ফিতরা কেন দিবেন, কাকে দিবেন?
বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৪০ AM

নাজাতের দশকের পঞ্চম দিন

ফিতরা কেন দিবেন, কাকে দিবেন?

শাহিদ হাতিমী

প্রকাশিত: ০৫/০৪/২০২৪ ০৩:২৮:০৭ AM

ফিতরা কেন দিবেন, কাকে দিবেন?


আজ ২৫ রামাজান। আর মাত্র ৫টি রোজা রয়েছে আমাদের সামনে। মুসলমানদের ঘরে ঘরে এখন চলছে ঈদকে বরণের প্রস্তুতি। ঈদের এই প্রস্তুতিতে বা আনন্দের ঢেউয়ে প্রায় সময় অনেকে ফিতরা আদায়ের কথা ভুলে যান। অথচ ফিতরা একটি বড় ফরজ আমাদের জন্য। ফিতরা ধনী গরীব সবাইকে দিতে হয়। রাসুলুল্লাহ সা. ঈদের দিন ঈদগাহের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পূর্বেই ফিতরা আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন উম্মতকে। পাঠকদের সামনে আজ আমরা আলোচনা করবো ফিতরা প্রসঙ্গে।

টাকা-পয়সা দ্বারা ফিতরা না দেয়ার চেয়ে খাদ্যদ্রব্য দ্বারা ফিতরা দেয়া উত্তম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর যুগে মুদ্রা হিসেবে দিনার এবং দিরহামের প্রচলন ছিল এবং সে কালেও ফকির ও মিসকিনদের তা প্রয়োজন হত। তা দ্বারা তারা জিনিস-পত্র ক্রয়-বিক্রয় করত। তা সত্ত্বেও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুদ্রা দ্বারা ফিতরা নির্ধারণ না করে খাদ্য দ্রব্য দ্বারা নির্ধারণ করেছেন। হাদীস মতে, খাদ্যবস্তু দ্বারাই ফিতরা আদায় করা সুন্নাত। আর এটাই অধিকাংশ উলামায়ে কেরামের মত।

ইবনে ওমর রা. বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ সা. স্বীয় উম্মতের ক্রীতদাস ও স্বাধীন, নারী ও পুরুষ, ছোট ও বড় সকলের উপর মাথা পিছু এক ‘সা’ পরিমাণ খেজুর বা যব ফিতরা হিসাবে ফরয করেছেন এবং তা ঈদগাহের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পূর্বেই আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন’। (বুখারী-মুসলিম, মিশকাত হা/১৮১৫)। 

তাই ফিতরা আদায় করতে হবে প্রত্যেকের জন্য মাথাপিছু এক ‘সা’ খাদ্যশস্য দিয়ে। ‘সা’ হচ্ছে তৎকালীন সময়ের এক ধরনের ওজন করার পাত্র। নবী করীম স. এর যুগের ‘সা’ হিসাবে এক ‘সা’ তে সবচেয়ে ভাল গম দুই কেজি চল্লিশ গ্রাম হয়। বিভিন্ন দ্রব্যের নিজস্ব ওজনের ভিত্তিতে ‘সা’ এর ওজন বিভিন্ন হয়। এক 'সা' চাউল প্রায় দুই কেজি পাঁচশ গ্রাম হয়। তবে ওজন হিসাবে এক ‘সা’ গম, যব, ভুট্টা, খেজুর ইত্যাদি দুই কেজি দুইশ পঁচিশ গ্রামের কিছু এদিক সেদিক হয়ে থাকে। তাই সতর্কতা হিসেবে তিন কেজি নির্ধারণ করা ভালো।

ফিতরা কেন দিবেন? কাকে দিবেন?

১) একজন রোজাদার ব্যক্তির রোজা পালন করতে গিয়ে যেসব ত্রুটি-বিচ্যুতি হয়ে যায়, যার কারণে রোজা তার ভঙ্গ হয়ে যায় না, কিন্তু রোজার ত্রুটি হয়। রোজার এ ত্রুটি মার্জনার জন্যই সাদাকাতুল ফিতর; যেমন একজন রোজাদার ব্যক্তি দিনের বেলায় পানাহার করেনি, স্ত্রী ব্যবহার করেনি, যার কারণে তার রোজা নষ্ট হয়নি, কিন্তু পরনিন্দা চর্চা করেছে, অশ্লীল কথাবার্তা বলেছে, অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা বলেছে, এতে রোজার ত্রুটি হয়েছে। এ থেকে রোজাকে পরিচ্ছন্ন ও পরিশুদ্ধ করার জন্যই সাদাকাতুল ফিতর।

২) গরীব-দরিদ্র মানুষগুলো এই সমাজেরই মানুষ। তারা সারা বছরই দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করে নিদারুণ কষ্টের মধ্যে থাকে। তারা কমপক্ষে ঈদের দিনের একদিন যাতে ঈদ আনন্দে সকলের সাথে শরীক হতে পারে; এজন্য তাদের কিছু খাদ্য ও বস্ত্রের ব্যবস্থা করে দেয়া।

৩) দীর্ঘ এক মাস উপবাস থাকার পর আল্লাহ মেহেরবাণী করে ঈদের দিনে পানাহারের অনুমতি দিয়েছেন, তারই শুকরিয়াস্বরূপ সাদাকাতুল ফিতর। আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোজাকে অপ্রয়োজনীয় ও অশ্লীল কথাবার্তা ও কার্যকলাপ থেকে পরিচ্ছন্ন করার জন্য এবং মিসকীনদের কিছু খাদ্যের ব্যবস্থা করার জন্য যাকাতুল ফিতর ফরজ করেছেন। (আবু দাউদ, ইবনে মাজা, বায়হাকী)।

অন্য হাদীসে রয়েছে : ‘তাদের আজকের দিনে মানুষের বাড়ি বাড়ি ঘুরা থেকে অমুখাপেক্ষী রাখ’ (বায়হাকী, দারুকুতনী)। আলোচনা মোতাবেক আমল করতে পারলেই হয়। আল্লাহ আমাদেরকে রামাজানের সকল হক সঠিকভাবে আদায় করার জন্য কবুল করুন। শুধু ঈদের প্রস্তুতিগ্রহন নয়, বরং আসুন নাজাতের দশকে জাহান্নাম থেকে মুক্তির ঘোষণা পেতে আরো নিমগ্ন হয়ে ইবাদত বন্দেগি করি। ওমা তাওফিকী ইল্লা বিল্লাহ। (চলবে....)

লেখক : জৈষ্ঠ সহ সম্পাদক, আজকের সিলেট ডটকম।

সিলেটজুড়ে


মহানগর