সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার বিভিন্ন নদনদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বহু এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই এসব এলাকাতে নৌকা তৈরি এবং বিক্রির ধুম পড়েছে। একটি পৌরসভা ৭টি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত নিম্নাঞ্চল বর্ষার পানিতে প্লাবিত হওয়ায় নৌকার কদর বেড়ে গেছে কয়েকগুণ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, এলাকার লোকজন নৌকা কেনার জন্য দেড়শ বছরের ঐতিহ্যবাহী সদরের নজলুর নদীর হেলিপ্যাড হাটে ভিড় করছেন। তবে এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত লোকজন শত শত ডিঙ্গি নৌকাসহ বিভিন্ন রকমের নৌকা বিক্রির জন্য সাজিয়ে রেখেছে নৌকা হাটে। অনেকে এ মৌসুমে নৌকা বিক্রি করে তাদের জীবনযাত্রার মান বদলাবে।
উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে নৌকা তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে মিস্ত্রিপাড়ার নারী-পুরুষ। বর্ষার আগমনে উপজেলার সৈয়দপুর, চিলাউরা,পাইলগাও, রানীগঞ্জ, এলাকার নিম্নাঞ্চলের বর্ষার একমাত্র বাহন নৌকা।
হেলিপ্যাড হাটে প্রতি রবিবার ও বুধবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নৌকা বিক্রি হয়। অনেক এলাকায় নৌকা ছাড়া চলাফেরা করা সম্ভব হয় না। বর্ষার পানি আসার সঙ্গে সঙ্গেই প্রত্যন্ত অঞ্চলের কাঠমিস্ত্রিরা নৌকা তৈরি এবং মেরামতের কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে।
নৌকার ব্যবহার দীর্ঘদিনের। নৌকা তৈরির শিল্পীরা ঐতিহ্যবাহী হেলিপ্যাড হাটে নৌকা বিক্রির জন্য আসে। নৌকা তৈরির সঙ্গে জড়িত শিল্পীরা স্থানীয় উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রি করছে নৌকা। বর্ষার শুরুতেই সদরের নলজুর নদীর হেলিপ্যাড হাটে নৌকা হাট জমে উঠেছে।
বিভিন্ন ধরনের ছোট-বড় নৌকা সাজিয়ে রাখা হয়েছে বিক্রির জন্য। বর্তমানে লোহা কাঠের দাম বেড়ে যাওয়ায় নৌকা তৈরির খরচ বেড়ে গেছে। প্রকারভেদে প্রতিটি ডিঙ্গি নৌকা ৪ থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রয় করা হয়। তবে লাভের অংশ আগের থেকে কমে গেছে।
ঘুষগাও গ্রামের কাঠমিস্ত্রি সুবল দে জানান, আমাদের বাপ-দাদার আমল থেকেই আমরা নৌকা তৈরি করে বিক্রি করি। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে আমাদের বাড়িতে নৌকা তৈরি শুরু হয়। বর্তমানে এলাকায় ছোট ডিঙ্গি ও কোষা নৌকা বেশি চলে। তবে কড়ই, জাম্বল, আম ও কদম কাঠের নৌকা বিভিন্ন হাট-বাজারে বেশি চলে। জাতি কাঠের তৈরি নৌকায় অনেক খরচ হয়।
হেলিপ্যাড হাটে নৌকা বিক্রি করতে আসা জগন্নাথপুর উপজেলার ঘুষগাও গ্রামে কয়াজ আলী জানান, এ বছর ১০টি নৌকা তৈরি করেছেন। ছোট সাইজের ডিঙ্গি নৌকা ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা এবং মাঝারি সাইজের নৌকা ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার এবং বড় সাইজের নৌকা ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত লোকজনকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব। তা না হলে অচিরেই হারিয়ে যাবে এ পেশার সঙ্গে জড়িত লোকজন।
সাবেক জগন্নাথপুর পৌরসভার মেয়র আক্তার হোসেন বলেন, দেড়শ বছরের ঐতিহ্যবাহী হাটটির জৌলুস আমাদের নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে। বহু জেলার লোকজন এখানে আসে, হেলিপ্যাড হাটের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সুনাম রয়েছে সারাদেশে।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি 








