নাহিদ-শমসের-সরওয়ারের জটিল সমীকরণ
মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:২৫ PM

সিলেট- ৬

নাহিদ-শমসের-সরওয়ারের জটিল সমীকরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৩/০১/২০২৪ ১১:৩২:২২ AM

নাহিদ-শমসের-সরওয়ারের জটিল সমীকরণ

নুরুল ইসলাম নাহিদ, শমসের মবিন চৌধুরী ও সারোয়ার হোসেন


আর মাত্র কয়েকদিন পরই অনুষ্ঠিত হচ্ছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। এখন চলছে নির্বাচনের শেষ মুহুর্ত্রে প্রচার প্রচারণা। প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা দিনরাত প্রচারণা চালিয়ে নিজেদের পক্ষে ভোট বাড়াতে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন নিজ নিজ এলাকায়। ভোটাররাও চায়ের কাপে ঝড় তুলছেন নানা আলোচনা সমালোচনায়।

সিলেটের ৬টি আসনের মধ্যে জটিল সমীকরণ সৃষ্টি হয়েছে। আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, তৃণমূল বিএনপির চেয়ারম্যান শমসের মুবিন চৌধুরী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী কানাডা আওয়ামী লীগের সভাপতি সরওয়ার হোসেনকে নিয়েই এই সমীকরণ। এখন পর্যন্ত এ আসনে আলোচনায় রয়েছেন এই তিন প্রার্থী। তাদের মধ্যেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে। তবে আলোচনায় খুব বেশি না থাকলেও পিছিয়ে নেই জাতীয় পার্টির প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য সেলিম উদ্দিন। বিয়ানীবাজারে তারও একটি ভোট ব্যাংক রয়েছে।

এদিকে তিন হেভিওয়েটের জটিল সমীকরণে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে ‘নাহিদের প্রস্থান’। গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারে গুঞ্জন রয়েছে নির্বাচন থেকে সরে যাচ্ছেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী আওয়ামী লীগের প্রার্থী নুরুল ইসলাম নাহিদ। হঠাৎ জরুরি তলব করে ঢাকায় নেওয়া হয় নাহিদকে। সেখানে জরুরি বৈঠক করেন নাহিদ। বৈঠকে সমঝোতার ভিত্তিতে তৃণমূল বিএনপিকে সিলেট-৬ আসন ছেড়ে দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে বলে গুঞ্জন উঠেছে। তবে বিষয়টি নিছক গুঞ্জন বলে জানিয়েছেন নুরুল ইসলাম নাহিদের ঘনিষ্টজনরা। তাদের দাবি, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা গুঞ্জন ছড়িয়ে নির্বাচনের মাঠ ঘোলাটে করতে চাচ্ছেন। কেন্দ্রে ডেকে নিয়ে নির্বাচনের সামগ্রিক পরিস্থিতি জানতে চাওয়া হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে নাহিদের অবস্থানও জানতে চেয়েছেন দলীয় প্রধান। জবাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য ‘ডিটারমাইন্ড’ বলে শেখ হাসিনাকে জানিয়েছেন নাহিদ।

জানা গেছে, বুধবার (২৭ ডিসেম্বর) ব্যক্তিগত কাজে ১২ ঘণ্টার সফরে ঢাকায় যান তৃণমূল বিএনপির সভাপতি শমসের মবিন চৌধুরী। পরদিন বৃহস্পতিবার (২৮ ডিসেম্বর) হঠাৎ কেন্দ্র থেকে জরুরি তলব করা হয় আওয়ামী লীগের প্রার্থী নুরুল ইসলাম নাহিদকে। দুপুর ১২ টা ৫০ মিনিটে একটি ফ্লাইটে ঢাকা যান নাহিদ। সেখানে ৪০ মিনিট তাকে নিয়ে বৈঠক করা হয়। বৈঠকে কী কথা হয়েছে জানা যায়নি। তবে বৈঠক শেষে নুরুল ইসলাম নাহিদ তার নেতাকর্মীদের জানিয়েছেন তিনি নির্বাচনের মাঠে রয়েছেন। এদিকে নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে প্রচারণায় মুখর হয়ে উঠছে গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার। পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুনে ছেয়ে আছে দুই উপজেলার প্রতিটি এলাকা। চলছে মাইকিং, নির্বাচনী গান। বসে নেই প্রার্থী-সমর্থকরা। সকাল থেকে রাত অব্দি ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে প্রচারপত্র বিলি করছেন প্রার্থী ও তাদের কর্মী সমর্থকরা। বিভিন্ন জনসভায় অংশ নিচ্ছেন প্রার্থীরা। নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট চাচ্ছেন। সব মিলিয়ে জমে উঠেছে নির্বাচনের মাঠ।

ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিয়ানীবাজারে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নুরুল ইসলাম নাহিদ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সরওয়ারের অবস্থান ভালো। এ উপজেলায় একটি অংশ রয়েছে তৃণমূল বিএনপি ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী সেলিম উদ্দিনের দখলে। অপরদিকে নিজ এলাকা গোলাপগঞ্জে এগিয়ে শমসের মবিন। সেখানে নাহিদ ও সরওয়ারেরও ভোট রয়েছে। প্রথম দিকে গোলাপগঞ্জে নাহিদ পিছিয়ে থাকলেও এখন তার অবস্থান ভালো। সব মিলিয়ে নাহিদ, সরওয়ার ও শমসের মবিনের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এদিকে ভোটারদের মাঝে ব্যাপক আলোচনায় থাকলেও নিজের ঘর নিয়ে বিপাকে রয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী নুরুল ইসলাম নাহিদ। একটি বিশ্বস্ত সূত্র বলছে, প্রকাশ্যে-প্রকাশ্যে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করছেন আওয়ামী লীগের অনেক নেতা। বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আবুল কাশেম প্রকাশ্যে নুরুল ইসলামের বিরোধিতা করে স্বতন্ত্র প্রার্থী সরওয়ার হোসেনের পক্ষে কাজ করছেন। সরওয়ার হোসেনের সভা-সমাবেশে অংশ নিয়ে বক্তব্যও দিচ্ছেন তিনি।

অন্যদিকে গোলাপগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মঞ্জুর শাফি চৌধুরী শমসের মুবিনকে সমর্থন দিচ্ছেন। এছাড়াও আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী সরওয়ার হোসেন ও শমসের মবিন চৌধুরীর পক্ষে কাজ করছেন।

বিয়ানীবাজার উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কাশেম বলেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থী নিজের পছন্দের লোকদের দিয়ে নির্বাচন পরিচালনা করছেন। তার সঙ্গে অনেকেরই দূরত্ব রয়েছে। এবারের নির্বাচন যেহেতু দলের সবার জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী, তাই আমিও স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে করছি।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি কল রিসিভ করেননি।

তৃণমূল বিএনপির চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী বলেন, এই আসন বিগত দিনে অনেকটা উন্নয়ন বঞ্চিত ছিল। অনেক এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই নাজুক। আগামী ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে আমার পক্ষকে সমর্থন দেওয়ায় আমি সকল আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানাই। সবাইকে নিয়ে সিলেট-৬ আসনকে এগিয়ে নিতে চাই।

স্বতন্ত্র প্রার্থী সরওয়ার হোসেন বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু ইতিহাস-ঐতিহ্যের গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার উপজেলার গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। দুটি উপজেলাই যেন আজ একটি অবহেলিত জনপদে পরিণত হয়েছে। আমি সবাইকে নিয়ে গড়তে চাই ইতিহাস-ঐতিহ্য, সমৃদ্ধ, সম্ভাবনার আগামীর স্মার্ট সিলেট-৬ আসন।

সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) আসনে আওয়ামী লীগ, তৃণমূল বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সরওয়ার হোসেন ছাড়াও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের প্রার্থী আতাউর রহমান আতা (ছড়ি) ও ইসলামী ঐক্যজোটের প্রার্থী সাদিকুর রহমান (মিনার)। এ আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৭২ হাজার ৭৫৩ জন। এরমধ্যে ২ লাখ ৩৭ হাজার ৪৯৪ জন পুরুষ ভোটার, ২ লাখ ৩৫ হাজার ২৫৮ জন নারী ভোটার এবং ১ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর