বৈশাখে শেষ সময়। হওর বাওরে ধান কাটা প্রায় শেষ। নতুন ধান গুলায় তুলতে ব্যস্ত কৃষকরা। ধান শুকানোর পর পরই শুর হয় ধান ভাঙার কাজ। সিলেটের বালাগঞ্জ-ওসমানীনগরে এক সময় বৈশাখ ও অগ্রায়ন মাস আসলেই ধান ঘরে তুলে ঢেঁকিতে সেই ধান ভেঙ্গে তৈরী হত নানা রখমের পিঠা।
কালের বিবর্তনে আমরা হারিয়ে ফেলেছি সেই ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি। এখন পুরোপুরি যান্ত্রিক ঢেউ লেগেছে। আধুনিক যুগের সাথে তাল মিলিয়ে বিশ্ব এগিয়ে যাওয়ায় এখন আর ঢেঁকির প্রয়োজন পরে না। সবাই এখন ধান কাটা থেকে মারাই ও ধান ভাঙ্গা পর্যন্ত কাজ সমাপ্ত করেন অধুনিক মেশিনেই। আর তাই আধুনিকতায় এবং যান্ত্রিকতার ছোঁয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী কৃষি ও গৃহস্থলী সামগ্রী ঢেঁকি।
জানা গেছে, এক সময় দুই উপজেলার গ্রামে গ্রামে সবার বাড়িতে ঢেঁকির দেখা পাওয়া গেলেও আজ আর সেই ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকির দেখা পাওয়া দুপ্রাপ্য। প্রযুক্তি ও আধুনিকতার যুগে কর্মব্যস্থ মানুষের ব্যস্থতা যেমন বেড়েছে, তেমনি যে কোন কাজ স্বল্প সময়ে স্বল্প শ্রমে দ্রুত সম্পন্ন করতে সবাই ব্যস্ত।
আধুনিকতার দাপটের কাছে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার এক সময়ের কৃষান কৃষাণীদের ভালো মানের চাল তৈরী করার প্রধান মাধ্যম কাঠের ঢেঁকি। তাই তো কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে ঢেঁকির ছন্দময় শব্দ।
খোজ নিয়ে জানা গেছে, বালাগঞ্জ-ওসমানীনগর দুই উপজেলায়ই বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি আজ প্রায় বিলুপ্তির পথে। গ্রাম বাংলার কৃষকদের বাড়ী থেকে হারিয়ে যাচ্ছে কাঠের ঢেঁকি। তাই ধান, চাল, আটা ও চিরা ভাঙ্গানোর জন্য বৈদুতিক মিল হওয়ার কারণে গ্রামীন কৃষকরা সহজেই ধান, আটা ও চিরা কম সময়ে অল্প খরচে ভাঙ্গাতে পারছেন।
ওসমানীনগর উপজেলার পৈলনপুর ইউনিয়নের ইশাগ্রাই গ্রামের আছমা বেগম জানান, আমার শ্বশুর শ্বাশুরীর আমল থেবেই আমদের বাড়ীতে ঢেঁকি ছিল বৈশাখ কিংবা অগ্রায়ন মাস আসেই আমরা সেই ঢেঁকিতে ধান ভাঙ্গা হত এখন আর সেই ঢেঁকি নেই।
ওসমানীনগর অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর উপজেলা সভাপতি শেখ ফয়ছল আহমদ জানান, গ্রামীন জনপদের মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়নের কারণে বাপ দাদার মাটির বাড়ী ঘরে বদলে, ইটের বাড়ী ঘর তৈরী করছেন। নানা রখম ডিজাইনের আদলে অনেক বাড়ীতে ঢেঁকি রাখার জন্য জায়গাও থাকছে না। আমাদের আধুনকিাতার শত বছরের ঐতিহ্যবাহী কাঠের ঢেঁকি বিলুপ্তির হওয়ার পথে।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
ওসমানীনগর প্রতিনিধি 








