গতরাতে বা লাইলাতুল কদরে যেভাবে ইবাদতে আমাদের মনযোগ ছিল, সবসময় এভাবেই ইবাদতে নিমগ্ন থাকা জরুরী মুমিনদের জন্য। আজ ২৭ রামজান। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমি পবিত্র আল- কুরআনকে কদরের রাতে নাজিল করেছি। তুমি কি জান, কদরের রাত কি? কদরের রাত হাজার মাস হতেও উত্তম-কল্যাণময়’ (সূরা আল কদর, ১-৩)। এ রাতটি কোন মাসে? এ ব্যাপারে আল কুরআন আমাদেরকে জানাচ্ছে- ‘রামাজান এমন মাস যাতে কুরআন নাযিল হয়েছে-’ (বাকারা : ১৮৫)। লাইলাতুল কদর। হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ ও পবিত্রতম এক অনন্য রজনী। লাইলাতুল কদর আমাদের সমাজে শবে কদর নামে অধিক পরিচিত। বস্তুত শবে কদর আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে বান্দাদের জন্য এক মহান নিয়ামত।
শবে কদর প্রাপ্তি মুমিন জীবনের অন্যতম সেরা প্রাপ্তি। এই রাতের রয়েছে অপরিসীম গুরুত্ব, অমূল্য মর্যাদা ও বহুবিধ বৈশিষ্ট্য।
মহান আল্লাহ তায়ালা মহিমান্বিত এই রজনীতেই পবিত্র কোরআন অবতীর্ণ করেন; হেরা পর্বতের গুহায় ধ্যানমগ্ন মুহাম্মদ (সা.) এর কাছে প্রথম পৌঁছান মুক্তির বাণী ‘ইকরা বিসমি রাব্বিকাল্লাজি খালাক’। এই রাতের মাহাত্ম্য বর্ণনা করতে গিয়ে পবিত্র কোরআন শরিফের সূরা কদরে আল্লাহ পাক বলেন, ‘লাইলাতুল কাদরি খাইরুম মিন আলফি শাহ্র’। অর্থাৎ হাজার মাসের চেয়ে সর্বোত্তম এই রাত।
এ রাতে শেষ আসমানে এসে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তার বান্দাদের উদ্দেশে বলতে থাকেন, ‘তোমাদের মাঝে এমন কে আছো, যে আমার কাছে নাজাত চাও? কল্যাণ চাও? তোমাদের মধ্যে কে আছো, যে মুক্তি চাও?’ গতরাতে আমরা শবেকদর মনে করে যে পরিমাণ আল্লাহ বিল্লাহ করেছি, সেটি তখনই কাজে লাগবে যখন আমল বা ইবাদতগুলো যথারীতি ধারাবাহিক ভাবে আদায় হবে। হুজুগে হয়ে হয়তো কোনো অনুষ্ঠান বা কোনো উৎসব সফল করা যায়, কিন্তু ইবাদতের ক্ষেত্রে হুজুগ চলে না। ইবাদত করতে হবে ইসলামি সিষ্টেম বা পদ্ধতিতেই। সারারাত মনগড়া আমল আর ইবাদত যতোই করবেন, মহান আল্লাহর দরবারে এই আমলিয়াত বা ইবাদত কবুল না হলে এগুলো সময় অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয়।
আসুন নিয়তকে পরিশুদ্ধ করি। আমাদের প্রতিটি কাজ নিয়তের ওপর নির্ভর করে। যার নিয়ত যত বেশি পরিশুদ্ধ হবে, সে তত বেশি কাজে সফলতা অর্জন করবে। পক্ষান্তরে যার নিয়ত অপরিশুদ্ধ, তার কর্মেও সফলতা আসবে না। সুতরাং কাজের শুরুতে নিয়ত বা ইচ্ছাকে ঠিক করতে হবে। নিয়তবিহীন পরিশ্রম স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে পারে না। কারণ, স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে হলে আগে পরিকল্পনা ঠিক করতে হয়। তাই ইসলাম ধর্ম প্রত্যেক কাজের আগে নিয়তকে ঠিক করার নির্দেশ দিয়েছে। হাদিসে আছে, সব কাজই নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। বান্দার ভালো-মন্দ ফলাফল নিয়তের ওপর নির্ভর করবে। মানুষের মনের ইচ্ছা ও কর্ম যদি পরস্পরবিরোধী হয় তখন সেখানে সফলতার আশা করা দুষ্কর। এজন্য প্রাত্যহিক জীবনে সফলতা লাভ করতে হলে অবশ্যই নিয়ত ও কর্ম উভয়টির মিল থাকতে হবে।
মহান আল্লাহ বলেন- আমি শিগগিরই শোকরগুজারদেরকে বদলা দেব। অর্থাৎ ওই সব লোককে অতি শিগগিরই বদলা দেব যারা আখেরাতের সওয়াবের নিয়তে আমল করে। (সুরা আলে ইমরান : ১৪৫)। তিনি আরও বলেন, আল্লাহ তায়ালার নিকট না ওইসব কোরবানির গোশত পৌঁছে আর না ওইগুলোর রক্ত। বরং তাঁর নিকট তো তোমাদের পরহেজগারি পৌঁছে। অর্থাৎ আল্লাহর নিকট বান্দার মনের নিয়তটাই দেখা হয়। (সুরা হজ : ৩৭)।
সুতরাং মন চাহে জিন্দেগী পরিহার করি। নাজাতের দশক শেষ হতে চলেছে। আমাদেরকে এখনই গোনাহমুক্ত জীবনে প্রত্যয় গ্রহণ করতে হবে। মহান আল্লাহর দরবারে রোনাজারি করতে হবে। জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেতে আল্লাহর কাছে কায়মনে চাইতে হবে। মনে রাখতে হবে, সময়েই সময়ের সঠিক কাজ করতে না পারলে অসময়ে আফসোস করার কোনো মানে নেই। (চলবে.....)
লেখক : জৈষ্ঠ সহ সম্পাদক, আজকের সিলেট ডটকম।
শাহিদ হাতিমী 








