ইসলামে নামাজ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। নামাজের মধ্যে সেজদা বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ, কারণ এই অবস্থায় বান্দা আল্লাহর সবচেয়ে নিকটবর্তী হয়। নবী কারিম (স.) বলেছেন, ‘বান্দা আল্লাহর অধিক নিকটবর্তী হয়, যখন সেজদারত থাকে। অতএব তোমরা তখন অধিক দোয়া করতে থাকো।’ (মুসলিম: ৪৮২)
তবে নামাজের ধরন অনুযায়ী দোয়ার বিধান আলাদা।
সুন্নত নামাজে দোয়া
১. সুন্নতে মুয়াক্কাদা যা ওয়াজির কাছাকাছি, যেমন ফজরের পূর্বে দুই রাকাত, জোহরের পূর্বে চার রাকাত। এগুলোতে নির্ধারিত তাসবিহ ও দোয়া ছাড়া অন্য দোয়া না করাই নিয়ম। (আদদুররুল মুখতার: ২/২৩৩-২৩৪)
২. সুন্নতে জায়েদা যা ছেড়ে দিলে গুনাহ হয় না, যেমন আছরের পূর্বে চার রাকাত। এই নামাজের সেজদায় কোরআন-হাদিসে বর্ণিত দোয়া বা সমার্থক আরবি দোয়া করা যাবে। (ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া: ২/৩, বাহরুর রায়েক: ১/৫৭৬; হালাবি কাবির: ৩৩৫)
ফরজ/ওয়াজিব নামাজে দোয়া
ফরজ বা ওয়াজিব নামাজের সেজদায় কেবল নির্ধারিত তাসবিহ ও দোয়া পাঠ করা যাবে। অন্য ভাষায় বা ব্যক্তিগত প্রার্থনা করা যাবে না। কারণ ফরজ নামাজে নবীজি (স.) নির্দিষ্ট তাসবিহ ছাড়া অতিরিক্ত দোয়া করতেন বলে কোনো প্রমাণ নেই।
নফল নামাজে যেসব দোয়া পড়তে পারেন
اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ذَنْبِي كُلَّهُ دِقَّهُ وَجِلَّهُ وَأَوَّلَهُ وَآخِرَهُ وَعَلاَنِيَتَهُ وَسِرَّهُ ‘আল্লাহুম্মাগফিরলি জামবি কুল্লাহু দিক্কাহু ওয়াজিল্লাহু; ওয়া আউয়ালাহু ওয়া আখিরাহু; ওয়া আলানিয়্যাতাহু ওয়া সিররাহু।’ অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি আমার ছোট-বড়, পূর্বের-পরের এবং প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সকল গুনাহ মাফ করে দিন। (মুসলিম: ৪৮৩)
سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَبِحَمدِكَ، اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ‘সুবহানাকা আল্লাহুম্মা রাব্বানা ওয়া বিহামদিকা আল্লাহুম্মাগফিরলি।’ অর্থ: ‘হে আল্লাহ! হে আমাদের প্রতিপালক! আমি আপনার প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করছি। হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করে দিন।’ (বুখারি: ৭৬১; মুসলিম: ৪৮৪)
سُبُّوح قُدُّوس رب الملائكة والروح ‘সুব্বুহুন কুদ্দুসুন রাব্বুল মালাইকাতি ওয়ার রুহ।’ অর্থ: সকল ফেরেশতা এবং জিব্রাইলের প্রতিপালক অতিপবিত্র। (মুসলিম: ৪৮৭; আবু দাউদ: ৮৭৩)
سُبْحَانَ ذِي الْجَبَرُوتِ، وَالْمَلَكُوتِ، وَالْكِبْرِيَاءِ، وَالْعَظَمَةِ ‘সুবহানা যিল জাবারূতি, ওয়াল মালাকুতি, ওয়াল কিবরিয়া-ই ওয়াল আযামাতি)’ অর্থ: ‘পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করছি সেই সত্তার, যিনি প্রবল প্রতাপ, বিশাল সাম্রাজ্য, বিরাট গৌরব-গরিমা এবং অতুলনীয় মহত্ত্বের অধিকারী। (আবু দাউদ: ১/২৩০, ৮৭৩; নাসায়ি: ১১৩১)
নামাজে শুধু আরবি ভাষায় দোয়া করা জায়েজ। অন্যান্য ভাষায়, যেমন বাংলা, ইংরেজি, উর্দু ইত্যাদিতে নামাজের ভেতরে দোয়া করা অনুমোদিত নয়। কোরআন হাদিসে বর্ণিত দোয়ার সমার্থক শব্দের মাধ্যমেও তাহাজ্জুদসহ সকল নফল নামাজের সেজদায় আরবি দোয়া করা যাবে। (হালাবি কাবির: ৩৩৫)
দুনিয়াবি দোয়া নামাজে নয়
নবীজি (স.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই এ নামাজে মানুষের কথাবার্তার মতো কথা বলা উচিত নয়। এটি তাসবিহ, তাকবির ও কোরআন তেলাওয়াতের স্থান।’ (সহিহ মুসলিম: ৫৩৭) তাই নামাজের মধ্যে দুনিয়াবি চাহিদার দোয়া না করে আখেরাত ও ক্ষমা সম্পর্কিত দোয়া করতে হবে। দুনিয়াবি দোয়া যেমন হে আল্লাহ আমাকে কাপড় দাও, বিবাহ দাও, এক লক্ষ টাকা দাও—এভাবে দোয়া করলে নামাজ ভেঙে যাবে। (কিতাবুন নাওয়াজেল: ৪/১০৫)
আল্লাহ তাআলা আমাদের নফল নামাজে বেশি বেশি সেজদায় দোয়া করার তাওফিক দিন এবং সুন্নাহ অনুযায়ী জীবন পরিচালনার তাওফিক দিন। আমিন।
আজকের সিলেট/এপি
ধর্ম ও জীবন ডেস্ক 












