আল্লাহর কাছে বেশি বেশি রহমত কামনা করা উচিত
বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৩৮ AM

রহমতের দশকের চতুর্থ দিন

আল্লাহর কাছে বেশি বেশি রহমত কামনা করা উচিত

শাহিদ হাতিমী

প্রকাশিত: ১৫/০৩/২০২৪ ০২:৪৭:৫৯ AM

আল্লাহর কাছে বেশি বেশি রহমত কামনা করা উচিত


রামজানের চতুর্থ দিন অতিবাহিত হচ্ছে উম্মতে মুহাম্মদীর মাঝে। রামজানের প্রথম এই ১০ দিনকে রহমতের দশক বলা হয়। এমন কোনো বান্দা নেই, যে আল্লাহ তাআলার রহমত ছাড়া নাজাত লাভ করবে। আর আল্লাহ তাআলা নিজেও তার রহমত হতে নিরাশ হতে বারণ করেছেন। তাই এই দশকে বেশি বেশি তাঁর রহমত কামনা করা সবার উচিত। পবিত্র কুরআনের সুরা বাকারাতে বর্ণিত হয়েছে- ‘রামজান মাস’ই হল সে মাস, যে মাসে কুরআন নাযিল করা হয়েছে, যা মানুষের জন্য হেদায়েত এবং সত্যপথ যাত্রীদের জন্য সুস্পষ্ট পথ নির্দেশ এবং ন্যায় ও অন্যায়ের মাঝে পার্থক্য বিধানকারী।” রহমতের দশকে আমরা যেনো বঞ্চিত না হই আমাদের সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহর অবারিত দয়া তথা রহমত লাভ থেকে।

আল্লাহর তাআলার এমন কোনো বান্দা নেই, যে তাঁর রহমত ছাড়া মাগফিরাত পাবে কিংবা নাজাত লাভ করবে। আর আল্লাহ তাআলা নিজেও তার রহমত হতে নিরাশ না হতে সুসংবাদ দিয়েছেন। না গরম, না ঠাÐা মৌসুম হওয়াতে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার অনেকটা উৎসাহ উদ্দীপনার সাথে সিয়াম সাধনায় মগ্ন দেখা যাচ্ছে মুসলিমসমাজ। মুসলিম উম্মাহ আল্লাহর রহমত পেতে সদা-সর্বদা তাঁর স্মরণে থাকা চাই। রমজানের চতুর্থদিন রোজাদারকে আসমানি চার কিতাবের বর্ণ সমান সাওয়াব প্রদান করা হয়। বস্তুত, ইবাদত- বন্দেগির মাধ্যমে আত্মশুদ্ধির যে সুযোগ বছরের এ মাসটিতে মুমিনের জন্য থাকে, তা সারা বছর আর কখনো পাওয়া যায় না।

৪র্থ রোজায় আল্লাহ তাআলার রহমত লাভের জন্য কায়মনে আমরা নীচের দোয়াটি পাঠ করতে পারি- “হে আল্লাহ! এ দিনে আমাকে তোমার নির্দেশ পালনের শক্তি দাও। তোমার জিকিরের মাধুর্য আমাকে আস্বাদন করাও। তোমার অপার করুণার মাধ্যমে আমাকে তোমার কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের জন্য প্রস্তুত কর। হে দৃষ্টিমানদের মধ্যে শ্রেষ্ট দৃষ্টিমান। আমাকে এ দিনে তোমারই আশ্রয় ও হিফাজতে রক্ষা কর।”

রামজানের চতুর্থ দিনে ইফতার প্রসঙ্গে কিছু আলোকপাত উচিত মনে করছি। কেননা রামজানে গুরুত্বপুর্ণ একটা সময় ব্যয় হয় বাহারী ইফতারের আয়োজনে। 

রোজাদারের জন্য ইফতার করা সুন্নত। রোজা শেষ করার উদ্দেশ্যে সূর্যাস্তের পরে পানাহার করাকে ইফতার বলে। আর পানাহার করার সামগ্রীকে বলে ইফতারি। ইফতারিত পানি পান করে রোজা ভাঙলেও ইফতারের সুন্নত আদায় হয়ে যায়। তবে, খেজুর দিয়ে ইফতার করা মোস্তাহাব। কারণ, মহানবী সা. খেজুর দিয়ে ইফতার শুরু করতেন। আনাস বিন মালেক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘নবী সা. নামাজের আগে কয়েকটি কাঁচা খেজুর খেয়ে ইফতার করতেন। যদি কাঁচা খেজুর না থাকত, তাহলে শুকনো খেজুর দিয়ে। যদি শুকনো খেজুরও না থাকত তাহলে কয়েক ঢোক পানি দিয়ে।’(তিরমিজি; রোজা অধ্যায়: ৬৩২)।

