শিশু যখন আল্লাহকে দেখতে চায়
মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ১০:২১ PM

শিশু যখন আল্লাহকে দেখতে চায়

ধর্ম ও জীবন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২/০১/২০২৬ ১২:৩৯:৫২ PM

শিশু যখন আল্লাহকে দেখতে চায়


একটি সাত-আট বছরের শিশু যখন প্রশ্ন করে, “মা, আল্লাহ কোথায়? আমি কেন তাঁকে দেখতে পাই না?”—তখন অনেক অভিভাবকই কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়েন।

কেউ হয়তো বাতাস বা অক্সিজেনের উদাহরণ দেন, কিন্তু সব শিশু কেবল এতে সন্তুষ্ট হয় না। শিশুদের মন জন্মগতভাবেই কৌতূহলী এবং তারা যুক্তিনির্ভর ব্যাখ্যা পছন্দ করে।

বিশেষ করে বর্তমানের এই তথ্যপ্রযুক্তির যুগে শিশুরা অনেক বেশি সচেতন, তাই তাদের সঙ্গে কথা বলার সময় সাধারণ বা গৎবাঁধা উত্তরের চেয়ে যৌক্তিক ও হৃদয়স্পর্শী আলোচনার প্রয়োজন বেশি।

সন্তানকে আল্লাহর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া কেবল একটি তথ্য প্রদান নয়, বরং এটি তার অন্তরে বিশ্বাসের এক মজবুত ভিত্তি স্থাপনের প্রক্রিয়া।

শুরুটা হোক শৈশব থেকেই

ইসলামি জীবনদর্শনে শিশুকে সাত বছর বয়স থেকে নামাজের নির্দেশ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু আল্লাহর পরিচয় তার অন্তরে তারও অনেক আগে থেকে গেঁথে দেওয়া উচিত।

১ থেকে ৭ বছর বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে কোনো তাত্ত্বিক আলোচনা নয়, বরং অভ্যাসের মাধ্যমে শিক্ষা দেওয়া কার্যকর। যেমন:

দোয়ার মাধ্যমে পরিচয়: খাওয়ার শুরুতে ‘বিসমিল্লাহ’ এবং শেষে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলা কিংবা বৃষ্টির শব্দ শুনলে 'সুবহানাল্লাহ' বলা—এই ছোট ছোট অভ্যাসগুলো শিশুর অবচেতন মনে আল্লাহর অস্তিত্বকে প্রতিষ্ঠিত করে।

আচরণগত শিক্ষা: শিশুরা যা শোনে তার চেয়ে যা দেখে তা দ্রুত শেখে। অভিভাবকরা যখন উচ্চৈঃস্বরে জিকির করেন বা দোয়া করেন, শিশুরা তা নকল করার চেষ্টা করে। এটি তাদের মনে এই ধারণা দেয় যে, আমাদের ঊর্ধ্বে এমন একজন সত্তা আছেন যার কাছে আমরা সাহায্য চাই।

ইমাম গাজালি (রহ.) তাঁর আইয়্যুহাল ওয়ালাদ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, শৈশব হলো কাদা মাটির মতো, এই সময়ে শিশুকে যেভাবে গঠন করা হবে, সেভাবেই তার ভবিষ্যৎ ব্যক্তিত্ব গড়ে উঠবে (পৃষ্ঠা: ৪৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ২০০৫)

আমরা খুব দূরের জিনিস দেখি না বা খুব ছোট জীবাণু দেখতে পাই না। আল্লাহ এত মহান এবং তাঁর নূর এত প্রখর যে এই দুনিয়ার চোখ দিয়ে তাঁকে দেখার ক্ষমতা আমাদের নেই।

আজকের সিলেট/এপি

সিলেটজুড়ে


মহানগর