হযরত শাহজালাল (রহ.) ও শাহপরান (রহ.) এর আধ্যাত্মিক ছায়ায় বেড়ে ওঠা পূণ্যভূমি সিলেট আবারও ইতিহাসের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে। দীর্ঘ ১৮ বছরের প্রতীক্ষার পর এই জনপদ পেতে যাচ্ছে নতুন সংসদ সদস্য একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে নগরী ও জনপদের রাজনীতিতে।
সিলেট-১ আসনকে ঘিরে বহুদিনের একটি প্রচলিত কথা আছে এই আসনে যে দলের প্রার্থী বিজয়ী হন, কেন্দ্রেও নাকি সেই দলই সরকার গঠন করে। রাজনৈতিক গল্পের মতো শোনালেও স্থানীয়দের কাছে এটি এক গভীর বিশ্বাসের নাম। তবে ২০২৪ সালের ৫ জুলাই ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের পতনের পর বদলে গেছে দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট। সেই পরিবর্তনের আবহেই অনুষ্ঠিত হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।
এবারের নির্বাচনের বিশেষত্ব অন্যখানে সিলেটবাসী সংসদে যাদের পাঠাবেন, তাদের জন্য এটি হবে একেবারেই নতুন অভিজ্ঞতা। পরিচিত মুখ থাকলেও ‘সাংসদ’ পরিচয়টি হবে একেবারে নতুন।
সিলেটের ৬টি সংসদীয় আসনে মোট ৩৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রতিটি আসনে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্য থেকে যিনিই বিজয়ী হোন না কেন, সংসদ সদস্য হিসেবে সেটিই হবে তার প্রথম পদচারণা। অনেকেই আগে নির্বাচনের ময়দানে নেমেছেন, ভোটের লড়াই করেছেন, কিন্তু জয় না পাওয়ায় সংসদের দরজায় কড়া নাড়ার সুযোগ পাননি।
সিলেট-১ আসনে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন বিএনপির খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর ও জামায়াতের মাওলানা হাবিবুর রহমান। রাজনৈতিক অঙ্গনে তাদের পদচারণা নতুন নয়, নির্বাচনী অভিজ্ঞতাও আছে; কিন্তু বিজয়ের সোনালি সোপানে পা রাখা হয়নি কারও। এবার তাদের মধ্য থেকেই কেউ একজন ইতিহাস রচনা করবেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকে ধানের শীষ প্রতীকের সম্ভাবনাকে এগিয়ে রাখলেও শেষ হাসি হাসবেন কে তা নির্ধারণ করবে ব্যালটের রায়।
সিলেট আজ অপেক্ষায় নতুন মুখ, নতুন প্রত্যাশা, নতুন দায়িত্বের। আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের এই জনপদ আবারও গণতন্ত্রের উৎসবে নিজের প্রতিনিধি বেছে নেবে। যিনিই বিজয়ী হোন, তার কাঁধে ভর করবে এক নতুন সূচনার দায় শুধু সংসদে যাওয়ার নয়, বরং প্রত্যাশা ও আস্থার আলো জ্বালিয়ে রাখার।
আজকের সিলেট/জেকেএস
জনি কান্ত শর্মা 








