অর্থ সংকটে থেমে আছে ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ
শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:৩০ AM

অর্থ সংকটে থেমে আছে ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৬/০২/২০২৬ ১০:৪৫:০০ AM

অর্থ সংকটে থেমে আছে ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ


সুনামগঞ্জের লাখো কৃষকের সারা বছরের অন্ন জোগান দেয় একমাত্র বোরো ফসল। এই ফসলকে আগাম বন্যার হাত থেকে রক্ষা করতে সরকার প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে থাকে। কিন্তু চলতি বছরে জেলার ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে অর্থ সংকট।

সংশোধিত কাবিটা নীতিমালা-২০২৩ অনুযায়ী, ১৫ ডিসেম্বর থেকে বাঁধের কাজ শুরু করে ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তা শেষ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। হাতে আর মাত্র চার সপ্তাহ সময় থাকলেও জেলার ১২টি উপজেলার অধিকাংশ বাঁধে মাটির কাজ এখনো দৃশ্যমান নয়। স্থানীয়দের দাবি, অনেক জায়গায় কাজের অগ্রগতি মাত্র ২৫-৩০ শতাংশ, যদিও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) দাবি করছে ৫০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।

সুনামগঞ্জ পাউবো সূত্রে জানা গেছে, এবার জেলার ১২টি উপজেলায় ৭১০টি প্রকল্পের মাধ্যমে ৫৯৬ কিলোমিটার ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। এ জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১৪৬ কোটি টাকা। কিন্তু সময়মতো অর্থ না পাওয়ায় মাঠ পর্যায়ে কাজ থেমে আছে।

পিআইসি সভাপতি সোহেল মিয়া বলেন, ‘টাকা না দিয়েই আমাদের ওপর চাপ দেওয়া হচ্ছে দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য। প্রথম কিস্তিতে মাত্র ১৬ শতাংশ টাকা দেওয়া হয়েছে। শ্রমিকের মজুরি ও ভেকু (এস্কাভেটর) ভাড়া দিতে পারছি না। ধারদেনা করে কতদিন চালানো যাবে? এরপর বাধ্য হয়ে কাজ বন্ধ রাখতে হবে।’

জামালগঞ্জ উপজেলার ২৫ নম্বর পিআইসির সভাপতি নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের বাঁধে মাটি ফেলার কাজ শেষ পর্যায়ে, তবে যথাসময়ে টাকা না দেওয়ায় কাজ থমকে গেছে। কৃষকের আগ্রহও কমছে। এইভাবে বাঁধের কাজ করা সম্ভব নয়।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি পিআইসি সভাপতি বলেন, ‘প্রতিদিন শ্রমিকের মজুরি ও মেশিনের বিল পরিশোধ করতে হয়। কিন্তু পাউবো থেকে মাত্র ১৬ শতাংশ টাকা দেওয়া হয়েছে। বাধ্য হয়ে মহাজনদের কাছে সুদে টাকা নিতে হচ্ছে। বরাদ্দকৃত টাকার বড় অংশ চলে যাচ্ছে তাদের পকেটে।’

হাওর রক্ষা ও নদী রক্ষা আন্দোলন জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. ওবায়দুল হক মিলন বলেন, ‘নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রশাসন ও পাউবো পরিকল্পিতভাবে পিআইসিদের যথাসময়ে টাকা দিচ্ছে না। এতে কৃষকরা পিআইসির প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছেন। পুরনো ঠিকাদারি প্রথা পুনরায় চালু করতে চাচ্ছে তারা।’

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ৫০ শতাংশ বাঁধের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। প্রথম বিলে ১৬ শতাংশ টাকা দেওয়া হয়েছে। চলতি সপ্তাহে আরও ২৫ শতাংশ টাকা দেওয়া হবে। আশা করি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।’

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর