অযত্ন-অবহেলায় চলছে পিটিআই
সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ০৬:০০ PM

অযত্ন-অবহেলায় চলছে পিটিআই

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৩/০৯/২০২৫ ১১:০১:১৮ AM

অযত্ন-অবহেলায় চলছে পিটিআই


মাদককারবারি, অযত্ন-অবহেলা ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে হবিগঞ্জের প্রাইমারি ট্রেনিং ইন্সটিটিউট (পিটিআই)। সেখানকার শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা বর্তমানে আতঙ্কে রয়েছেন।

জেলা শহরের একসময়ের পরিচ্ছন্ন ও সাজানো এই ক্যাম্পাসটি এখন বিকেল হলেই অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়। ছয়টি ভবনের মধ্যে দুটি ভবনে ৯০ জন আবাসিক প্রশিক্ষণার্থী থাকেন, বাকিগুলো অফিস ও শ্রেণিকক্ষ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

পিটিআই কমপ্লেক্সের চার বিঘা পুকুরটি পুরোপুরি কচুরিপানায় ভরাট, পানি ঘন ও কালো। নির্মাণাধীন ভবনের পাশে নির্মাণ সামগ্রী ফেলে রাখা হয়েছে। আবাসিক ভবনের চারপাশে জলাবদ্ধতা ও জমে থাকা ঝোপঝাড়ের কারণে মূল্যবান আসবাবপত্র পানিতে ভিজে নষ্ট হয়েছে। কমপ্লেক্সের ভেতরে পৌরসভার ড্রেন ময়লা ও কীটপতঙ্গের ঘন স্তর সৃষ্টি করেছে।

সীমানা প্রাচীরের একটি ১২ ফুট অংশ ভেঙে দিয়ে অস্থায়ী রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। এখানে মাদক আনা-নেওয়া ও ইয়াবা ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পিটিআইয়ের ইনস্ট্রাক্টর মিজবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, সন্ধ্যার পর উঠতি বয়সী ছেলেরা ইয়াবা কেনার জন্য ভেতরে ঢুকে পড়ে। নারী প্রশিক্ষণার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। পৌরসভার অপরিকল্পিত ড্রেনের কারণে কমপাউন্ডে পানি জমে এবং নেশাখোরদের বাইরে যেতে বললে তারা দারোয়ানদের মারধর করে।

পিটিআই সুপারিন্টেনডেন্ট আইরিন পারভিন বলেন, পৌরসভার উন্নয়ন কাজের কারণে আমাদের প্রধান গেটটি সরিয়ে ফেলায় ছোট একটি গেট বসাতে হয়েছে। এতে অনধিকার প্রবেশ ঠেকানো যাচ্ছে না। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা করার মতো জনবলও নেই। সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জন্য বহু চেষ্টা করেও সফল হতে পারিনি। তবে পুকুর ও ঝোপঝাড় পরিচ্ছন্ন করার জন্য বিডি ক্লিনের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

পিটিআই কমপ্লেক্সের পাশে বসবাসরত আজিজুল হাসান চৌধুরী শাহীন নামে একজন অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বলেন, কয়েক বছর আগেও পিটিআইয়ের ভেতরে প্রবেশ তো দূরের কথা; এর সামনে দাঁড়াতেও দেওয়া হতো না। পুকুরে কচুরিপানা ছিল না, স্বচ্ছ স্ফটিকের মতো পানি ছিল। ভবনের চারপাশে এরকম ঝোঁপঝাড় ছিল না, চারদিকে ফুলগাছ ও সৌন্দর্যবর্ধক বৃক্ষ ছিল। সন্ধ্যায় আলো জ্বলতো, প্রশিক্ষণে সংস্কৃতিচর্চার আয়োজন হতো, যা আশপাশে ছড়িয়ে পড়তো। এখন বিকেলের পরই পিটিআই অন্ধকারে ডুবে যায়। এ প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি দরকার।

স্থানীয় ইউটিউব ও ফেসবুক কনটেন্ট ক্রিয়েটর ইমাদ আহমেদ বলেন, আমি এখানে এসে ভিডিও তৈরি করে ৮ লাখ ফলোয়ার অর্জন করেছি। সেই দৃশ্যগুলো এখন আর নেই। পিটিআইয়ের সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে গেছে। এখন আর এই জায়গায় ভিডিও বানাতে আসি না। পুকুরের পানিতে হাত দিলেই চর্মরোগ হয়। অথচ কয়েক বছর আগে একদিন আমি এখানকার পানিতে নেমে দৃশ্যধারণ করেছিলাম।

তিনি ও আরও দুই কনটেন্ট ক্রিয়েটর আশা করেন, পুকুরটি আগের রূপে ফিরবে এবং পিটিআই পুনরায় তার সৌন্দর্য ফিরে পাবে।  

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর