নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে ঊর্ধ্বগতি: ক্রেতারা দিশেহারা
সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ০২:০৯ PM

পেঁয়াজ-বেগুনে আগুন

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে ঊর্ধ্বগতি: ক্রেতারা দিশেহারা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৪/০৭/২০২৪ ০৯:০৭:৩৬ AM

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে ঊর্ধ্বগতি: ক্রেতারা দিশেহারা


যতই দিন যাচ্ছে পেঁয়াজের ঝাঁজ যেন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। ঠেকানো যাচ্ছে না এর দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে খুচরা বাজারে কেজিতে বেড়েছে ২৫ টাকা। বেগুনসহ প্রায় সবজির দাম কেজিতে ১০-২০ টাকা বেড়েছে। আদার দামও কেজিতে ৫০-৬০ টাকা বেড়েছে।

ক্রেতারা বলছেন, আগুন লেগে গেছে বাজারে। শাকের দামও বাড়ছে। ২০ টাকায় কোনো শাকের আঁটি পাওয়া যায় না। বিক্রেতারা বলছেন, বন্যায় দেশের বিভিন্ন এলাকা ভেসে গেছে। সরবরাহ কমে গেছে। এ জন্য দাম চড়া। 

রোববার নগরীর কদমতলি, সোবহানীঘাট কাচা বাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

পেঁয়াজের কেজি ১৩০ টাকা

সিলেটের বিভিন্ন দোকানে পেঁয়াজের মজুত বাড়লেও দাম কমেনি খুচরা বাজারে। বরং সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ২৫ টাকা পর্যন্ত বেড়ে ১৩০ টাকায় কেজি বিক্রি হতে দেখা গেছে। সবজি বিক্রেতা সবুজ আলী বলেন, প্রায় প্রতিদিনই আড়তে বাড়ছে পেঁয়াজের দাম। আড়তেই পাবনার ভালো পেঁয়াজ ১১০ টাকায় কেনা হয়েছে। বাছাই করতে কিছু কম দামে বিক্রি করতে হয়। গত সপ্তাহে ১০৫-১১০ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। অন্যান্য বাজারেও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ। 

কাঁচা বাজারের বিক্রেতা হাসিব আলী বলেন, গতকাল পেঁয়াজ ১০৫ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে। যা আগের সপ্তাহে ছিল সর্বোচ্চ ৯৭ টাকা। তবে ফরিদপুরের পেঁয়াজ পাইকারিতে কিছুটা কমে ৯৪ টাকায় কেজি বিক্রি হতে দেখা গেছে। এ জন্য খুচরা বাজারেও কম দামে ১০০-১১০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট বিক্রেতারা জানান।

কমেনি আলুর দাম

ব্যাপক উৎপাদনের পরও আলুর দাম ধরা চোয়ার বাইরে। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, বর্ষা মৌসুমে অনেক এলাকা ডুবে গেছে। তাই আলুর ওপর চাপ পড়েছে। দাম বাড়ছে এ জন্য।

বিভিন্ন বাজারে দেখা গেছে, পাইকারিতে মুন্সীগঞ্জের আলু ৫৫-৫৮ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। একটু দূরেই খুচরা বাজারে তা ৬৫ টাকা। তবে বগুড়া ও দিনাজপুরের আলু একটু কম দামে ৬০ টাকা কেজি বিক্রি হতে দেখা গেছে। 

২০ টাকার নিচে মেলে না শাকের আঁটি

বর্ষার অজুহাতে কমছে না কাঁচা মরিচের দাম। গত সপ্তাহের মতোই ২৫০ গ্রাম ৭০-৮০ টাকা বা কেজি ২৮০-৩০০ টাকা বিক্রি হতে দেখা গেছে। খুচরা বিক্রেতারা জানান, আগের সপ্তাহের মতো বৃষ্টির কারণে প্রায় সবজির দাম কেজিতে ১০-২০ টাকা বেড়ে গেছে। বেগুন ৯০-১৩০ টাকা, পটোল, ঝিঙে, ধুন্দুল ৫০-৭০ টাকা, করলা ৭০-৮০ টাকা, শসা ৮০-১০০ টাকা, লেবুর হালি ২০-৩০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ৫০-৭০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ৩০-৪০ টাকা, লাউ ও চালকুমড়ার পিস ৭০-১০০ টাকা। কচুরলতির কেজি সর্বোচ্চ ১০০ টাকা, কচুমুখী ৮০-১০০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা কেজি। সবজির মতো শাকের দামও চড়ে গেছে আঁটিতে ৫-১০ টাকা। গত সপ্তাহের ৩০ টাকার লাউয়ের ডগা ও পুঁই শাকের আঁটি ৪০ টাকা হয়ে গেছে। লাল শাক, পাট ও কচু শাকের আঁটিও ২০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। 

