আজ ৭ রামজান। রহমতের দশক শেষের পথে। ক্যালেন্ডার অতিক্রম করছে ১৪৪৫ হিজরী মোতাবেক ২০২৪ ঈসায়ী। আলহামদুলিল্লাহ, এযাবত আমরা ৭টি রোজা রাখতে সক্ষম হয়েছি। মানে আমাদের থেকে রামজানের প্রথম সপ্তাহ বিদায়। নেকির দিন বা ভালো সময়গুলো চটজলদি ফুরিয়ে যায়। অথচ, আমরা গাফিল থেকে যাই।
রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, ‘মাহে রামজানের প্রতি রাতেই একজন ফেরেশতা ঘোষণা করতে থাকেন, ‘হে পুণ্য অন্বেষণকারী! অগ্রসর হও। হে পাপাচারী! থামো, চোখ খোলো।’ তিনি আবার ঘোষণা করেন, ‘ক্ষমাপ্রার্থীকে ক্ষমা করা হবে। অনুতপ্তের অনুতাপ গ্রহণ করা হবে। প্রার্থনাকারীর প্রার্থনা কবুল করা হবে।’
এ মাসে আল্লাহর দরবারে মাগফিরাত কামনা করলে, গরিব-দুঃখীদের প্রতি দান-সদকার পরিমাণ বাড়িয়ে দিলে, নিজে সব ধরনের খারাপ কাজ পরিহার করলে, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য ইবাদত-বন্দেগি, জিকির-আজকার, তাসবিহ-তাহলিল, কোরআন তিলাওয়াত ও দোয়া-ইস্তেগফার করলে, মহান আল্লাহ তা অবশ্যই কবুল করেন।
আমরা জানি রামজান মাস বরকত-রহমত, মাগফিরাত ও ক্ষমার মাস। এ মাস মহান আল্লাহর কাছে শ্রেষ্ঠ মাস। এ মাসের দিনগুলো সবচেয়ে সেরা দিন, এর রাতগুলো শ্রেষ্ঠ রাত এবং এর ঘণ্টাগুলো শ্রেষ্ঠ ঘণ্টা। এ মাস এমন এক মাস যে মাসে মানুষ রোজা রাখা ও প্রার্থনা করার মাধ্যমে আল্লাহর মেহমান হিসেবে আমন্ত্রিত হয়েছে।
আল্লাহ রাব্বুল-আলামিন আমাদেরকে এ মাসে বিভিন্নভাবে সম্মানিত করেছেন। এ মাসে আমাদের প্রতিটি নিঃশ্বাস মহান আল্লাহর গুণগান করার বা জিকরের (সওয়াবের) সমতুল্য; এ মাসে আমাদের ঘুম প্রার্থনার সমতুল্য, এ মাসে আমাদের সৎকাজ এবং প্রার্থনা ও দোয়াগুলো কবুল করা হয়। তাই মহান আল্লাহ যেন আমাদেরকে আন্তরিক ও পবিত্রচিত্তে প্রার্থনা করার রোজা রাখার এবং কোরআন তেলাওয়াত করার তৌফিক দান করেন।
আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ইবাদত ও সৎকর্মের মাধ্যমে এই রমজানের ফজিলত আমরা পূর্ণভাবে অর্জন করতে পারি। মহান আল্লাহ এই রমজান মাসে আমাদের উপর রহমত, রবকত ও মাগফেরাত প্রদান করুন এবং আমাদের জাহান্নাম থেকে নাজাত প্রদান করুন (আমিন)।
রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, ‘এ মাসে চারটি কাজ অবশ্য করণীয়। দুটি কাজ এমন যে, তার দ্বারা তোমাদের প্রতিপালক সন্তুষ্ট হন। অবশিষ্ট দুটি এমন, যা ছাড়া তোমাদের কোনো গত্যন্তর নেই। এই চারটির মধ্যে একটি হলো কালেমায়ে শাহাদাত পাঠ করা, দ্বিতীয়টি হলো অধিক পরিমাণে ইস্তেগফার বা ক্ষমা প্রার্থনা করা। এ দুটি কাজ আল্লাহর দরবারে অতি পছন্দনীয়। তৃতীয় ও চতুর্থ হলো জান্নাত লাভের আশা করা ও জাহান্নাম থেকে পরিত্রাণের প্রার্থনা করা। এ দুটি এমন বিষয়, যা তোমাদের জন্য একান্ত প্রয়োজন, (ইবনে খুজাইমা)।
আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আর তিনিই (আল্লাহ) তাঁর বান্দাদের তওবা কবুল করেন এবং পাপগুলো ক্ষমা করে দেন’ (সূরা আশ শুরা: ১৫)। অতএব, মুমিন বান্দাদের উচিত রহমতের দশকটি আমল-ইবাদত, প্রার্থনা-মোনাজাতে কাটিয়ে আলাহ তায়ালার ক্ষমা রহমত লাভে ধন্য হওয়া। (চলবে)
লেখক : জৈষ্ঠ সহ সম্পাদক, আজকের সিলেট ডটকম।
শাহিদ হাতিমী 








