জগন্নাথপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আয়া দিয়ে চলে নার্সের কাজ
রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ১২:৪৯ PM

জগন্নাথপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আয়া দিয়ে চলে নার্সের কাজ

জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৪/০৯/২০২৫ ০৮:৪৯:৩৮ PM

জগন্নাথপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আয়া দিয়ে চলে নার্সের কাজ


সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১৪ জন নার্স থাকা সত্ত্বেও আয়া ও ঝাড়ুদার দিয়ে চলছে শিশু, কিশোর ও বয়স্কদের চিকিৎসাসেবার কার্যক্রম। এতে যথাযথ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগীরা।

সরেজমিনে মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, এক শিশু ও নারী রোগীকে চিকিৎসা দিচ্ছেন হাসপাতালটির আয়া। যদিও আয়াদের দাবি, রোগীর স্বজনরা তাদেরকে ডেকে নেন বলেই তারা রোগীদের ক্যানোলা, ইনজেকশন ও স্যালাইন দেন।

অভিযোগ আছে, কর্তব্যরত নার্সদের দায়িত্বে অবহেলার কারণেই রোগীরা বাধ্য হয়ে আয়া ও ঝাড়ুদারদের মাধ্যমে সেবা নিচ্ছেন। তবে নার্সদের দাবি, রোগীর তুলনায় নার্স কম থাকার কারণে রোগীর স্বজনরা না ঝুঝে আয়াদের শরনাপন্ন হয়ে থাকেন। আয়ারা গোপনে অনৈতিকভাবে এসব অপকর্ম করছেন। কর্মতর্কাদের বিষয়টি জানালেও কোনো প্রতিকার মেলেনি।

জানা যায়, জগন্নাথপুর উপজেলার ১ লক্ষ ৫০ হাজার মানুষের জন্য সরকারি চিকিৎসাসেবার একমাত্র জায়গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ৫০ শয্যা বিশিষ্ট এই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরকারিভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত ১৪ জন নার্স রয়েছেন। কিন্তু নার্সরা নিজেদের দায়িত্বে অবহেলা করার কারণে বিপাকে পড়েন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা সেবাপ্রত্যাশীরা। এ ছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, অনৈতিক সুবিধা না পেয়ে সেবা দিচ্ছেন না দায়িত্বপ্রাপ্ত নার্সরা।

তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, উপজেলার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতেই ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে। তবে হয়নি জনবল ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন। এতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে উপজেলার ১ লক্ষ ৫০ হাজার মানুষের চিকৎসাসেবা। আর এ সুযোগে হাসপাতালে কর্মরত আয়া ও আউট সোর্সিংয়ে কর্মরত কর্মীরা অপকর্ম করে থাকেন।

চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর স্বজন ৭নং সৈয়দপুর শাহাড়পাড়া ইউনিয়নের কুঁড়িকার গ্রামের মজিদ মিয়ার অভিযোগ, হাসপাতালে কর্মরত নার্সরা নিজেদের কাজে ব্যস্ত থাকেন। হাসপাতালে সেবা নিতে এলে তাদেরকে খুঁজে পাওয়া যায় না। এ ছাড়া ২শ থেকে ৩শ টাকা না দিলে রোগীরা সেবা পান না। এই সুযোগে আয়া ও ঝাড়ুদাররা গ্রাম থেকে আসা সহজ-সরল মানুষকে ভুল বুঝিয়ে নিজেকে নার্স পরিচয় দিয়ে ১০০ টাকা নিয়ে একটি স্যালাইন ও ইনজেকশন পুশ করে দেন। গ্রামের মানুষ অল্প টাকায় সেবা পেতে আয়াদের কাছ থেকেই সেবা নিয়ে থাকেন।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা আসমা বেগম জানান, সোমবার দুপুরে তিনি তার ১ দিন বয়সী শিশুকে ঠাণ্ডাজনিত কারণে হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ সময় নার্সদের কাছে গেলে সঞ্চিতা নামের এক আয়া নিজেকে নার্স পরিচয় দিয়ে শিশুর দেহে ইনজেকশন পুশ করেন। ওই আয়া ইনজেকশন পুশ করে ২০০ টাকা চাইলে তাকে ১০০ টাকা দেয়া হয়। পরবর্তীতে আসমা জানতে পারেন নার্স পরিচয় দেয়া সঞ্চিতা আসলে হাসপাতালের আয়া।

পৌর এলাকার বাসিন্দা সোলেমান জানান, তিনি ডায়রিয়া সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। কিন্ত স্যালাইন নেয়ার জন্য কোনো নার্সকে খুঁজে পাননি। পরে তিনি দেখতে পান নিবা নামের একজন আয়া অন্য এক রোগীর দেহে স্যালাইন পুশ করছেন। তিনি নার্সদের দেখা না পেয়ে বাধ্য হয়ে আয়াকে দিয়েই স্যালাইন পুশ করিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নিবা নামের ওই আয়া বলেন, আমি আয়া হলেও ক্যানোলা ও স্যালাইন পুশ করতে পারি। তাই রোগী ও তাদের স্বজনরা অনেক সময় ক্যানোলা ও স্যালাইন পুশ করতে আমাদেরকে ডাকেন। তাই আমরা সেটা করে থাকি। এতে মানুষের উপকার হয়। 

আউট সোর্সিংয়ে কর্মরত ঝাড়ুদার রুমান ও মোবারক বলেন, নার্সরা কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে রোগীরা আমাদেরকে স্যালাইন ও ইনজেকশন দিতে ডেকে নেন। তাই এটা করি। নার্সদের কাছ থেকে আমরা এই কাজ শিখে নিয়েছি। 

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দ্বায়িত্বরত নার্স মিনতি জানান, নার্সরা সঙ্গে থাকলে আয়ারাও কাজ করতে পারেন। এ ছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল সংকট আছে, তাই অনেক সময় আয়ারা কাজ করে থাকেন।

টাকা নেয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেকে সেবা পেয়ে খুশি হয়ে নার্সদের টাকা দিয়ে থাকেন। টাকা দিয়ে পরে যদি কেউ আবার অভিযোগ তোলেন, তাহলে তো কিছু করার নেই।

এ বিষয়ে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কৃপেশ রঞ্জন রায় বলেন, আয়ারা এসব কাজ করতে পারেন না। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর