রমজান বান্দার জন্য আল্লাহ প্রদত্ত সেরা এক উপহার
বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৪৬ AM

নাজাতের দশকের অষ্টম দিন

রমজান বান্দার জন্য আল্লাহ প্রদত্ত সেরা এক উপহার

শাহিদ হাতিমী

প্রকাশিত: ০৮/০৪/২০২৪ ০২:৪৩:৪৭ AM

রমজান বান্দার জন্য আল্লাহ প্রদত্ত সেরা এক উপহার


ফুরিয়ে এসেছে নেকির দিন। আসুন, কায়মনে নিজেকে সপে দেই মহান মালিকের দরবারে। তিনি মহীয়ান গরীয়ান দয়ালু অনন্ত ও অসীম। রমজান বান্দার জন্য আল্লাহ প্রদত্ত সেরা এক উপহার, এখনই চেয়ে নেই সবকিছু!

রাসুলুল্লাহ মুহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রামজানকে দোয়া কবুলের মাস বলেছেন। কেননা রমজান মাসে আল্লাহ তাআলা বান্দার সকল প্রার্থনা কবুল করে থাকেন। আজ ২৮ রমজান।  আগামীকাল ২৯ রমজান। এরপর যদি চাঁদ দেখা নিয়ে কোনো জটিলতা তৈরি না হয় তাহলে পরশু ৩০তম রোজা রাখবো আমরা। ইনশাআল্লাহ, আমরা বিশ্বাস করছি এবার রামাজান ৩০ রোজাতে পরিপূর্ণ হবে।

২৮ রমজান মানে শেষ দশকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তির অষ্টম দিন অতিবাহিত হচ্ছে আজ। রমজানের শেষ দশকের আজকের দিনে আল্লাহর নৈকট্য লাভের পথ সহজ হওয়ার একটি দোয়া তুলে ধরা হলো- উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ওয়াফ্ফির হাজ্জি ফিহি মিনান নাওয়াফিল; ওয়া আকরিমনি ফিহি বি-ইহদারিল মাসাইল; ওয়া ক্বার্রিব ফিহি ওয়াসিলাতি ইলাইকা মিন বাইনিল ওয়াসাইল; ইয়া মান লা ইয়াশগালুহু ইলহাহুল মুলিহহিন। অর্থ : হে আল্লাহ! এ দিনে আমাকে নফল ইবাদাতের পর্যাপ্ত সুযোগ দাও। ধর্মীয় শিক্ষার মর্যাদায় আমাকে ভূষিত কর। তোমার নৈকট্য লাভের পথকে আমার জন্যে সহজ করে দাও। হে পবিত্র সত্ত্বা! যাকে, অনুরোধকারীদের কোনো আবেদন-নিবেদন ন্যায় বিচার থেকে টলাতে পারে না।

নেকি অর্জনের সীমাহীন সুযোগ ও প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করে মহান চরিত্র অর্জনের উত্তম প্রশিক্ষণের মাস হচ্ছে রমজান। তাকওয়া অর্জনের এ মহান মাসে মুমিনের ওপর অর্পিত হয়েছে নানান গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। রমজানের এ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব যথাযথ পালন এবং এ সুযোগের সদ্ব্যবহার করে বিশ্ব মুসলিমের উচিত নিজেদেরকে চারিত্রিক অধঃপতন থেকে হেফাজত করা। বিশেষত কুরআন অধ্যয়নের মাধ্যমে ঝিমিয়ে পড়া চেতনাকে জাগ্রত করা এবং সকল প্রকার অযাচিত কাজের বলয় থেকে মুক্ত থেকে পরকালের চিরস্থায়ী জীবনের সফলতা অর্জনে আল্লাহর নিকট দোয়া করা।

এ প্রসঙ্গে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ছোট্ট একটি উদ্ধৃতি তুলে ধরা হলো- হজরত আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, (রমজানে) প্রতি দিন ও রাতে (জাহান্নাম থেকে) আল্লাহর কাছে অনেক বান্দা মুক্তিপ্রাপ্ত হয়ে থাকে। তাদের প্রত্যেক বান্দার দোয়া কবুল হয়ে থাকে (যা সে রমজানে করে থাকে)। (মুসনাদে আহমাদ)।

পবিত্র রমজান মাসে শরিয়ত কর্তৃক যে সব দায়িত্ব ও কাজ মুমিন মুসলমানের ওপর অর্পিত হয়েছে কিংবা যা পালন করতে মুসলিম উম্মাহকে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে পাশাপাশি যা থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে; সেগুলো যথাযথ পালন করে আল্লাহ তাআলার নিকট প্রার্থনা করলে আল্লাহ তাআলা অবশ্যই বান্দার প্রার্থনা কবুল করে তাকে ক্ষমা করে দিবেন। আসুন, নাজাতের দশকের শেষবেলা মহামহিম আল্লাহর নৈকট্য লাভ এবং মুক্তির ঘোষণা পেতে নিজেকে সপে দেই অধিক রোনাজারি আর বিপুল ইবাদত বন্দেগিতে। (চলবে......)

লেখক : জৈষ্ঠ সহ সম্পাদক, আজকের সিলেট ডটকম।

সিলেটজুড়ে


মহানগর