শুভ নববর্ষ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৪৭ AM

বিশেষ সম্পাদকীয়

শুভ নববর্ষ ১৪৩৩

সম্পাদকীয়

প্রকাশিত: ১৪/০৪/২০২৬ ১২:০৩:১৭ AM

শুভ নববর্ষ ১৪৩৩


পুরোনো জরা, গ্লানি ও ব্যর্থতার ভার ঝেড়ে ফেলে নতুন সম্ভাবনা আর প্রত্যাশাকে বরণ করে নেওয়ার দিন আজ-পহেলা বৈশাখ। বাংলা নববর্ষের এই প্রথম দিনটি বাঙালির প্রাণের উৎসব, যা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের অংশগ্রহণে হয়ে ওঠে এক অনন্য মিলনমেলা। সিলেটসহ সারা দেশে আজ নানা আয়োজনে উদযাপিত হচ্ছে নববর্ষ; যার মূল সুর-ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সাম্যের বার্তা।

ভোরের আলো ফুটতেই নগরীর বিভিন্ন প্রান্তে শুরু হয় বর্ষবরণের আয়োজন। গান, আবৃত্তি, শোভাযাত্রা-সব মিলিয়ে এ যেন বাঙালির আত্মপরিচয়ের উৎসব। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই আয়োজনের পরিধি যেমন বেড়েছে, তেমনি যুক্ত হয়েছে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষকতাও। তবে এর মধ্যেও আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে-উৎসবের মূল চেতনাকে যেন কোনোভাবেই আড়াল না করে দেয় বাণিজ্যিকতা।

পহেলা বৈশাখের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর সর্বজনীনতা। এটি এমন এক উৎসব, যেখানে মানুষ নিজেদের ভেদাভেদ ভুলে এক কাতারে দাঁড়ায়। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, এই উৎসব ক্রমেই শহরকেন্দ্রিক হয়ে উঠছে। অথচ বাংলাদেশের প্রাণগ্রামেই বাংলা সংস্কৃতির শিকড় সবচেয়ে গভীরে প্রোথিত। কৃষক সমাজ, যারা বাংলা পঞ্জিকা মেনে জীবন-জীবিকা পরিচালনা করেন, তারাই এই সংস্কৃতির প্রকৃত ধারক। তাই নববর্ষের আনন্দকে গ্রাম থেকে শহর-সবখানে সমানভাবে ছড়িয়ে দিতে হলে গ্রামীণ জীবনমান উন্নয়নে আরও মনোযোগী হওয়া জরুরি।

নববর্ষ মানেই হালখাতা-ব্যবসায়ীদের পুরোনো হিসাব চুকিয়ে নতুন করে পথচলা শুরু করার প্রতীকী উদ্যোগ। একইসঙ্গে বৈশাখী মেলাগুলো গ্রামীণ অর্থনীতিতে প্রাণসঞ্চার করে। হস্তশিল্প, লোকজ পণ্য ও ক্ষুদ্র ব্যবসার প্রসারে এ মেলাগুলোর ভূমিকা অনস্বীকার্য। শহরাঞ্চলেও ফ্যাশন ও বুটিক শিল্পের বিকাশ নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করছে, যা অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

বাংলা নববর্ষের সময়েই উদযাপিত হয় পার্বত্য অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বৈসাবি, বিজুসহ নানা উৎসব। এই সময়টি তাই কেবল বাঙালির নয়, বরং বহুসাংস্কৃতিক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল উদাহরণ। আমরা যদি নিজেদের উৎসব উদযাপনের পাশাপাশি অন্য সম্প্রদায়ের সংস্কৃতির প্রতিও সম্মান প্রদর্শন করি, তাহলে তা সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এবারের নববর্ষ উদযাপনে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বিপুল মানুষের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হোক-এটাই সবার প্রত্যাশা।

পহেলা বৈশাখ আমাদের জন্য শুধু উৎসবের দিন নয়, এটি আত্মসমালোচনা ও নতুন অঙ্গীকারেরও সময়। আসুন, নতুন বছরে আমরা শপথ নিই-নিজস্ব সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করব, সাম্যের চেতনা ধারণ করব এবং একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে একযোগে কাজ করব।

নতুন বছর সবার জীবনে বয়ে আনুক সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধির বার্তা।

শুভ নববর্ষ ১৪৩৩।

আজকের সিলেট/এপি

সিলেটজুড়ে


মহানগর