মহিমান্বিত রামজানের আজ তেরোতম দিবস অতিবাহিত হচ্ছে। রামজান পাওয়া, রোযা রাখতে সক্ষমতা অর্জন করাটা আল্লাহ প্রদত্ব এক মহান নেয়ামত। ১৩ তম রোজার ফজিলত সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে, ‘হাশরের ময়দানের সকল বিপদ থেকে নিরাপদ করা হবে।’
হাদিস শরীফে এসেছে, হযরত আবু হুরায়রা রাযি. বলেন, রাসুল সা. বলেছেন, যখন রামজানের প্রথম রাত আসে শয়তান ও অবাধ্য জিনদের শৃঙ্খলে আবদ্ধ করা হয়। দোজখের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। অতপর এর কোনো দরজাই খোলা হয় না। বেহেশতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়। অতঃপর এর কোনো দরজাই বন্ধ করা হয় না।
মাগফিরাতের এ দশকে আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাহদের গোনাহ ক্ষমা করবেন। আল্লাহর ক্ষমা লাভ করে তাকওয়া অর্জনের জন্য একটি দোয়া তুলে ধরা হলো- উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ত্বাহহিরনি ফিহি মিনাদ্দানাসি ওয়াল আক্বজার; ওয়া সাব্বিরনি ফিহি আ’লা কাইনাতিল আক্বদার; ওয়া ওয়াফফিক্বনি ফিহি লিত্তাক্বা ওয়া সুহবাতিল আবরার; বিআ’ওনিকা ইয়া কুররাতা আ’ইনিল মাসাকিন।
অর্থ : হে আল্লাহ! এদিনে আমাকে কলুষতা ও অপবিত্রতা থেকে পবিত্র কর। যা কিছু তকদির অনুযায়ী হয় তা মেনে চলার ধৈর্য আমাকে দান কর। তোমার বিশেষ অনুগ্রহে আমাকে তাকওয়া অর্জন এবং সৎ কর্মশীলদের সাহচর্যে থাকার তৌফিক দাও, হে অসহায়দের আশ্রয়দাতা।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, পবিত্র রামজান উপলক্ষে জান্নাতকে অপূর্ব সুগন্ধি দিয়ে সুরভিত করা হয়। বছরের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত জান্নাতকে রমজানের সম্মানার্থে কান্তিময় ও সুসজ্জিত করা হয়। রামজানের প্রথম রাতে আরশের তলদেশ হতে সুমধুর বাতাস বয়ে যায় । জান্নাতি হাওয়া প্রবাহে জান্নাতের পত্র-পল্লব, নব নব কিশলয় ও স্বর্গতোরণের কড়া সমূহ হেলতে দোলতে আরম্ভ করে। ক্রমেই জান্নাতের মাঝে এমন হৃদয়স্পর্শী সুরলহরীর গুঞ্জন শোনা যাবে যে এরূপ মনোমুগ্ধকর সুর পূর্বে আদৌ কর্ণকুহরে গুঞ্জরিত হয়নি। ডাগর ডাগর চোখ বিশিষ্ট ঈর্ষণীয় হুর আত্মপ্রকাশ করবে।
গতকাল আমাদের আলোচনা কিছুটা আলোকপাত করা হয়েছে দ্রব্যমুল্যের দূর্ণীতি নিয়ে। বক্তব্যের ফিনিশিংয়ের জন্য আজকেও এ প্রসঙ্গে কিছুটা উল্লেখ করতে হচ্ছে।
দ্রব্যমূল্য নির্ধারণের নীতিমালা প্রসঙ্গে ‘বাহরুর রায়েক’ গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘সরকার যখন দ্রব্যমূল্য নির্ধারণ করতে চাইবে, তখন সংশ্লিষ্ট পণ্যের বাজারের গণ্যমান্য লোকদের একত্র করবে। ক্রেতাসাধারণকে সরকার উপস্থিত করবে। বিক্রেতারা কী দামে বিক্রি করছে এবং ক্রেতারা কী দামে কিনছে, তা জিজ্ঞেস করে সত্যতা যাচাই করবে। এরপর উৎপাদক-আমদানিকারক-ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হয় না, আবার ক্রেতাসাধারণের ক্রয়ক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে না যায়এমনভাবে মূল্য নির্ধারণ করে দেবে।
পরিশেষে বলতে চাই, মানুষের দৈনন্দিন জীবনে ক্রয়-বিক্রয়ে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখা, বাজার নিয়ন্ত্রণ ও মজুদদারি সম্পর্কে ইসলামী দৃষ্টিকোণ রয়েছে। খাদ্য ও পণ্যের উৎপাদনকারী ও ব্যবসায়ীরা অস্বাভাবিকভাবে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি করতে পারেন না। যদি কেউ এমন অপরাধ করেন তবে ইসলামের দৃষ্টিতে আত্মসাৎকারী হিসেবে সাব্যস্ত হবেন।
ইসলামী বিধানে রাষ্ট্রীয়ভাবে বাজার নিয়ন্ত্রণ, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, মজুদদারি, কালোবাজারি ও যাবতীয় অসাধু উপায় রোধ, ব্যবসায়ীদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সংরক্ষণ প্রভৃতি দায়িত্ব সম্পাদনের জন্য বিশেষজ্ঞ কর্মচারী নিয়োগের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বাজার পর্যবেক্ষণ ও পরিদর্শনের দায়িত্বে যারা আছেন বা থাকবেন তাদের সততা, কর্তব্যনিষ্ঠা এবং জবাবদিহিতাও নিশ্চিত করতে হবে।
জান্নাতের স্বচ্ছ-সফেদ আলীশান বালাখানায় দাঁড়িয়ে কেউ ঘোষণা করবে, আল্লাহর সান্নিধ্যে প্রাপ্ত কোন সুপ্রিয় বান্দা আছো কি? যে, আমাদের সঙ্গে পরিণয় সূত্রে আবদ্ধ হওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে, আল্লাহর দরবারে দরখাস্ত করবে। অতঃপর হুর ও হুর-বালাগণ জান্নাতের প্রহরী ‘রিদওয়ানের’ নিকট জিজ্ঞেস করবে এটা কোন রাত্রী? তিনি বলবেন এটা রামজানের প্রথম রাত। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মতের জন্য জান্নাতের দরজা খোলে দেয়া হয়েছে।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ পাক রিদওয়ানকে বলবেন : আহমদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রোজাদার উম্মতের জন্য জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দাও (আততারগীব লিল মুনযিরী)। আল্লাহ তাআলা মাগফিরাতের দশকে মুমিন বান্দাকে আত্মিক পবিত্রতা সঙ্গে ন্যয় ও ইনসাফে সুসজ্জিত হওয়ার তাওফিক দান করুন। মুসলিম উম্মাহকে মহান ক্ষমা করুন, আমিন। (চলবে...)
লেখক : জৈষ্ঠ সহ সম্পাদক, আজকের সিলেট ডটকম।
শাহিদ হাতিমী 








