আবহাওয়ার পূর্বাভাসে মাঝারী থেকে ভারী বর্ষণের আভাস থাকলেও গত ৩ দিন ধরে সিলেটে তুলনামূলকভাবে কমেছে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ। একইসাথে ভারতের চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টিপাত কমার ফলে প্রতিদিনই কমছে পানি। ধীরগতিতে পানি কমায় দীর্ঘায়িত হচ্ছে জনদুর্ভোগ।
যদিও এরই মধ্যে আগামী ২৪ ঘন্টায় সিলেটে মাঝারী থেকে ভারী বর্ষণের আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এদিকে গত তিনদিন ধরে ভারীবর্ষণ না হওয়ায় ও ভারতের উজানের ঢল বন্ধ থাকায় সিলেটের সকল এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে বিভিন্ন এলাকায় খুবই ধীর গতিতে কমছে পানি। এতে সীমাহীন দুভোর্গের মধ্যে পড়েছেন বন্যার্তরা। বিশুদ্ধ পানি, খাবার ও গবাদি পশুর খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
রোববারও সিলেটের ২টি পয়েন্টে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এছাড়া সিলেটের সবকটি পয়েন্টে নদ-নদীর পানি কিছুটা কমেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড পাউবো সিলেট অফিস জানিয়েছে, রোববার সন্ধ্যা ৬টায় কানাইঘাট পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ৩ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। গত ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে এই পয়েন্টে পানি কমেছে ২৪ সে.মি.।
এদিকে রোববার সন্ধ্যা ৬টায় ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদসীমার ৭৬ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে এই পয়েন্টে পানি কমেছে মাত্র ৩ সে.মি.।
সিলেট পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি ২৪ ঘন্টায় কমেছে ১৬ সে.মি.। এই সময়ে অমলসীদ পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি কমেছে ১৭ সে.মি. ও শেওলা পয়েন্টে কমেছে ১৫ সে.মি.। জেলা প্রশাসন জানায়, জেলার ১৩ উপজেলার ৯৮ ইউনিয়ন ও ৫ পৌরসভায় বন্যায় মোট আক্রান্ত রয়েছেন ৫ লাখ ৮৮ হাজার ২৮৭ জন। এর মধ্যে রোববার পর্যন্ত আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন ৮ হাজার ৮০২ জন। প্লাবিত ১৩ উপজেলায় ৬৫০ টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এরমধ্যে ২১৩টি আশ্রয় কেন্দ্রে বন্যার্তরা রয়েছেন।
সিলেটে আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজিব জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘন্টায় সিলেটে ১৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাস জানান, এখনও সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি ২ পয়েন্টে বিপদসীমার উপরে রয়েছে। তবে পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টি না থাকায় অন্যান্য নদীর বিপদসীমার নিচে রয়েছে। সিলেটের জেলা প্রশাসক শেখ রাসেল হাসান বলেন, এভাবে ভালো আবহাওয়া অব্যাহত থাকালে বন্যা পরিস্থিতি আরও উন্নতি হবে।
এদিকে সিলেটসহ দেশের সব বিভাগে বৃষ্টির আভাস দিয়ে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর বলেছে, দেশজুড়ে সামান্য বাড়তে পারে দিন ও রাতের তাপমাত্রা। রাষ্ট্রীয় সংস্থাটি রোববার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এমন তথ্য জানিয়েছে। পূর্বাভাসে সিনপটিক অবস্থা নিয়ে বলা হয়, মৌসুমি বায়ুর অক্ষ পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।
রোববার সকাল থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার বৃষ্টিপাত নিয়ে বলা হয়, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগের অনেক জায়গা এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দুই-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে।
আজকের সিলেট/ডি/এপি









