শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন পর ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন ঘিরে উত্তাপ তৈরি হয়েছে ক্যাম্পাসজুড়ে। নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিলে ভোটের তারিখ ১৭ ডিসেম্বর ঠিক করার পর থেকেই একদল শিক্ষার্থী এর বিরোধিতা করছে। তাদের দাবি, ওই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রায় খালি থাকবে।
শিক্ষার্থীরা বলছে, ১১ ও ১২ ডিসেম্বরের সাপ্তাহিক ছুটি, ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস, ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস,এগুলো মিলিয়ে প্রায় টানা পাঁচ দিনের ছুটির পরপরই শুরু হবে দীর্ঘ শীতকালীন অবকাশ। ফলে অধিকাংশ শিক্ষার্থীই ক্যাম্পাস ছেড়ে বাড়িতে যাবেন, আর এতে ভোটদানের পরিবেশ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তফসিল ঘোষণার পর থেকেই তারা ১০ ডিসেম্বর নির্বাচন করার প্রস্তাব দিয়ে আসলেও ইসি তাতে সাড়া দেয়নি।
এ কারণে অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের ক্ষোভ জানিয়ে বয়কটের ঘোষণা দিয়েছেন। অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী আবরার বিন সেলিম লিখেছেন,‘১৭ ডিসেম্বর যদি শাকসু করা হয়, তবে সেটা শিক্ষার্থীশূন্য এক প্রহসন ছাড়া কিছুই হবে না। বাস্তবসম্মত তারিখ দিলে আমরা নির্বাচনে অংশ নিতে প্রস্তুত।’
গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী সাজ্জাদ হোসেনের ভাষায়, ‘গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার কথা বলা হলেও এমন তারিখই দেওয়া হলো, যখন অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের বেশির ভাগই থাকবে না। আমাদের বারবার অনুরোধও বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।’
কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মুস্তাকিম বিল্লাহ বলেন,‘প্রায় ৩০ বছর পর যে নির্বাচন হতে যাচ্ছে, তা যদি শিক্ষার্থীবিহীন পরিবেশে হয়, তাহলে গ্রহণযোগ্যতা কীভাবে থাকবে? ১৭ ডিসেম্বর ক্যাম্পাসে ১০-১৫ শতাংশ শিক্ষার্থীও পাওয়া যাবে না।’
তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা যায়,এমন সময় নির্বাচন করার আবেদন ইতিমধ্যে করা হয়েছে।
এদিকে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাঈম সরকার বলেন, মনোনয়ন বিতরণ, যাচাই-বাছাই ও প্রচারের মতো প্রক্রিয়াগুলো সম্পন্ন করার জন্যও সময় প্রয়োজন। অধিকাংশ শিক্ষার্থী অনাবাসিক হওয়ায় হঠাৎ প্রচারণা(১০ ডিসেম্বর নির্বাচন হলে) চালানো তাদের পক্ষে অসম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক আবুল মুকিত মোহাম্মদ মোকাদ্দেছ বলেন,‘ আমাদের লক্ষ্য অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করা। যদি দেখা যায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি সত্যিই কম হবে, পুনঃতফসিল বিবেচনা করতে পারি। তবে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনাই হবে চূড়ান্ত।’
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
শাবি প্রতিনিধি 








