সিলেটে বছরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা, জনজীবনে নাভিশ্বাস
বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ০৭:২৩ PM

সিলেটে বছরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা, জনজীবনে নাভিশ্বাস

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬/০৫/২০২৪ ০৮:২৩:৪৬ AM

সিলেটে বছরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা, জনজীবনে নাভিশ্বাস


সিলেটে বেড়েছে তাপমাত্রা। এই জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। তীব্র গরমে জনজীবনে নেমেছে নাভিশ্বাস। স্কুলগামী কোমলমতিদের পোহাতে হচ্ছে দুর্ভোগ। গরমের জন্য আগে স্কুল তাড়াতাড়ি ছুটি হয়ে গেলেও এবার পুরোদমে ক্লাস চলছে। অনেক শিশু ক্লাসে গরমে বমি করে অসুস্থ হয়ে গেছেন বলে অভিভাবকরা অভিযোগ করেছেন। তীব্র গরমে থেকে নেই গাছ নিধনও।

বৃহস্পতিবার চলতি বছরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সিলেটের তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস । এই তাপমাত্রা চলতি বছরের সিলেটে সর্বোচ্চ বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মো.সজীব হোসাইন জানান, সিলেটে রেকর্ড করা তাপমাত্রা ছিলো ৩৭.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা এই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে বিকাল ৩টায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এদিকে, গত ৩-৪ দিন ঘরে প্রখর রোদ আর অসহ্য গরমে সীমাহীন দুর্ভোগে সিলেটের জনজীবন। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে কেউ মাথায় ছাতা দিয়ে পথ চলেছেন, কেউ আবার প্রখর রোদের মধ্যে জীবিকার তাগিদে ছুটেছেন। এই গরমে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন ঘরের বাইরে খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষ। বিশেষ করে বৃদ্ধ, শিশু ও রোগীরা এমন গরমে চরম কষ্টে আছেন। অনেককে ঠেলে দিচ্ছে মৃত্যুর দিকে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে তীব্র গরমে সিলেট নগরীর জিন্দাবাজারে এক যুবক মাথা ঘুরে পড়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। শফিকুল ইসলাম (৩৫) নামের এই যুবক মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলার নয়াগ্রামের আবু আহমেদের ছেলে। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি হিটস্ট্রোকে মারা গেছেন।  

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই তীব্র গরতে সবচেয়ে ঝুঁকিতে আছেন কৃষক, দিনমজুর, রিকশাওয়ালা এবং খেটে খাওয়া মানুষেরা। আর ঝুঁকি বয়স্কদের, বিশেষ করে যারা অন্য কোনো রোগে ভুগছেন। ঘরের ভেতরেও টেকা দায়। ফ্যানের বাতাসে প্রাণ জুড়ায় না। দাবদাহে হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন চিকিৎসকরা। শিশুদেরও এই তালিকায় রাখার কথা বলেছেন তারা।

নগরীর দাড়িয়াপাড়ার বাসিন্দা ইলিয়াস মিয়া বলেন, আমাদের পাশের বাসায় একসময় অনেকগুলো বড়ো বড়ো গাছ ছিল। সেই গাছের ছায়ায় আমাদের পুরো বাসা ছায়াঢাকা থাকতো। গতবছর মালিক গ্যারেজ করবেন বলে সবগুলো ফলদ গাছ কেটে নেন। যদিও গাছ না কেটে গ্যারেজ নির্মাণের সুযোগ ছিল। বাসার একেবারে সাইডে শুধু একটি কাঁঠাল গাছ ছিল। গত মঙ্গলবার সেই গাছও একেবারে ছাটিয়ে খালি করে ফেলেছেন। এভাবে অনেক বাসায় অপ্রয়োজনে গাছ কাটা হচ্ছে। রাস্তার জন্য গাছ কাটা হচ্ছে। এভাবে গাছ কাটলে গরম বাড়বে এটাই স্বাভাবিক।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর