একনেকে অনুমোদনের পরও বাতিল সুনামগঞ্জের দুই টিটিসি প্রকল্প
বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ০৩:০৭ AM

একনেকে অনুমোদনের পরও বাতিল সুনামগঞ্জের দুই টিটিসি প্রকল্প

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৫/১১/২০২৫ ১১:০৬:৩৩ AM

একনেকে অনুমোদনের পরও বাতিল সুনামগঞ্জের দুই টিটিসি প্রকল্প


২০২৩ সালের ২৯ আগস্ট জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পাওয়া দেশের ৫০টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর ও শান্তিগঞ্জ দুই উপজেলা ছিল চূড়ান্ত তালিকায়। ৩ হাজার ৭৫১ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০২৮ সালের মধ্যে কেন্দ্রগুলো নির্মাণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও এই দুই উপজেলায় আর কেন্দ্র নির্মিত হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, এই সিদ্ধান্তে দুই উপজেলার লাখো তরুণ–তরুণীর দক্ষতা উন্নয়ন ও বিদেশে কর্মসংস্থানে বড় ধাক্কা লাগবে। কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে অবহেলিত এসব এলাকায় দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির যে সুযোগ তৈরি হয়েছিল-সেটি স্থগিত হওয়ায় হতাশা বাড়ছে।

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) সম্প্রতি জানায়, তাহিরপুরে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ হবে না। কেন্দ্রটি জগন্নাথপুর উপজেলায় স্থাপন করার জন্য গণপূর্ত বিভাগকে ইতোমধ্যে অবকাঠামো নির্মাণের নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।

বিএমইটি–এর একাধিক সূত্র বলছে, ‘প্রশিক্ষণার্থী পাওয়া কঠিন হবে’ এ ধরনের যুক্তি দেখিয়ে পাহাড় ও নদীঘেরা প্রত্যন্ত তাহিরপুর থেকে কেন্দ্রটি সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট বাজারের সমাজসেবক আবুল হোসেন এ সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একনেকে পাশ হওয়া প্রকল্প হঠাৎ করে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হবে এটা অবহেলিত এলাকাবাসীর সঙ্গে বৈষম্যের শামিল। নতুন কেন্দ্র বানাতে চাইলে বানাক, কিন্তু আমাদেরটা কেন কাটা হলো?”

তাহিরপুর উপজেলা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুনাব আলী বলেন, বেকার যুবক–যুবতী প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশ–বিদেশে কাজ করবে—এমন স্বপ্ন আমরা দেখতে শুরু করেছিলাম। এখন জানানো হচ্ছে, কেন্দ্রটি জগন্নাথপুরে যাচ্ছে। এটি অন্যায়।”

অন্যদিকে একনেকের অনুমোদনের পর শান্তিগঞ্জে সুনামগঞ্জ–সিলেট সড়কের পাশে জমি প্রস্তুত করা হয়। ভূমি অধিগ্রহণের কাজও শুরু হয়েছিল। কিন্তু চূড়ান্ত প্রশাসনিক অনুমোদন আর দেওয়া হয়নি। ফলে কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগটি এখন কার্যত স্থগিত।

শান্তিগঞ্জের বাসিন্দা ও জেলা বিএনপির সদস্য আনসার উদ্দিন বলেন, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র মানে বেকারদের ভবিষ্যৎ। শান্তিগঞ্জের কেন্দ্রটি কেন হবে না—তার সুষ্ঠু ব্যাখ্যা চাই। প্রয়োজন হলে আন্দোলন করব।

প্রকল্প পরিচালক মো. আক্তারুজ্জামান বলেন, কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাহিরপুর উপজেলায় কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ হবে না। এটি বাস্তবায়িত হবে জগন্নাথপুর উপজেলায়। আর শান্তিগঞ্জ উপজেলা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণের বিষয়েও কোনও সিদ্ধান্ত নেই। আদৌ এখানে হবে কি না আমি স্পষ্ট বলতে পারবো না।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর