সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার নৈনগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুর রশিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি, দায়িত্বে অবহেলা ও স্কুলের সম্পদ অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে উপজেলা এলাকার বাসিন্দা মো. সাইফুল রহমান সম্প্রতি সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, বিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দকৃত তিনটি সরকারি ল্যাপটপের মধ্যে দুটি প্রধান শিক্ষকের মালিকানাধীন একটি কম্পিউটার নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া অতীতে রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে আগ্রহী কয়েকজন শিশুকে ভর্তি না দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ১৭ বছরে বিদ্যালয়ের উন্নয়ন, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক খাতে বরাদ্দকৃত অর্থের যথাযথ ব্যবহার হয়নি এবং এসব খাতে বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগকারীর দাবি, বিদ্যালয়ে দৃশ্যমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড খুবই সীমিত।
এছাড়া প্রধান শিক্ষক নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা করেন না বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি বিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে একটি বেসরকারি সংস্থার (এনজিও কাল্ব) কার্যক্রম নিয়ে অধিক সময় ব্যস্ত থাকেন। তিনি এনজিও সংস্থা কাল্ব এর দোয়ারাবাজার উপজেলা সভাপতি কিন্তু সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা ১৯৭৯ অনুযায়ী কোন সরকারি চাকুরীজীবী কোন এনজিও সংস্থার সাথে জড়িত হতে পারেন না। উনি জড়িত থাকার ফলে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে এবং সহকারী শিক্ষকদের কার্যক্রমও যথাযথভাবে তদারকি করা হচ্ছে না।
অভিযোগে আরও বলা হয়, অতীতে একাধিকবার বিদ্যালয়ে বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত থাকার ঘটনা বিভিন্ন পরিদর্শন প্রতিবেদনে লিপিবদ্ধ হয়েছে। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের পরিদর্শন রেজিস্টারেও তথ্য রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। প্রধান শিক্ষক নিয়মিত স্কুলে আসেননা, যদিও আসেন ইনজিও সংস্থার সকল কাজ অফিসে বসেবসে করেন। তিনি নিয়মিত ক্লাস নেন না। তারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযোগের সত্যতা জানতে নৈনগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুর রশিদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, বিদ্যালয়ের তিনটি ল্যাপটপের দুটি ল্যাপটপ প্রতিষ্ঠানে সবসময় থাকে। একটি বাসায় রেখে প্রতিষ্ঠানিক কাজ করা হয়। এনজিও সংস্থাটি বিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নির্দেশনায় সময় দেওয়া হয়ে থাকে।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্তের জন্য পাঠানো হতে পারে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এবিষয়ে দোয়ারাবাজার উপজেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) এনামুল হক মোল্লা আজকের সিলেটকে বলেন, জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ হয়েছে সেটা এখনো আমাদের হাতে আসেনি। আমাদের কাছে আসলে তদন্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আজকের সিলেট/এপি/প্রতিনিধি
দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি 








