শাল্লায় ৫০০ কোটি টাকার বোরো ধান উৎপাদনের আশা
সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ০১:২৭ PM

শাল্লায় ৫০০ কোটি টাকার বোরো ধান উৎপাদনের আশা

শাল্লা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২১/০৪/২০২৪ ১০:৫০:৫৫ AM

শাল্লায় ৫০০ কোটি টাকার বোরো ধান উৎপাদনের আশা


হাওরে চলছে ধান কাটার ধুম। বৈশাখজুড়ে হাওরে এ যেন এক বিশাল উৎসব। হাওরে কম্বাইন্ড (হারভেস্টার) ধান কাটার মেশিন সংকট থাকলেও বসে নেই স্থানীয় কৃষকেরা। সোনালী ফসল তুলতে নারী-পুরুষ ও স্কুল ছাত্রদেরও বৈশাখীর কাজ করতে দেখা গেছে হাওরে। নির্মল হাসিতে নতুন বছরে, নতুন আশা ও বিশ্বাস নিয়ে স্বপ্নের সোনালী ফসল বোরোধান কেটে গোলায় তোলার সপ্ন দেখছেন হাওর পাড়ের কৃষক ও কৃষাণীরা।

হাওরের দখিনা বাতাসে চারিদিকে ছড়াচ্ছে এখন সোনালি ধানের সুবাস। গত কয়েকদিন পূর্বে ঝড়-বৃষ্টি জনিত কারনে কৃষকরা মনে যে আতঙ্কের জন্ম নিয়েছিল এখন আর সেটা নেই। আবহাওয়া ভাল হওয়ায় আনন্দিত হয়ে ধান কাটতে নেমেছে শিশু থেকে বয়োবৃদ্ধ, নারী ও পুরুষ। হাওরের একমাত্র ফসল বোরো ধানের উপর নির্ভর করে চলে কৃষক পরিবারের সবকিছু।

আর এই ফসল থেকে প্রায় ৫'শ কোটি টাকার ধান উৎপাদনের তথ্য জানিয়েছেন কৃষি অফিস। তথ্যমতে, শাল্লায় ছোট-বড় ১৭টি হাওরের ২১,৭১৪ হেক্টর জমিতে বোরো ফসল চাষাবাদ করা হয়েছে। এর থেকে ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে প্রায় ১ লক্ষ ২৫ হাজার মেট্রিকটন। যার সরকার নির্ধারিত বাজার মূল্যে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। যা প্রতিবারের মতই জাতীয় অর্থনীতিতে খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি অবদান রাখবে।

বাহাড়া ইউপির মৃদুল দাস নামে এক কৃষক বলেন, ধান কাটার মৌসুম শুরু হয়েছে। তবে নিরাপদে ধান ঘরে তুলতে পারলেই আমরা খুশি, এই ফসলের উপর নির্ভর করে আমাদের সবকিছুই। কিছু ধান কেটে এখন রোদে শুকিয়ে গোলায় তুলা হচ্ছে। এখন নদীতে যে পরিমাণ পানি রয়েছে ফসলরক্ষা বাঁধের জন্য তেমন একটা ঝুঁকি নাই।

ইউপি সদস্য ও ভরাম হাওরের কৃষক বিশ্বরুপ দাশ বলেন, আমি এই বছর ৭৫ কেয়ার (বিঘা) জমি করেছি। সব খরচ বাদ দিয়ে আশা করি ১৫০০ মণ ধান হবে। একটু ভয় ছিল আবহাওয়ার জন্য। এখন আগের তুলনায় আবহাওয়া অনেক ভালো। কৃষকরা আনন্দে ধান কাটা শুরু করছে। ভাল রোদ দেওয়ায় ধান ও খড় শুকাতে সুবিধা হচ্ছে। বর্তমানে নদীতে যে পরিমাণ পানি রয়েছে তাতে হাওরে ফসলের কোন ক্ষতি হবে না।

শাল্লা ইউনিয়নের আমিনুর রহমান নামে কৃষক জানান, বর্তমানে দেখা যাচ্ছে ফসলের অবস্থা খুবই ভাল। ধান কাটা পুরোদমে শুরু হয়েছে। যদি প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতি না হয় আল্লাহর রহমতে বাম্পার ফসল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফসল কাটতে পারলে লাভমান হতে পারব আমরা।

শাল্লা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মাসুদ তুষার বলেন, আমরা এই পর্যন্ত ১০% ধান কাটা হয়েছে। আবহাওয়া ভাল থাকলে এই সপ্তাহের শেষদিকে ৫০% ধান কাটা শেষ হবে আশাবাদী। বর্তমানে ধান কাটতে স্থানীয় শ্রমিকের পাশাপাশি বহিরাগত শ্রমিকও আছে। হারভেষ্টার ও রিপার মেশিন ২০টা আমাদের এবং বাহিরে থেকে আসা আরো ৩০ টা ধান কাটছে। আমাদের অফিস স্টাফ সবসময় মাঠে কাজ করছে। কৃষকের ফসল ঘরে তুলতে আমাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা থাকবে।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর