স্থানীয় সরকারের নথিতে নেই, তবে কিসের ভিত্তিতে দায়িত্ব পালন করছেন একলিম?
রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ০৯:৩৭ PM

সিসিকে চলছে হরিলুট

স্থানীয় সরকারের নথিতে নেই, তবে কিসের ভিত্তিতে দায়িত্ব পালন করছেন একলিম?

আহমেদ পাবেল

প্রকাশিত: ২৪/০৫/২০২৬ ০৫:০২:২৬ PM

স্থানীয় সরকারের নথিতে নেই, তবে কিসের ভিত্তিতে দায়িত্ব পালন করছেন একলিম?


২০২৩ সাল থেকে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা পদে দায়িত্ব পালন করছেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীন। তবে তার নিয়োগের বিষয়ে কোন তথ্যই নেই স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সিটি কর্পোরেশন শাখায়। তার পরও তিনি সিসিকের বেতন-ভাতা সহ সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন। শুধু তাই নয় তিনি যোগদানের পর থেলে বর্জ ব্যবস্থাপনা শাখা দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। বর্জ্য শাখা বড়কর্তারা থেকে শুরু করে বর্জ্যবাহী গাড়ির চালকও এখন কোটিপতি। এই হরিলুট নিয়ে নগরজুড়ে তোলপাড় চলছে।

এদিকে, মন্ত্রণালয়ের নথিতে না থাকলেও তিনি কিসের ভিত্তিতে নিয়োগপ্র এটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সবশেষে কীসের ভিত্তিতে তিনি দায়িত্বপালন করছপন এবং সরকারি সুযোগ সুবিধা ভোগ করছেন তা জানতে চেয়ে সিসিকের প্রধান বর্জ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় । 

গতকাল শনিবার স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে জারি করা কারন দর্শানোর নোটিশে তাকে আগামী ৩ কর্মদিবসের মধ্যে সশরীরে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মোঃ সগীর হোসেন স্বাক্ষরিত ওই পত্রে উল্লেখ করা হয়, মোহাম্মদ একলিম আবদীন ২০২৩ সালের ৮ ডিসেম্বর থেকে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তবে কোন ভিত্তিতে তিনি ওই পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন এবং কীভাবে নানাবিধ সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন, সে সংক্রান্ত কোনো তথ্য স্থানীয় সরকার বিভাগের নথিতে পাওয়া যায়নি।

পত্রে আরও বলা হয়, বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য তাকে সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগ-এর নিকট সশরীরে উপস্থিত হয়ে কারণ দর্শাতে হবে। অন্যথায় পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীন বর্জ্য শাখায় যোগদানের পর থেকেই একটি নিজস্ব সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। আর এই সিন্ডিকেটই বর্জ্যবাহী গাড়ির তেল চুরি, সিসিকের গাড়ি ভাড়ায় দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় মাটি ভরাটের কাজ করা, ডে লেভার উপস্থিতির চেয়ে বেশী দেখিয়ে অতিরিক্ত বিল উত্তোলন সহ বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। এই সিন্ডিকেট সক্রিয় সদস্য সিসিকের বর্জ্য সুপারভাইজার ফারুক ও গাড়ি চালক পিচ্চি বাবুলও এখন কোটিপতি। নামে বেনামে তারাও হয়েছেন কাড়ি কাড়ি টাকার মালিক।

সিসিকের বর্জ্য শাখার এসব অনিয়ম নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পরই মুলত লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। তবে শুধুমাত্র একলিম আবেদীনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার উদ্যোগ নেয়া হলেও রহস্যজনক কারনে এখনো ধরাছোঁয়ার বাহিরে রয়েছেন ফারুক ও পিচ্চি বাবুলরা।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে সিসিকের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীন বলেন, এ বিষয়ে সিইও মহোদয়ের কাছ থেকে তথ্য নিতে হবে। আমার দপ্তরে সংশ্লিষ্ট কোনো চিঠি পৌঁছেনি।

এ বিষয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাই রাফিন সরকার-এর বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ততার কথা বলে মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন এবং ফোন কেটে দেন।

তবে সিসিকের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কারন দর্শানোর নোটিশকে চ্যালেঞ্জ করে বলেন, তার নিয়োগ সংক্রান্ত সকল নথিপত্র রয়েছে, বিষয়টি সঠিক নয়।

আজকের সিলেট/এপি

সিলেটজুড়ে


মহানগর