বনরাজ্যের রঙিন রাজপাখি 'কাও ধনেশ'
সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ০২:১২ PM

বনরাজ্যের রঙিন রাজপাখি 'কাও ধনেশ'

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২০/১২/২০২৫ ১০:২৮:০৮ AM

বনরাজ্যের রঙিন রাজপাখি 'কাও ধনেশ'


চকচকে পালক, লালচে চোখ আর বাঁকা ঠোঁট, প্রকৃতির এক জীবন্ত অলঙ্কার। মাঝে মধ্যেই হবিগঞ্জের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে চোখে পড়ে এমন এক রাজপাখি। কিন্তু এ পাখির সংখ্যা দ্রুত কমছে। বাংলাদেশে কাও ধনেশ বিপন্ন। বন উজাড়, শিকার, চিড়িয়াখানা ও হাতুড়ে চিকিৎসার কারণে সংখ্যা কমছে। ধনেশ তেলের জন্য হত্যার ঘটনাও বেড়েছে, যদিও ক্রেতাদের অধিকাংশই ধনেশ তেলের পরিবর্তে পোড়া মবিল পান।

সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের সংরক্ষিত বনাঞ্চলে এখনও ধনেশের উপস্থিতি রয়েছে। বর্তমানে এখানে চারটি পরিবারে মোট ৮ থেকে ১২টি কাও ধনেশ রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

সম্প্রতি সাতছড়ি থেকে এক জোড়া ধনেশের ছবি তুলেছেন চিকিৎসক ও শখের ছবিয়াল গ্রুপের এডমিন এসএস আলআমিন সুমন। 

তিনি জানান, সুরক্ষিত বনাঞ্চলে প্রজাতিটি টিকে আছে, কিন্তু মানব হস্তক্ষেপের কারণে তাদের টেকসই সংখ্যা এখনও নিশ্চিত নয়। কাও ধনেশ:বনরাজ্যের রঙিন রাজপাখি। আবাসিক পাখি কাও ধনেশের প্রজননকাল এপ্রিল থেকে জুলাই। এ সময়ে পুরুষ পাখি খাবার জোগাড় করে স্ত্রী ও ছানার জন্য।

বেশিরভাগ সময়ে এক জোড়া একই এলাকায় থাকে। স্ত্রী পাখি ৫-৬টি ডিম দেয়, বাসা তৈরি হওয়ার ১৫-২০ দিনের মধ্যে। ডিম ফুটে ছানা বের হয় প্রায় ৩০ দিনে। ডিম দেওয়ার আগে এবং ডিম দেওয়ার কয়েক দিন পর্যন্ত স্ত্রী পাখির শরীরের পালক কমে যায়, পরে ধীরে ধীরে পুনরায় পালকে ভরে। মা পাখি ছানা ফুটে ২-৩ মাস ছানাদের সঙ্গে থাকে।

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ সোসাইটির (ডব্লিউসিএস) সমন্বয়কারী সামিউল মোহসেনিন বলেন, বাংলাদেশের মিশ্র চিরহরিৎ বনাঞ্চলে এখনও ধনেশ পাখির উপস্থিতি রয়েছে। তবে এদের মোট সংখ্যা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য কোনো পরিসংখ্যান নেই। ধনেশ সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ নিতে সঠিক পরিসংখ্যান প্রণয়ন জরুরি।

কাও ধনেশ (Anthracoceros albirostris) বা (Oriental Pied Hornbill) এর ওপরের দিক চকচকে কালো, নিচের দিক সাদা। ডানার ও লেজের বাইরের পালকের আগা সাদা। গলায় নীলচামড়ার পট্টি, চোখের চারপাশ নীলাভ-সাদা। পা সবুজ-স্লেট, চোখের তারা লালচে। বড় বাঁকা ঠোঁটের ওপর বর্ম সামনের দিকে সামান্য বাড়ানো, পেছনের দিকে দীর্ঘ, হালকা ও ফাঁপা। স্ত্রী তুলনামূলক ছোট, চোখ বাদামী, ঠোঁটের উপরে কালো ছোপ ও নিচের গোয়ায় লালচে। দৈর্ঘ্য প্রায় ৯০ সেন্টিমিটার।

সাধারণত জোড়ায় থাকে, কখনও সঙ্গে ছানাও। বটজাতীয় গাছের ফল পাকার সময় অন্য পাখি ও স্তন্যপায়ীর সঙ্গে মিলে খাবারের সন্ধান করে। ছোট-বড় নরম ফলের পাশাপাশি পাখির ছানা, ডিম, ইঁদুর, ব্যাঙ, সরিসৃপও খায়। মরা গাছের কাণ্ডে গর্ত করে বাসা বানায়; স্ত্রী প্রবেশ পথ নিজে বন্ধ রাখে, বাবা ছোট ফুটোর মাধ্যমে খাবার পৌঁছে দেয়। ছানা বড় হলে গর্তের মুখ ভেঙে বের করে।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর