শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, অধ্যক্ষ এ কে এম সফি আহমদ সলমান ও সাবেক এমপি এম এম শাহীন (বাম থেকে)।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনের নির্বাচনী মাঠ শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় জমে উঠেছে। নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই পাল্টাচ্ছে ভোটের শেষ সময়ের চুলচেরা বিশ্লেষণ। প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণায় সরগরম হয়ে উঠেছে ভোটের মাঠ। এমনকি গ্রামগঞ্জের বাজারের চায়ের দোকানে চলছে পছন্দের প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা।
এ আসনে আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূল আলোচনায় রয়েছেন নৌকার প্রার্থী কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, স্বতন্ত্র প্রার্থী সদ্য উপজেলা পরিষদ থেকে পদত্যাগ করা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ এ কে এম সফি আহমদ সলমান ও তৃণমূল বিএনপির প্রার্থী সাবেক এমপি এম এম শাহীন।
স্থানীয় ভোটাররা মনে করছেন, কুলাউড়া আসনে গত নির্বাচনে সুলতান মনসুর এমপি ছিলেন, কিন্তু তিনি খুব কম সময় ছিলেন জনগণের আশপাশে। আবার অনেকে এমপি নির্বাচিত না হতে পেরে বিদেশে পাড়ি জমান।
তবে এবার নতুন করে শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল নৌকা নিয়ে প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। ভোটের মাঠে তিনি একদম নতুন মুখ। তার রাজনীতিসহ সকল কর্ম সিলে কেন্দ্রীক। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের সিংহভাগ নেতা নৌকার পক্ষে মাঠে কাজ করছেন। ভোট চাইতে তারা সাধারণ জনগণের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। পুরো উপজেলা চষে বেড়াচ্ছেন আওয়ামী লীগসহ অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের অধিকাংশ অন্য নেতা-কর্মীরা।
এদিকে গত করোনা মহামারি, বন্যাসহ সকল দুর্যোগে অধ্যক্ষ সফি আহমদ সলমান মানুষের পাশে সব সময় অতন্দ্র প্রহরীর মতো ছিলেন। কিন্ত এবারের নির্বাচনে যারা প্রার্থী হয়েছেন - তারা কেউই এসব দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে না থাকায় সমীকরণে স্বতন্ত্র প্রার্থী অধ্যক্ষ সফি আহমদ সলমান রয়েছেন অনেকটা সুবিধাজনক অবস্থানে।
এছাড়াও সাবেক দুইবারের এমপি এম এম শাহীন তৃণমূল বিএনপির সোনালী আঁশ প্রতীক নিয়ে ভোটের মাঠে রয়েছেন সক্রিয়। জনপ্রিয় এই নেতা ২০০১ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে তৎকালীন এমপি ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সুলতান মনসুর আহমদকে পরাজিত করে দেশব্যাপী আলোচনায় আসেন। এ নির্বাচনে তিনি তার ব্যাক্তিগত জনপ্রিয়তা ও তৃণমূল বিএনপির সুবিধা কাজে লাগিয়ে নির্বাচনের বৈতরণী পার হয়ে গেলে অবাক হবার কিছুই থাকবে না।
শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় প্রার্থীসহ তাদের সমর্থকরা ব্যস্ত সময় পার করলেও ভোটারদের কেন্দ্রে উপস্থিতি বাড়াতে চেষ্টা করছেন সব প্রার্থীই। এ আসন নৌকার জন্য উর্বর হলেও এবার বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রতীক ট্রাক ও তৃণমূল বিএনপির সোনালী আঁশ প্রতীক।
এই তিনজন ছাড়াও এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি, সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল মতিন (কাঁচি), জাতীয় পার্টির আব্দুল মালিক (লাঙ্গল), বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের এনামুল হক মাহতাব (মোমবাতি), ইসলামী ঐক্যজোটের আছলাম হোসাইন রহমানী (মিনার) ও বিকল্পধারা বাংলাদেশের মো. কামরুজ্জামান সিমু (কুলা)।
প্রসঙ্গত, মৌলভীবাজার- ২ (কুলাউড়া) আসনটি একটি পৌরসভা ও ১৩ ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এ আসনে মোট ভোটার দুই লাখ ৮৫ হাজার ২১২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ৪৬ হাজার ৫০৯ জন। নারী ভোটার এক লাখ ৩৮ হাজার ৭০৩ জন।
আজকের সিলেট/ডিএম/এসটি
কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি 








