সিলেটে বাজার দরের চেয়ে বেশি মূল্যে নিলামে কেনা হয় চোরাই (বুঙ্গার) চিনির চালান। সেই চিনি বাজার ছাড়া হলে আবার বিক্রি হয় কেনা দামের চেয়ে কম মূল্যে।
সিলেটে পাইকারী (আড়ৎ) বাজারে চিনির কেজি ১০২-১০৫ টাকা। খুচরা মূল্য ১২০- ১২২ টাকা। কিন্তু জব্দকৃত চোরাচলানের চিনির চালান নিলামে বিক্রি হয় কেজিপ্রতি ১২২ টাকা ৫০ পয়সায়। তা হলে নিলামে ক্রেতারা ক্রয় মূল্যের চেয়ে কম মূল্যে চিনি বাজারে পাইকারি দামে সরবরাহ করেন? অবশ্য কম মূল্যে বিক্রি ও সরবরাহ করেন তারা। তা না হলে বাজারে মূল্য কম হয় কেমনে।
এবারও বাজার দরের চেয়ে অধিক মূল্য দিয় নিলামে চোরাই (বুঙ্গার) চিনি ক্রয় করে আলোচনার এসেছেন সিলেটের দুই ছাত্রলীগ নেতা। তারা হলেন সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মিজান আহমদ পারভেজ ও সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম স্বাধীন।
তারা ৩ টি চালানে ৮২৯ বস্তায় ৪১ হাজার ৪৫০ কেজি চিনি বাজার দরের চেয়ে অতিরিক্ত দামে নিলামে কিনে নিয়েছেন।
বুধবার (১০ জুলাই) সিলেট মেট্টোপলিটন ১ম আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট সুমন ভূঁইয়া ৩টি চিনির চালান নিলামে সর্বোচ্চ দরদাতাদের নামে বরাদ্দ দেন।
আদালত সূত্র জানায়, এসএমপির মোগলাবাজার থানা পুলিশের জব্দ করা ৩০০ বস্তা চিনি নিলামে কিনে নেন সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মিজান আহমদ পারভেজ।
নিলামে ভ্যাটসহ প্রতি কেজি চিনির দাম পড়েছে ১২২ টাকা ৫০ পয়সা।
এদিকে, এসএমপি'র এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ কর্তৃক জব্দকৃত দু’টি চিনির চালান ওই দিন একই আদালতে নিলামে ওঠে। ২৯৫ বস্তায় ১৪ হাজার ৭৫০ কেজি এবং ১১৭ বস্তায় ৫ হাজার ৮৫০ কেজি চিনির চালান একাই নিলামে কিনে নেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম স্বাধীন। সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাটসহ ২৯৫ বস্তা চিনির দাম পড়ে ১৮ লাখ ২১ হাজার ৬২৫ টাকা এবং ১১৭ বস্তা চিনি ৭ লাখ ২২ হাজার ৪৭৫ টাকায় কিনে নেওয়া হয়। এই নিলামেও দাম পড়ে বাজার দরের চেয়ে অনেক বেশি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরীর কালিঘাট পাইকারি বাজার কেজি প্রতি চিনির মূল্য পড়ে ১০২ থেকে ১০৫ টাকা। আর খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১২২ টাকায়।
কিন্তু বাজার দরের চেয়ে অধিক দর দিয়ে নিলামে চিনি নেওয়ার বিষয়টি রহস্যের সৃষ্টি করেছে।
নেপথ্যে রহস্য উদঘাটনে অনুসন্ধানকালে বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য উপাত্তে জানা গেছে, আদালত থেকে নিলামে নেওয়া চিনির চালানের কাগজ(রসিদ) ব্যবহার করা হতো চোরাচালানে। ভারত থেকে চোরাই পথে আনা চিনির চালান ধরা পড়লে নিলামের কাগজ তুলে ধরা হতো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামনে। অনেকটা রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করতো এই নিলামের কাগজ। যে কারণে চোরাকারবারিদের কাছে চিনির চেয়ে নিলাম রসিদের গুরুত্ব বেশি।
আজকের সিলেট/বার্তা/কে.আর









