যে উপজেলার পশ্চিম জয়পুর গ্রামে কালো রঙের তরমুজ চাষ করেন মো. তৌহিদ গাজী। তার জমিতে কালো তরমুজের ফলন ভালো হয়েছে। প্রমাণ হলো কালো রঙের তরমুজ চাষে বাহুবলের মাটি অত্যন্ত উপযোগী। এ জাতের তরমুজ রসালো ও সুস্বাদু।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর