সুনামগঞ্জে বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ০৩:২০ PM

সুনামগঞ্জে বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

শাহ্ মাশুক নাঈম, দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) থেকে

প্রকাশিত: ১৪/০৭/২০২৪ ০৯:১৪:০৮ AM

সুনামগঞ্জে বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি


প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেন নিত্যসঙ্গী হয়ে পড়েছে সুনামগঞ্জ জেলাবাসীর। প্রতিবছর বন্যায় হানা দিচ্ছে এ অঞ্চলের মানুষকে। টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সৃষ্টি হচ্ছে ভয়াবহ বন্যার। এভাবে প্রতিবছরই একাধিকবার বন্যার কবলে পড়ছেন জেলাবাসী। 

বিগত ২০২২ সালের প্রলয়ংকারী বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ হয় ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, ফসল, মৎস্য ও গবাদিপশুর। সেই ক্ষয়ক্ষতির রেশ না কাটতেই চলতি বছরে আবারো দুই দফা বন্যার কবলে পড়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন সুনামগঞ্জবাসী। বানের পানিতে বিধ্বস্ত হয়ে গেছে রাস্তাঘাট, তলিয়ে গেছে স্বপ্নের ফসল। সবকিছু হারিয়ে বিপাকে পড়েছেন জেলার কয়েক লক্ষাধিক মানুষ। কিভাবে এই ক্ষতি পুষিয়ে উঠবেন সেই দুশ্চিন্তায় নির্ঘুম রাত কাটছে ক্ষতিগ্রস্থদের। শূন্য পকেটে পরিবারের খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছে তারা।

এদিকে সুনামগঞ্জে বন্যার পানি যতই কমছে ততই ভেঁসে উঠছে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র। টানা অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট দুইবারের বন্যায় এবার রাস্তাঘাট, কৃষি ও মৎস্যখাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অনেক জায়গায় স্রোতের কবলে পড়ে বিধ্বস্ত হয়ে গেছে রাস্তাঘাট। জেলা সদরের জন্য বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে উপজেলাবাসীর যোগাযোগ ব্যবস্থা। এছাড়াও বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে কৃষকদের আউশ ধান, সবজি, আমনের চারা সেই সাথে ভেসে গেছে পুকুরের মাছ। তবে দীর্ঘমেয়াদী বন্যার কারনে এখনো ঘরবাড়ি ও গবাদিপশুর ক্ষয়ক্ষতির পরিমান নির্ধারন করা যায় নি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। 

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কুরবানগর ইউপি’র বাসিন্দা হুমায়ুন জানান, দুই দফা বন্যায় আমাদের চলাচলের একমাত্র রাস্তাটি ভেঙ্গে তছনছ হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন দুর্ভোগ নিয়ে চলাফেরা করার পর গত বছর রাস্তাটি সংস্কার করা হয়েছিলো। বন্যার পানিতে রাস্তাটি ভেঙ্গে যাওয়ায় আমাদের কয়েকটি গ্রামের মানুষকে আবারো দুর্ভোগ নিয়ে চলাফেরা করতে হবে। 

সদর উপজেলার জানিগাও গ্রামের মৎস্যচাষী আলমগীর জানান, বন্যার পানিতে আমার পুকুরের প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার মাছ ভেসে গেছে। অনেক চেষ্টা করার পরও পুকুরে মাছ আটকে রাখতে পারি নি। সবকিছু হারিয়ে এখন আমি নিঃস্ব। সরকারী সহযোগিতা ছাড়া বেঁচে থাকার উপায় খুঁজে পাচ্ছি না।

দোয়ারাবাজার উপজেলার আজমপুর গ্রামের আব্দুল মালিক জানান, বন্যায় পানিতে তলিয়ে আমার ৪০০ হেক্টর আউশ ধান ও আমন ধানের বীজ (জালা) নষ্ট হয়ে গেছে। প্রতিবছর এভাবে বন্যার কারনে আমরা ক্ষতিগ্রস্থ হই। মনে হচ্ছে কৃষি পেশা ছেড়ে দিতে হবে। 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিমল চন্দ্র সোম জানান, সুনামগঞ্জ জেলায় এ বছর আউশ ধানের আবাদ হয়েছিলো প্রায় ৭ হাজার ৬১৪ হেক্টর। যার মধ্যে বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে প্রায় দুই হাজার হেক্টর। গ্রীষ্মকালীণ শাকসবজি আবাদ হয়েছিলো ৩ হাজার ৩৭৭ হেক্টর পানিতে তলিয়ে গেছে ৭০০ হেক্টর। চলতি বন্যায় কৃষকদের প্রায় ৪৫ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।  

মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ শামছুল করিম জানান, টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে মৎস্য চাষীদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ২ দফা বন্যায় জেলার প্রায় ৮২০০ পুকুরের মাছ ভেসে গিয়ে ৭৫ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। 

সড়ক ও জনপদ বিভাগের নিবার্হী প্রকৌশলী মো: আশরাফুল ইসলাম প্রাং জানান, টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার সড়কগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এছাড়ও বিভিন্ন জায়গার ব্রীজ ও কালভার্টের এপ্রোচের বিভিন্ন অংশ ধ্বসে গেছে । বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ সড়ক মেরামতে প্রকল্প গ্রহন করা হবে বলে জানা তিনি।l

আজকের সিলেট/ডি/এপি

সিলেটজুড়ে


মহানগর