ভারতের চেরাপুঞ্জিতে ও স্থানীয়ভাবে বৃষ্টিতে গোয়াইনঘাট উপজেলার নিম্নান্ঞ্চলসহ অনেক উঁচু এলাকায় আমনের বীজতলা পানিতে তলিয়ে গেছে । অনেক বীজতলা ক্ষতিগস্ত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে অনেক চাষি উচু জায়গা খুঁজে বীজতলা তৈরি করে বীজ বপনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়,এ বছর উপজেলায় আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ১৭৮৩৩ হেক্টর জমি নির্ধারণ করা হয়েছে।বীজতলার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯৪২ হেক্টর।এ পর্যন্ত ৪৫৫ হেক্টর অর্জন হয়েছে।
পানি নেমে গেলে বীজতলার লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হয়ে যাবে বলে জানায় উপজেলা কৃষি অফিস।
জানা যায়, শ্রাবণের মাঝামাঝি থেকে ভাদ্রের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত আমনের চারা রোপণ করা হয়। বীজতলা করা হয় আষাঢ়ের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত। এবারও চাষিরা সময়মতো বীজতলা তৈরি করেছিলেন। তবে গত সপ্তাহ থেকে ভারি বর্ষণে নিচু এলাকার সব বীজতলা ডুবে যায় আর অনেক এলাকার বীজতলা এখনো পানির নিচে।
সরেজমিনে ঘুরে কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়,বীজতলা প্রস্তুত ও বীজ বপনে তারা পানির কমার অপেক্ষায় রয়েছেন।পানি কমলেও বন্যা সহনশীল উফসী জাতের একান্ন বায়ান্ন ধান আর বীজ তলায় ফেলা যাবে না, সময় কমে গেছে বলে তারা জানান।স্বল্প মেয়াদী নতুন জাত ও স্হানীয় জাতের ধান আবাদ করবেন।
কৃষক আরব আলী বলেন, এ বছর ৫ একর জমিতে আমন চাষের পরিকল্পনা করেছিলাম।১৫ দিন আগে বীজতলা তৈরি করেন। এখন বীজতলায় হাটু পানি থই থই করছে।বর্তমানে সেই বীজ দিয়ে
উঁচু জায়গা খুঁজে বাহির করে,ভর দুপুরে বীজতলা প্রস্তুত করছেন।ঘরে উফশি জাতের ৫১ ধানের জালা রাখা।এদিকে আষাঢ় মাস শেষ হয়ে যাচ্ছে।আষাঢ় মাসের ভিতরে তিনি বীজ বপন করতে কাজ করছেন।
কৃষক সিরাজুল জানান, অধিকাংশ চাষির বীজতলা পানির নিচে। তাই অনেকে নতুন করে উঁচু জায়গা খুঁজে বীজতলা তৈরির চেষ্টা করছেন। এতে খরচ বাড়বে।
অনেকে ভালো বীজতলা জোগাড় করতে পারছেন না। নতুন বীজতলার চারা রোপণের উপযোগী হতে সময় লাগবে। প্রয়োজনের সময় যেমন পানি সরছে না, তেমনি সময়মতো চারা রোপন করা যাবে না। এদিকে চতুর্থ দফা বন্যায়,উপজেলার ৩০ হেক্টর বীজতলার চারা পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে বলে কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়।
আজকের সিলেট/ডি/এপি
গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি 








