মৌলভীবাজারে নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করায় জেলায় দীর্ঘস্থায়ী বন্যার শঙ্কা অনেকটাই কেটে গেছে। মনু, কুশিয়ারা, ধলাই ও জুড়ী নদীর পানি কমতে থাকায় পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। তবে মনুর কিছু অংশে এখনও পানি বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে।
শনিবার সকাল থেকে জেলার নদীগুলোর পানি আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, নতুন করে অতি ভারী বৃষ্টিপাত না হলে নদীর পানি পুনরায় বাড়ার আশঙ্কা নেই।
পাউবো সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার জেলার প্রায় সব নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে থাকলেও শনিবার সকাল থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করেছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মনু নদের পানি রেলওয়ে ব্রিজ পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৯০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ধলাই নদীর পানি বিপৎসীমার ২৬২ সেন্টিমিটার এবং জুড়ী নদীর পানি বিপৎসীমার ২২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে মনুর অন্য একটি পয়েন্টে পানি এখনও বিপৎসীমার ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে।
উজানের পাহাড়ি ঢলের কারণে রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের উজিরপুর ও একামধু এবং কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের শিকরিয়া এলাকায় মনুর বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ভাঙা বাঁধ দিয়ে প্রবল স্রোতে পানি প্রবেশ করে নিম্নাঞ্চল তলিয়ে যায়।
বন্যায় জেলার ৪৫টি গ্রামের প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। তলিয়ে গেছে অসংখ্য বাড়িঘর, রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি। অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য উঁচু স্থানে চলে গেছে। দুর্গত এলাকায় সরকারি ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন ওলিদ বলেন, জেলার নদীগুলোর পানি দ্রুত কমছে। যেসব স্থানে বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেগুলো দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন করে ভারী বৃষ্টি না হলে বন্যা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বন্যা মোকাবিলায় ১৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছাদু মিয়া বলেন, পানিবন্দি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং তাদের মধ্যে শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় কন্ট্রোল রুম চালু রয়েছে এবং দুর্গতদের জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুত আছে।
তিনি জানান, বর্তমানে জেলার নয় আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ৪শ মানুষ অবস্থান করছেন। এ ছাড়া রাজনগর উপজেলার বন্যাকবলিত মানুষের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুই মেট্রিক টন চাল বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি 








