কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে সারাদেশে সরকারি স্থাপনা ও যানবাহনে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার আতঙ্কে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন সিলেট বিভাগের বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। অনেকেই চলে গেছেন আত্মগোপনে, কেউবা বন্ধ রেখেছেন মোবাইল ফোন।
বিএনপি নেতাদের অভিযোগ পুলিশ বাড়ি-বাড়ি গিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছে। আমাদের ঘরে থাকা এখন নিরাপদ নয়।
বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা যায়, এখন পর্যন্ত সিলেট বিভাগে প্রায় ১০০ জন নেতাকর্মীরা গ্রেপ্তার হয়েছেন। আর অনেক নেতাকর্মীরা ঘর ছাড়া অবস্থায় আছেন।
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী আজকের সিলেটকে জানান, সিলেটে বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেফতার কার্যক্রম উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে চলেছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ১০০ জন নেতাকর্মী গ্রেফতার হয়েছেন। অনেক নেতাকর্মী গ্রেফতারের ভয়ে ঘরছাড়া অবস্থায় রয়েছেন। দলের নেতাকর্মীদের প্রতি এই ধরনের দমন-পীড়ন মেনে নেওয়া যাবে না। আমরা এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে বিএনপি কঠোর আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। দলের প্রতিটি সদস্য সংকটময় মুহূর্তে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে এবং আমরা আমাদের দাবির পক্ষে অবিচল থাকব।
সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলন বিএনপির আন্দোলন নয়, এটি ছাত্রদের ন্যায্য দাবি আদায়ের আন্দোলন। আমরা ছাত্রদের আন্দোলনে নৈতিক সমর্থন দিয়েছিলাম মাত্র। এখন সিলেটে যত মামলা হচ্ছে-সব মামলায় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের আসামি করা হচ্ছে। পুলিশ বাড়ি বাড়ি তল্লাশির নামে নেতাকর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের হয়রানি ও গ্রেপ্তার করছে।
সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী আজকের সিলেটকে জানান, কোটা আন্দোলনে আমাদের সন্তানদের নির্মমভাবে হত্যা করা হচ্ছে। এটি মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন এবং এটি অমানবিক কর্মকান্ড। সরকারকে দ্রুত এই হত্যাকান্ড বন্ধ করতে হবে এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
তিনি আরও বলেন, এই আন্দোলনে জড়িত শিক্ষার্থীরা শুধু তাদের ন্যায্য অধিকার চেয়েছে। তাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন দমনে রাষ্ট্রের এমন নির্মম আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা তীব্র নিন্দা জানাই।
তবে পুলিশ দাবি করেছে, টার্গেট করে কোনো নির্দিষ্ট দলের নেতাকর্মীর বাড়িতে গিয়ে পুলিশ তল্লাশি করছে না। সিলেটে ঘটে যাওয়া সহিংসতায় যারা জড়িত ছিলেন শুধু তাদেরই গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। হয়রানি করার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে এসএমপির মুখপাত্র ও এডিসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, সিলেট জেলা বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে। তাই আমরা তাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চালাচ্ছি।
সিলেট জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সম্রাট তালুকদার বলেন, এখন পর্যন্ত কানাইঘাট ও জৈন্তাপুর থানায় ২৬৮ জনকে আসামি করে দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বালাগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির আব্দুল জলিলসহ ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আজকের সিলেট/ডি/এপি
আহমেদ পাবেল 