উম্মতদেরও তিনি খেজুর দিয়ে ইফতার করতে উৎসাহিত করেছেন। সালমান ইবনে আমির রাযি. বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল­াহ সা. বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ রোজা রাখলে খেজুর দিয়ে যেন ইফতার করে, খেজুর না হলে পানি দিয়ে; নিশ্চয় পানি পবিত্র। (আহমদ, তিরমিজি, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ ও দারেমি; আলফিয়্যাতুল হাদিস: ৫৬২, পৃষ্ঠা: ১৩১-১৩২) ।

সময় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইফতার করাো একটা জরুরী বিষয়। অনতিবিলম্বে ইফতার করা মহানবী সা.-এর গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। হজরত সাহল ইবনে সাদ রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল­াহ সা. বলেন, ‘যতদিন মানুষ অনতিবিলম্বে ইফতার করবে, ততদিন তারা কল্যাণের মধ্যে থাকবে’ (সহিহ বুখারি: ১৮২১; সহিহ মুসলিম: ১৮৩৮)।

অন্যত্র বর্ণিত হয়েছে- ‘দ্বীন ততদিন পর্যন্ত ঠিক থাকবে, যতদিন পর্যন্ত মানুষ সময় হলে তাড়াতাড়ি ইফতার করবে। কেননা, ইহুদি-খ্রিস্টানরা বিলম্বে ইফতার করে’ (আবু দাউদ: ২৩৫৫) ।

উল্লেখিত বর্ণনাসমূহ থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট হয় যে, সময় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে খেজুর বা পানি খেয়ে অথবা যতটুকু ইফতার করলে তাৎক্ষণিক ক্ষুধা নিবারণ হয়, তা খেয়ে মাগরিবের নামাজ পড়ে নেওয়া উত্তম। নামাজ থেকে ফিরে এসে চাহিদামত আরো ইফতার নেওয়া যায়। তবে, ইবাদতে আলস্য বা অসুবিধা হতে পারে এতো বেশি খাওয়া জরুরি নয়। ইফতারের আগে-পরে দোয়া, ইফতারের আগের মুহূর্তটি অতি মূল্যবান। এটি দোয়া কবুলের সময়। নবী করিম সা. ইরশাদ করেছেন, ‘তিন ব্যক্তির দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। ন্যায়পরায়ণ শাসক, রোজাদার যখন সে ইফতার করে ও নির্যাতিত ব্যক্তির দোয়া’ (ইবনে মাজাহ: ১৭৫২)।

তিনি আরও বলেছেন- ‘ইফতারের সময় রোজাদারের ন্যূনতম একটি দোয়া অবশ্যই কবুল হয়।’ (ইবনে মাজাহ: ১৭৫৩)।

হাদিস অনুযায়ী, ইফতারে বেশ আগে থেকে ইফতারি নিয়ে বসে দোয়া-মোনাজাতে মশগুল থাকা দরকার। ইফতারির আয়োজনে ব্যস্ত থেকে অনেকেই এ মোবারক সময়ের দোয়া থেকে নিজেকে বঞ্চিত করে। এ বিষয়ে আমাদের সচেতন হওয়া উচিত। আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে দোয়া দরুদ পাঠসহ নফল নামাজ আদায় এবং যাবতীয় অন্যায় কাজ থেকে মুক্ত থেকে রোনাজারি করার মাধ্যমে তার রহমত লাভের তাওফিক দান করুন। সিয়াম- সাধনার মাস রমজানের প্রথম দশক দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে, তাই প্রত্যেকের উচিত বেশি বেশি ক্ষমা প্রার্থনার মাধ্যমে নাজাতের পথ প্রশস্ত করা। আল্লাহ পাক আমাদের সবাইকে রমজানের ওসিলায় মাফ করুন। রহমত দান করুন। (চলবে)

লেখক : জৈষ্ট সহ সম্পাদক, আজকের সিলেট ডটকম।

সিলেটজুড়ে


মহানগর