পর্যটন সমৃদ্ধ জেলা মৌলভীবাজারে শুরু হয়ে গেছে শীতের দাপট। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় পুরো জেলায় প্রতিদিনই বাড়ছে শীতের তীব্রতা।
শনিবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা শ্রীমঙ্গলে রেকর্ড করা হয় ১১ দশমিক শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াসে।
চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকেন্দ্র জানায়, সকাল ৬টায় শ্রীমঙ্গলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি মৌসুমে শ্রীমঙ্গল উপজেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রাও এটি। তবে আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে রংপুর বিভাগের তেঁতুলিয়ায় ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
সকালে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কুয়াশার চাদরে ঢেকে আছে চারপাশ। প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া মানুষের চলাচল কম। কেউ গরম কাপড় জড়িয়ে কাজে বের হলেও অনেকে শীতের তীব্রতার কারণে ঘরেই থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। সূর্য ওঠার পরও রৌদ্রের তাপ তেমন পাওয়া যাচ্ছে না।
এদিকে তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন এ অঞ্চলের খেটে–খাওয়া, দিনমজুর, নিম্নআয়ের শ্রমজীবী মানুষ। বিশেষ করে তীব্র শীত এবং কুয়াশা উপেক্ষা করে জীবিকা নির্বাহের তাগিদে ঘর থেকে বের হওয়া লোকজন পড়েছেন বিপাকে।
শহরের মুসলিমবাগ এলাকার রিকশাচালক আতাউর রহমান বলেন, “তীব্র ঠান্ডার মধ্যেও রিকশা নিয়ে বের হয়েছি। লোকজন এখনও শহরমুখী হয়নি। সকাল ৯টা পর্যন্ত কোনো যাত্রী পাইনি। এখনই শীতের যে দাপট, সামনের দিনগুলোতে শীতে সংসার কীভাবে চলবে—চিন্তায় আছি।”
শ্রীমঙ্গলের আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকেন্দ্রের আবহাওয়া সহকারী পর্যবেক্ষক দিলীপ বৈষ্ণব বলেন, “শ্রীমঙ্গলে প্রতিদিনই শীতের তীব্রতা বাড়ছে। গত কয়েকদিন ধরেই তাপমাত্রা ১৩ ডিগ্রির ঘরে ছিল। আজ তা কমে দাঁড়িয়েছে ১১ ডিগ্রিতে। শনিবার সকাল ৬টায় উপজেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি মৌসুমে শ্রীমঙ্গল উপজেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।”
তিনি আরও বলেন, “গতকাল শুক্রবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় শ্রীমঙ্গলে ১২ দশমিক শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস। তেঁতুলিয়াতেও শুক্রবার ১২ দশমিক শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়।”
ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই শীত এভাবে শুরু হওয়া মানে সামনের দিনগুলোতে শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান তিনি।
আজকের সিলেট/এপি
নিউজ ডেস্ক 








