দেশে আর কোন ফ্যাসিবাদ মাথা নাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না : আলাল
শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১০:৪৯ PM

সিলেট জেলা বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ

দেশে আর কোন ফ্যাসিবাদ মাথা নাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না : আলাল

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৯/০২/২০২৫ ০৬:০৫:০৯ AM

দেশে আর কোন ফ্যাসিবাদ মাথা নাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না : আলাল


বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেছেন, বর্তমান অন্তর্র্বতীকালীন সরকারকে আওয়ামীলীগ ও তার দোসররা ব্যাতিত সবাই সমর্থন দিয়েছে। কিন্তু আকিজ গ্রুপের মালিককে বাণিজ্য উপদেষ্টা করা হয়েছে, এই আকিজ গ্রুপের মালিকরা আওয়ামীলীগের সময়ে এমপি ছিল, তারা সুবিধা নিয়েছে। এখন তেল, গ্যাস, চাল, ডাল ভোজ্য তেল সহ নিত্য পণ্যের দাম আকাশছোঁয়া। দেশের তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণকারী গ্রুপ গুলিকে একত্রিত করলে তেলের দাম কমে যাবে। বাণিজ্য উপদেষ্টার আন্তরিকতা থাকলে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। দীর্ঘ ১৮ বছর হাজার মাইল দূরে থেকেও আমাদের নেতা তারেক রহমান দলকে পরিচালনা করছেন, মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। মানুষের জীবন ঘনিষ্ঠ সমস্যার সময় বিএনপি সব সময় মানুষের পাশে থেকে। বিএনপির দীর্ঘ আন্দোলনের শ্রুতধারার সাথে ছাত্রজনতার আন্দোলন নিলে মিশে যাওয়ার কারনেই ফ্যাসিবাদের পতন হশেছে। এই দেশের পরবর্তী নেতৃত্ব দিবে আজকের তরুণরা। বিএনপির গাছে ঝাঁকি দিয়ে ফল পেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করবেন না। এদেশে আর কোন ফ্যাসিবাদ মাথা নাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না।

বুধবার বিকেলে বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে দ্রব্য মূল্যের উর্ধগতি, আইন শৃঙ্খলার উন্নতি, স্বৈরাচারের দোসরদের বিচার, দ্রুত গণতান্ত্রিক যাত্রা পথে উত্তোরণের জনয় নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষনার দাবিতে রেজিস্ট্রারী মাঠে সিলেট জেলা বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, হাসিনা আওয়ামীলীগের নেত্রী না, তিনি তার পরিবারের নেত্রী। কারন তিনি নিজের বোন সহ পরিবারের সদস্যদের নিয়েই পালিয়ে গেছেন। আর আমাদের নেতা তারেক রহমান ও কোকোকে অত্যাচার করে তাদের আতত্মচিৎকার নেত্রীকে শুনানো হয়েছিল। নেত্রীকে বলা হয়েছিল দেশ থেকে পালিয়ে যেতে। কিন্তু আপোষহীন নেত্রী জনগনকে ফেলে রেখে পালিয়ে যাননি। জনতার ধাওয়া খেয়ে আওয়ামীলীগ আজ দেশ থেকে পালিয়ে গেছে, আর সীমাহীন নির্যাতন সহ্য করেও আমাদের ভাইয়েরা দেশে থেকে জনগনের পাশে থেকে বুক পেতে দিয়ে লড়াই করেছে। আমাদের নেতা এম. ইলিয়াস আলী সহ গুম হওয়ার সকল নেতাকর্মীদের পরিবারের চোখো পানি এখনো মুছে যায় নি। তাই তারা আর দেশে রাজনীতি করতে পারবেন না।

সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরীর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা তাহসিনা রুশদির লুনা, খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ও আরিফুল হক চৌধুরী, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জিকে গউছ, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন ও মিফতাহ্ সিদ্দিকী, কেন্দ্রীয় ক্ষুদ্র ঋণ ও কুটির শিল্প বিষয়ক সহ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবুল কাহের চৌধুরী শামীম ও হাদিয়া চৌধুরী মুন্নী, সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী ও সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী।

সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম, সিলেট জেলা মহিলা দলের সভাপতি তাহসিন শারমিন তামান্না, সিলেট জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক আব্দুল আহাদ খান জামাল, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মাহবুবুল হক চৌধুরী, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব শাকিল মোর্শেদ, মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি সুদিপ জ্যোতি এষ ও সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বি আহসান, সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন দিনার, জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি সুরমান আলী, মহানগর শ্রমিক দলের সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর আলম জীবন প্রমূখ। সমাবেশের শুরুতেই পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন জেলা ওলামা দলের আহবায়ক মাওলানা নুরুল হক।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা তাহসিনা রুশদির লুনা বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর আমরা নির্যাতনের শিকার হয়ে সরকারের পতন ঘটিয়েছি। এখন মানুষের মৌলিক চাহিদা পুরন হচ্ছেনা। অতিরিক্ত ভ্যাট আরোপের কারনে দ্রব্যমূল্য বেড়ে গেছে। নিত্যপণ্য মানুষের নাগালের ভিতরে রাখতে হবে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ঠিকমতো কাজ করছে না। আমাদের নেতাকর্মীদের নামেও বিভিন্ন স্থানে মামলা দেয়া হয়েছে। আওয়ামীলীগের সন্ত্রাসীরা আদালত থেকে জামিনে বেরিয়ে আসছে। প্রশাসনের সর্বক্ষেত্রে অস্থিরতা বিরাজ করছে। আমরা ইলিয়াস আলী সহ গুম হওয়া নেতাকর্মীদের ফিরে পাওয়ার প্রত্যাশা করেছিলাম, কিন্তু আজও তা পূরণ হয়নি। তাই অবিলম্বে জাতীয় নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, আমারা দেশ পরিচালনায় জনগণের মালিকানা চাই। দেশ যারা পরিচালনা করবেন আমরা সাধারণ জনগনই মনোনীত করে দিতে চাই। মোটা চালের কেজি গত কয়েকদিনে কেজিতে ৩/৪টাকা বেড়েছে। দিনমজুরা সকাল বেলা কাজের জন্য লাইন ধরে দাঁড়িয়ে থাকেন। মানুষের ক্রয় ক্ষমতা প্রতিনিয়ত কমে যাচ্ছে। সরকারের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা স্বৈরাচারের দোসররা বিচার।কাজে ব্যাঘাত সৃষ্টি করছে। তাই আমরা দ্রুত সম্ভব নির্বাচনী তফসিল ঘোষনার দাবি জানাই।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখতে বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মীদের জনগণের অতন্দ্র প্রহরীর মতো কাজ করতে হবে। এই সরকারের উপর মুল দায়িত্ব জাতীয় নির্বাচনের ব্যবস্থা করা। তাই অবিলম্বে জাতীয় নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষনা করুন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক জিকে গউছ বলেন, দ্রব্যমূল্য নাগালের বাহিরে চলে যাচ্ছে। তাই বাজার নিয়ন্ত্রণ করে নিত্যপণ্য মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নিয়ে আসুন, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনুন। আমরা জনগণের পক্ষে মাঠে ছিলাম, এখনো আছি ভবিষ্যতেও থাকব। স্থানীয় নির্বাচন জাতীয় নির্বাচনের পরে হবে। কারো এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হলে জনগণ ঘরে বসে থাকবে না।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন বলেন, প্রয়োজনীয় যৌক্তিক সংষ্কার শেষে নির্বাচন দিন। কোন ষড়যন্ত্রই কাজে আসবে না। আমরা প্রথমিক বিজয় অর্জন করেছি, তাই আমাদের লড়াই চলতেই থাকবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ্ সিদ্দিকী বলেন, আমরা যে উদ্দেশ্য নিয়ে বিপ্লব করেছিলাম অবিলম্বে সেই উদ্দেশ্য বাস্তাবায়ন করুন। বাজার সিন্ডিকেট ভেঙ্গে দিয়ে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন। স্বৈরাচারের দোসরদের আইনের আওতায় এনে অবিলম্বে নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন।

সভাপতির বক্তব্যে সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, বিপ্লবের পর আমাদের এই জন্মভূমি নিয়ে দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্র চলছে। দেশকে ষড়যন্ত্রের হাত থেকে রক্ষা করতে হলে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের কোন বিকল্প নেই। যেকোন ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় অতিতের মতো আগামীদিনেও বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মী মাঠে থাকবে ইনশাআল্লাহ।

আজকের সিলেট/এপি

সিলেটজুড়ে


মহানগর