চাল আগের মতোই চড়া 

বর্ষার অজুহাতে গত সপ্তাহে আটাশ ও মোটা চালের দাম খুচরা বাজারে কেজিতে ২-৩ টাকা বেড়েছে। এ সপ্তাহেও চড়া রয়ে গেছে। আগের মতোই মিনিকেট ৬৮-৭২ টাকা। খুচরা বিক্রেতারা জানান, ডায়মন্ড, মোজাম্মেলসহ অন্য কোম্পানির চালের দাম ৭০-৭২ টাকা। আগের সপ্তাহের মতো আটাশ চাল ৫৫-৫৮ টাকা ও মোটা চাল ৫৫ টাকা কেজি বিক্রি করছেন খুচরা বিক্রেতারা।

কমেনি মসলার দাম

গত সপ্তাহে ঈদের পর জিরার দাম কিছুটা বেড়েছে। এ সপ্তাহে তা কমেনি। আগের মতোই ৮০০-৯০০ টাকা কেজি জিরা, এলাচি ৩৪০০-৪০০০ হাজার টাকা, গোলমরিচ ১১০০, লবঙ্গ ১৬০০-১৮০০ টাকা কেজি। আগের মতোই ছোলা ১১০ টাকা, বোতলজাত সয়াবিন তেলের লিটার ১৬৭ টাকা, পাঁচ লিটার ৭৯০-৮১০ টাকা, খোলা আটার কেজি ৪০ টাকা, ২ কেজি আটা ১০০-১২০ টাকা, খোলা চিনি ১৩০, প্যাকেট চিনি ১৩৫ টাকা, দেশি প্যাকেটজাত চিনি ১৭০ টাকা কেজি। বিভিন্ন বাজারে আগের মতো ১৫০ টাকা ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু বিভিন্ন পাড়ার দোকানে এখনো ১৫৫-১৬০ টাকা ডজন বিক্রি করা হচ্ছে বলে অনেকে অভিযোগ করে জানান। 

স্থিতিশীল মুরগি, কমেছে গরু-খাসির দাম 

আগের সপ্তাহের মতো গতকাল পোলট্রি মুরগি ১৬৫-১৭৫ টাকা কেজি, সোনালি মুরগি ৩১০-৩২০ টাকা ও দেশি মুরগি ৬০০-৬৫০ টাকা কেজি বলে। অন্য খুচরা বিক্রেতারাও জানান, গত সপ্তাহ থেকে বাড়েনি মুরগির দাম। কোরবানির ঈদের পর গরু খাসির মাংসের দামও কিছুটা কমেছে। কেজিতে ২০-৫০ টাকা কমেছে। বিভিন্ন বাজারে গরুর মাংস ৭৩০-৭৫০ টাকা ও খাসির মাংস ১০০০-১০৫০ টাকা কেজি বিক্রি করতে দেখা গেছে। 

মাছের দাম বাড়তি

মুরগির দাম কমলেও মাছের দাম চড়া। বিক্রেতারা জানান, আগে কম দামে বিক্রি করা হলেও বর্তমানে বন্যার ফলে নদীর মাছ কমে গেছে। এ জন্য দাম বেশি। তারা জানান, রুই, কাতলা ৩৫০-৭০০ টাকা কেজি, চাষের চিংড়ি ৫৫০-৭০০ টাকা, নদীর চিংড়ি ১২০০-১৬০০ টাকা কেজি। পাবদা ৫০০-৭০০ টাকা, শিং, মাগুর ৪০০-৬০০ টাকা কেজি। চাষের ট্যাংরা ৬০০-৭০০, দেশি ট্যাংরা ১০০০-১২০০ টাকা, কাচকি ও মলা মাছ ৫০০-৭০০ টাকা, বাতাসি ৭০০ টাকা-১২০০ টাকা কেজি। পাঙাশ ও তেলাপিয়া ২০০-২৮০ টাকা কেজি। পানি না কমলে মাছের দামও কমবে না বলে বিক্রেতারা জানান।

আজকের সিলেট/ডি/এপি

সিলেটজুড়ে


মহানগর