গোয়ালাবাজার-ইলাশপুর সড়কের পাশে ওসমাননীগর উপজেলা হাসপাতালের সামনে বর্জ্য-ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। ইতিমধ্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে অভিযান পরিচালনা করেছে গোয়ালাবাজার ইউনিয়ন পরিষদ।
জানা যায়, ওসমানীনগর উপজেলাধীন গোয়ালাবাজার-ইলাশপুর সড়কের পাশে এবং উপজেলা হাসপাতালের সামনে দীর্ঘদিন ধরে বাজারের আবর্জনা ও মাংস ব্যবসায়িরা গরুর উচিষ্ট -বর্জ্য ফেলে রাখে। এতে পথচারীদের চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটে। পথচারীরা নাকচাপে এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে হতে বাধ্য হচ্ছেন। দুর্গন্ধের কারণে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করা যায় না। শিশুরা সকালে নাক চেপে স্কুলে যায়। গরুর গোস্তের দোকানীরা গুরুর হাড়-গোবর উচ্চিষ্ট ফেলার কারণে রাতে শিয়াল-কুকুর হাড় চামড়া ভর সড়কের উপর এনে ফেলে দেয়। এতে গাড়ি চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। প্রায় সময় দুর্ঘটনারও শিকার হয়। কখনো শিয়াল-কুকুর পথচারীর উপর আক্রমণ করে বসে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন থেকে ময়লা ফেলার কারণে পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, খোলা জায়গায় ময়লা ফেলে রাখলে এটি বিভিন্ন সংক্রামক রোগ ছড়ানোর ঝুঁকি তৈরি করে। বিশেষত শিশু ও বৃদ্ধরা বেশি ঝুঁকিতে থাকে। এছাড়া ময়লার স্তুপে মশা-মাছি জন্মায়, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায়।
এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ পেলে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ হয়। বিষয়টি সামাধানের জন্য প্রায় সপ্তাহখানেক পূর্বে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোয়লাবাজার ইউনিয়ন পরিষদকে নির্দেশ দেন।
গোয়ালাবাজার ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে মাংসের দোকানীদের নির্দেশ দিলেও তারা গুরুত্ব না দিয়ে যথারিতী ময়লা ফেলে যাচ্ছে। বিষয়টি আবারও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ হলে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনাস্থলে গোয়ালাবাজার ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসকের নেতৃত্বে একদল গ্রাম পুলিশ পরিদর্শন করে হাতে নাতে এদের আটক করেন। এসময় বর্জ্য ফেলার একটি ভ্যানও আটক করা হয়। পরে মাংসের দোকানদারদের ডেকে এনে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে দেয়া। আর যদি বর্জ্য-ময়লা ফেলা হয় তবে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে গোয়ালাবাজার ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মারুতি নন্দন দাম বলেন, মাংস ব্যবসায়িদের সর্তক করে দেয়ার পর তারা ময়লা বর্জ্য ফেলে যাচ্ছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে এর সত্যতা পাওয়া যায়। এসময় একটি ভ্যানও আটক করা হয়। মাংস ব্যবসায়িদের আবারও কঠোরভাবে সর্তক করে দেয়া হয়েছে।
ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন বলেন, রাস্তার পাশে বর্জ্য ও ময়লার ফেলার সংবাদ পেয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে গোয়লাবাজার ইউনিয়ন পরিষদকে নির্দেশ দেয়া হয়। যদি আবার ময়লা ফেলা হয় তবে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
সংবাদদাতা 








