সিকৃবির সুহাসিনী দাস হলে ৫ নির্দশনা : ক্ষুব্ধ ছাত্রীরা
বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ১০:৪১

সিকৃবির সুহাসিনী দাস হলে ৫ নির্দশনা : ক্ষুব্ধ ছাত্রীরা

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৭/০২/২০২৪ ০৩:২৪:২৬

সিকৃবির সুহাসিনী দাস হলে ৫ নির্দশনা : ক্ষুব্ধ ছাত্রীরা


সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের  (সিকৃবির) ছাত্রীহলে বাইরের খাবার আনা নিষেধ করে নোটিশ জারি করা হয়েছে। গত ১১ ফেব্রুয়ারি বাইরে থেকে খাবার আনা নিষেধসহ এমন আরও পাচঁটি নির্দেশনা দিয়ে নোটিশ জারি করা হয়। এমন নির্দেশনা জারির পর থেকে হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি উল্লেখ করে অনেকে সমালোচনা করছেন।
 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নোটিশটি জারি হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের সুহাসিনী দাস হলে। ১১ ফেব্রুয়ারি হলের প্রভোস্ট সাঈদা সুলতানা এমন নির্দেশনা দিয়েছেন। এই হলে আসন সংখ্যা ৩০০। এর মধ্যে ২৫৯ জন ছাত্রী হলে থাকেন।
 

নোটিশে নির্দেশনাগুলোর মধ্যে রয়েছে, আবাসিক ছাত্রী ছাড়া কোনো বহিরাগত ছাত্রীকে হলে থাকতে দেওয়া যাবে না। যেসব ছাত্রী বহিরাগত বা অন্য হলের ছাত্রীদের প্রশ্রয় দিয়ে হলে রাখবে, তাঁদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হলে বৈদ্যুতিক সামগ্রী হিটার, রাইস কুকারসহ অন্যান্য জিনিসপত্র ব্যবহার করা যাবে না। সর্বশেষ নির্দেশনায় বলা হয়েছে, রান্না করে হল থেকে কোনো খাবার বাইরে পাঠানো এবং বাইরে থেকে পার্সেলে করে দুপুরের ও রাতের খাবার হলে আনা যাবে না।
 

হলের আরেক শিক্ষার্থী নাম পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে বাইরে থেকে খাবার না আনার নির্দেশনার প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। তবে সরাসরি ভয়ে কেউ নির্দেশনার বিষয়ে কিছু বলতে চাচ্ছেন না। তবে হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।
 

এ বিষয়ে সুহাসিনী দাস হলের প্রভোস্ট সাঈদা সুলতানা বলেন, হলের অনেকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন আবাসিক বাসাবাড়ি থেকে রান্না করা খাবার মাসিক চুক্তিতে কিনে থাকেন। এমন বাড়তি খরচ আবার সব শিক্ষার্থীর জন্য চাপও। আবার হলের কক্ষগুলোতে রান্নার সামাগ্রী নিষেধ থাকলেও সেটি একাধিকবার উদ্ধার করা হয়েছে। এতে হলের বিদ্যুতের গোলযোগ হয়। সেটি বন্ধ করতেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
 

প্রভোস্ট জানান, হলের প্রতিটি তলায় আলাদা করে রান্নার চুলা রয়েছে। সেগুলোতে ছাত্রীরা প্রয়োজনে রান্না করে খেতে পারেন। হলে ২৫৯ জন ছাত্রী থাকেন। তাঁদের প্রত্যেকের সামর্থ্য এক নয়। বাইরে থেকে অধিকাংশজন খাবার কিনে আনলে ডাইনিং চালানো সম্ভব হয় না। তবে পরীক্ষার জন্য কেউ রান্না করতে না পারলে কোনো সময় মাঝেমধ্যে বাইরে থেকে খাবার আনিয়ে থাকেন, সে ক্ষেত্রে কোনো বাধা দেওয়া হয় না।
 

এদিকে বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘সুহাসিনীর কারাগার থেকে বলছি’ শীর্ষক একটি ফেইসবুক পোস্টে প্রভোস্টের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগের কথা লিখেন হামিদা আক্তার নামের এক শিক্ষার্থী। যা কিছুক্ষনের মধ্যেই নজর কাড়ে বাকি শিক্ষার্থীদের, শেয়ার হয় শতাধিকবার।
 

ফেসুবকের সেই পোস্টে শিক্ষার্থী হামিদা আক্তার লিখেছেন, হলের বাহির থেকে সকল ধরনের খাবার অর্ডার করে আনায় রয়েছে কড়া নিষেধাজ্ঞা। মেয়েরা হলের ডাইনিং এর খাবারের বাইরে বাহির থেকে অর্ডার করা কোনো খাবার খেতে পারেন না। এদিকে সম্পূর্ণ হলে রান্নার জন্য মোট চুলা রয়েছে চারটি। হলে অবস্থানকারী ২৯০ জন শিক্ষার্থীর জন্য যা অপ্রতুল। পার্শ্ববর্তী শেখ ফজিলাতুন্নেছা হলের মত প্রতি ফ্লোরে একটি করে নতুন চুলা চাইলে প্রভোস্ট তার জবাবে বলেন, তাহলে তোমরা পাশের হলে চলে যাও। নয়ত বাহিরে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকো।

আজকের সিলেট /ডেস্ক/বার্তা/ কে.আর

সিলেটজুড়ে


মহানগর