আজ ১৫ রামজান। পনেরো রামজান মানে পবিত্র রামজান মাসের অর্ধেক ইতি। আল্লাহর রহম ও করমে রামজান মাস পরিপূর্ণ হলে ৩০টি রোজা রাখবো আমরা। আর ২৯ রোজায় শেষ হলে মাত্র ১৪টি রোজা সামনে। রামজানে ছোট ছোট আমলে বেশি বেশি নেকি পাওয়া যায়। এই ধরুন ইফতার, কাউকে ইফতার করাতে খুব আয়োজন করার কোনো মানে নেই। রোজাদার সূর্যাস্তের পর যে পানাহারের মাধ্যমে রোজা ভাঙে, তাকে ইফতার বলে। রামজানের অন্যতম সুন্নত হলো ইফতার। ইফতারের সময় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইফতার করা উত্তম। এ ছাড়া ইফতার সামনে নিয়ে যে দোয়া করা হয়, সেই দোয়া মহান আল্লাহর দরবারে গুরুত্বের সঙ্গে কবুল হয় বলে হাদিস শরিফে উল্লেখ রয়েছে। খেজুর দিয়ে ইফতার করা উত্তম। যদি তা সম্ভব না হয় তাহলে যেকোনো মিষ্টিজাত খাদ্যপণ্য দিয়ে ইফতার করা সুন্নাত।
রাসুলুল্লাহ সা. মিষ্টিজাত জিনিস দিয়ে ইফতার করতেন! আর যদি এটাও সম্ভব না হয় তাহলে যেকোনো হালাল খাদ্য দিয়ে, এমনকি শুধু পানি দিয়েও ইফতার করা যায়। কিন্তু কুরআন হাদীসের কোথাও বরই দিয়ে ইফতার করার কথা আমরা পাইনি। খেজুর স্বভাবজাত মিষ্টি ফল, আর বরই কখনো কখনো মিষ্টি হলেও বাংলাদেশে ফলে এমন বরইগুলা সাধারণত টক হয়ে থাকে! সুতরাং টক জিনিস দিয়ে ইফতার করার কথা যারা বলেন, তাদের জন্য দ্বীনি জ্ঞান অর্জন করা বড্ড প্রয়োজন। পরিতাপের বিষয় হলো, ক'দিন আগ সংখ্যাগরিষ্ট মুসলমানদের জন্মভূমি বাংলাদেশের তথাকথিত এক সুশীল এবং রাষ্ট্রের একজন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীল খেজুরের দাম বেড়ে যাওয়ায় জনগণকে 'বরই' দিয়ে ইফতার করার ঘোষণা দেন! বাংলায় একটি প্রবাদ আছে "আদার বেপারী জাহাজের কী খবর জানেন"! মুসলিম দেশে ইসলামি জ্ঞানে পরিপক্ব লোক রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া উচিত। বরই দিয়ে ইফতার করার কথা বলে ঐ মন্ত্রী সাহেব রাসুলুল্লাহ সা. এর হাদীস এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাতকে অবজ্ঞা করেছেন। আমরা তাকে মহান আল্লাহর দরবারে তাওবা করে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি।
রাসুলে করিম সা. এরশাদ করেছেন, তোমরা যখন ইফতার করো, তখন খুরমা বা খেজুর দিয়ে ইফতার করো, কেননা খুরমা বা খেজুরের মধ্যে বরকত রয়েছে, আর যদি খুরমা বা খেজুর না পাও, তাহলে পানি দিয়ে ইফতার করা ভালো, কেননা পানি পবিত্রকারী। হাদিসে পানিমিশ্রিত দুধ দিয়ে ইফতার করার হুকুমও বর্ণিত রয়েছে। পবিত্র রামাজান মাসে আল্লাহর বান্দারা পারস্পরিক উত্তম আমলের প্রতিযোগিতা করে। রোজাদারকে ইফতার করানোও অত্যন্ত সওয়াবের কাজ।
আল্লাহর রাসুল সা. ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে সে ওই রোজাদারের সমপরিমাণ সওয়াব পাবে এবং রোজাদারের স্বীয় সওয়াব কমানো হবে না।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৮০৭)।
সাহাবায়ে কেরাম এ কথা শুনে বললেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ! আমাদের অনেকেরই রোজাদারকে ইফতার করানোর সামর্থ্য নেই। রাসুলুল্লাহ সা. বললেন, পানিমিশ্রিত এক কাপ দুধ বা একটি শুকনো খেজুর অথবা এক ঢোক পানি দিয়েও যদি কেউ কোনো রোজাদারকে ইফতার করায়, তাতেও আল্লাহ তাকে সেই পরিমাণ সওয়াব দান করবেন। আর যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে তৃপ্তিসহকারে আহার করাবে, আল্লাহ তাআলা তাকে আমার হাউসে কাউসার থেকে এমন পানীয় পান করাবেন, যার ফলে সে জান্নাতে প্রবেশ করার আগ পর্যন্ত তৃষ্ণার্ত হবে না।
১৫ তম রোজার মধ্য দিয়ে আজ আমরা রামাজানের ১ম ভাগ শেষ করছি! আর মাত্র ১৫টি রোজা পরিপূর্ণ করতে পারলে রামাজান মাস সম্পন্ন হয়ে যাবে।
আসলে রামাজান চলাকালে আমরা যদি নিজেকে পরিশীলন করতে না পারি তাহলে আর কখন করবো! পবিত্র রামজানে প্রায় প্রতিদিনই কিছু বিশেষ দোয়া পাঠের কথা কিতাবে এসেছে। আজকের ১৫তম রোজায় আমরা নীচের দোয়াটি পাঠ করতে পারি। হে আল্লাহ! এদিনে আমাকে তোমার বিনয়ী বান্দাদের মতো আনুগত্য করার তাওফিক দাও । তোমার আশ্রয় ও হেফাজতের উসিলায় আমার অন্তরকে প্রশস্ত করে খোদাভীরু ও বিনয়ী বান্দাদের অন্তরে পরিণত করো। হে খোদাভীরু মুত্তাকীদের আশ্রয়দাতা । আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে রমজান মাসের রোজা পালন, ইবাদাত-বন্দেগি ও দোয়া ইসতেগফারের মাধ্যমে তাঁর প্রকৃত ও পছন্দের বান্দা হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন। (চলবে....)
লেখক : জৈষ্ঠ সহ সম্পাদক, আজকের সিলেট ডটকম।
শাহিদ হাতিমী 








