তারাবীহ নামাজে উদাসীনতা দূর করতে হবে
বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:২১ AM

মাগফিরাতের দশকের চতৃর্থ দিন

তারাবীহ নামাজে উদাসীনতা দূর করতে হবে

শাহিদ হাতিমী

প্রকাশিত: ২৫/০৩/২০২৪ ০২:৩৮:১৫ AM

তারাবীহ নামাজে উদাসীনতা দূর করতে হবে


মহান আল্লাহর অপার করুণায় আজকে আমরা ১৪তম রোজা রেখেছি। মাগফিরাতের দশকের আজ ৪র্থ দিন। মাগফিরাতের এ দশকে রমজান মাসের প্রতিটি মুহূর্তে আল্লাহর রহমত ও মাগফিরাতের বৃষ্টি বর্ষিত হতে থাকে। আল্লাহ তায়ালা অসংখ্য-অগণিত মানুষকে এই দশকে ক্ষমা করবেন। তবে যারা রমজানের এই কল্যাণময় সময়গুলোও অবহেলা ও উদাসীনতায় দূরে ঠেলে দেয় তারাই বঞ্চিত থাকে আল্লাহর রহমত ও অনুগ্রহ থেকে।

রামজানের প্রথম দশক অতিবাহিত হওয়ার পর দেখা যাচ্ছে মসজিদে মসজিদে মুসল্লীগণের আনাগোনা কিছুটা কমে যাচ্ছে। বিশেষ করে তারাবীহ নামাজ আদায়ে তরুণদের মাঝে এটি লক্ষ্য করা গেছে। মনে হচ্ছে যেনো, যুবকদের মাঝে একপ্রকার উদাসীনতা কাজ করছে। আমলে উদাসীনতা শয়তানের ধোঁকা। কতিপয় লোককে দেখা যায়, তারাবীহ নামাজ কয়েক রাকাআত শেষ হলে তবে মসজিদে আসে। কিছু লোক রয়েছে,  যাঁরা বিশ রাকাআত আদায় না করে, কয়েক রাকাআত পড়ে বের হয়ে যায়! খামখেয়ালি বা অলসতাকে ধাক্কা দিয়ে দূরে ঠেলে দিতে হবে! নবীজি সা. বলেন, ‘যে ব্যক্তি খাটি ঈমান ও ইখলাসের সঙ্গে রামজানের রাতে (তারাবিতে) দাঁড়িয়ে যাবে আল্লাহ তার পূর্ববর্তী সব গুনাহ মাফ করে দেবেন।’ (মুসলিম : ৫২৩)।

রমজানের এ দশকে আমরা মাগফিরাত থেকে বঞ্চিত হতে চাই না। রোজা, কোরআন তিলাওয়াত, তারাবি, তাহাজ্জুদ, দান-সদকা, তওবাহ, ইস্তেগফার, দোয়া, দরুদসসহ পূণ্যকর্মের মাধ্যমে মুমিন বান্দাদের পাপ ক্ষমা করানোর সুবর্ণ সুযোগ পবিত্র মাহে রামজনুল মোবারক। হজরত আবু হুরায়রা রা. বলেন, রমজান মাস লাভকারী ব্যক্তি যে উত্তমরূপে সিয়াম ও কিয়াম (রোজা, তারাবি ও অন্যান্য আমল) পালন করে, তার প্রথম পুরস্কার এই যে, সে রামজান শেষে গুনাহ থেকে ওই দিনের মতো পবিত্র হয় যেদিন মায়ের গর্ভ থেকে ভূমিষ্ঠ হয়েছিল। (মুসলিম : ৮৯৬৬)।

হজরত রাসুলে কারিম সা. এরশাদ করেন, রামজান মাসে সিয়াম পালন পূর্ববর্তী রমজান থেকে কৃত গুনাহসমূহকে মিটিয়ে দেয়; যদি কবিরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা হয়’। (মুসলিম : ২৩৩)। হজরত রাসুলুল্লাহ সা. এরশাদ করেন, ‘রামজান মাসে সিয়াম পালন বছরের দশমাস সিয়াম পালন তুল্য’। (মুসলিম : ১১৬৪)।

রাসুলুল্লাহ সা. বলেন, যে ব্যক্তি রামজান মাস পেলো, কিন্তু এই মাসেও তাকে ক্ষমা করা হলো না সে আল্লাহতায়ালার রহমত থেকে চিরবঞ্চিত ও বিতাড়িত। (মুসতাদরাকে হাকিম : ১৭০)।

হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় রমজানের রোজা আদায় করবে তার পূর্ববর্তী সব গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে, (মুসলিম : ৫২৩)। 

মাগফিরাতের এই দশকে আমরা বেশি বেশি করে তওবাহ, ইস্তেগফার, কোরআন তিলাওয়াত, দান সদকা ও দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করার চেষ্টা করি। মাগফিরাতের এই দশকে মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের ক্ষমা করে দিন। আমিন। আসুন, একে অপরের কল্যাণ চাই, মাগফেরাতের জন্যও দোয়া করি। (চলবে.....)

লেখক : জৈষ্ঠ সহ সম্পাদক, আজকের সিলেট ডটকম।

সিলেটজুড়ে


মহানগর