হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় দিনদুপুরে অস্ত্রের মুখে দুই নারী শিক্ষিকার স্বর্ণালঙ্কার ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আক্তার মিয়া (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে রামদা ও ছুরিসহ গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত আক্তার মিয়া হবিগঞ্জ সদর উপজেলার উচাইল গ্রামের মৃত আশরাফ উদ্দিনের ছেলে।
বুধবার সকালে নবীগঞ্জ পৌর শহরের গন্ধ্যা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যরা মোটরসাইকেলযোগে নবীগঞ্জ বাজার এলাকায় ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে অবস্থান করছিল। তাদের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয়রা বিষয়টি নজরে আনেন। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নবীগঞ্জ থানার এসআই জয়ন্ত কুমার রায় তালুকদারের নেতৃত্বে একদল পুলিশ গন্ধ্যা এলাকায় অভিযান চালিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় আক্তার মিয়াকে আটক করে। এ সময় তার সঙ্গে থাকা একটি ব্যাগ তল্লাশি করে একটি রামদা ও একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের তথ্যমতে, আক্তার মিয়ার বিরুদ্ধে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন থানায় ছিনতাই, মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে অন্তত ছয়টি মামলা রয়েছে।
এর আগে একই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গত ১৮ মে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল শহরে অভিযান চালিয়ে খালেদ আহমদ নামে আরও এক সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ উপজেলার গৌরাবাড়ি গ্রামের বশির আলীর ছেলে।
পুলিশ ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ মে সকাল ৮টার দিকে আউশকান্দি ইউনিয়নের পর্বতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা শিল্পী রানী পাল স্কুলে যাওয়ার পথে নবীগঞ্জ পৌর এলাকার জয়নগর এলাকায় মোটরসাইকেলযোগে আসা তিন যুবকের কবলে পড়েন। তারা পিস্তল ও দেশীয় অস্ত্র দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তার কানে থাকা প্রায় সাড়ে তিন আনা ওজনের স্বর্ণের দুল এবং গলায় থাকা প্রায় সাত আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়।
একই দিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বেতাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা লাকী রানী দাস রিকশাযোগে বিদ্যালয়ে যাওয়ার সময় স্কুলের সামনে পৌঁছালে মোটরসাইকেলে থাকা তিন যুবক তার পথরোধ করে। পরে রামদা দেখিয়ে ভয় দেখিয়ে তার গলায় থাকা প্রায় ছয় আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।
একই দিনে প্রকাশ্যে দুই নারী শিক্ষিকার স্বর্ণালঙ্কার ছিনতাইয়ের ঘটনায় নবীগঞ্জজুড়ে আতঙ্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। পরে দুই শিক্ষিকা পৃথকভাবে নবীগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করে। ভুক্তভোগীদের দেওয়া তথ্য এবং বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে অভিযানে নামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
নবীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) দুলাল মিয়া গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ছিনতাই চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আজকের সিলেট/এপি/প্রতিনিধি
নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি 








