বাগান-বাড়ি সবই সামলান নারী চা শ্রমিকরা
সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ০৩:২৯ PM

বাগান-বাড়ি সবই সামলান নারী চা শ্রমিকরা

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৬/০৭/২০২৪ ০৯:১৮:১৩ AM

বাগান-বাড়ি সবই সামলান নারী চা শ্রমিকরা


মাধবপুর উপজেলার ৫টি চা বাগানে সবচেয়ে বেশি শ্রম দিচ্ছেন এখানকার নারী চা শ্রমিকরা। রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে নিয়মিত বাগানে কাজ করে যাচ্ছেন তারা। তবে চা বাগানের উৎপাদন আর উপার্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা নারী চা শ্রমিকদের সংসার চলছে টানাপড়েনের মধ্য দিয়ে।

ঘরে বাইরে সমান তালে কাজ করে যাচ্ছেন মাধবপুরের বিভিন্ন চা বাগানের নারী শ্রমিকরা। তাদের অনেকেই বাগানের কাজের বাইরেও বাড়তি কাজ করেন সংসার চালানোর জন্য। সকাল ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বাগানে কাজ করেন তারা। নারী শ্রমিকরা জানান, যে পরিমাণ কাজ তাদের করতে হয়, সে তুলনায় যে মজুরি আর রেশন পাচ্ছেন, তা দিয়ে সংসার সামলানো কঠিন। এখন বাজারের যে অবস্থা, তাতে এই মজুরি দিয়ে আর চলে না। অপুষ্টিকর খাবার খেয়ে এবং অপর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবার কারণে তাদের অনেকেই বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত।

মাধবপুর উপজেলার সুরমা চা বাগানে নিয়মিত শ্রমিক ২ হাজার ১৭০ জন। তেলিয়াপাড়া চা বাগানে ৭৭৬ জন, নোয়াপাড়া চা বাগানে ৮৪০ জন, জগদীশপুর চা বাগানে ৬৯০ জন এবং বৈকুণ্ঠপুর চা বাগানে ৪০৯ জন। ৫টি চা বাগানে কাজ করছেন মোট ৪ হাজার ৮৮৫ জন শ্রমিক। যাদের মধ্যে অর্ধেকই নারী চা শ্রমিক।

সুরমা চা বাগানের চা শ্রমিক নারী সর্দার গোমতী গোয়ালা জানান, চা বাগানের নারী শ্রমিকরা বাগানে কঠোর পরিশ্রম করে থাকেন। ভোরে ঘুম থেকে উঠে তাদের সাংসারিক কাজকর্ম শুরু হয়। পরিবারের জন্য রান্না শেষে সকাল সাড়ে ৭টার মধ্যে ঘর থেকে বের হয়ে যেতে হয়। বাগানের মধ্যে উচুঁ-নিচু টিলা বেয়ে নারী শ্রমিকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চা পাতা উত্তোলন করেন। চা বাগানের ভেতর জোঁক, সাপ, ব্যাঙসহ বিভিন্ন কীটপতঙ্গের ভয় থাকে। এসব উপেক্ষা করেই এই নারীদের জীবনযুদ্ধ চলে।

শ্রমিকরা জানান, একজন নারী শ্রমিক ২৪ কেজি চা পাতা সংগ্রহ করতে পারলে তার ১৭০ টাকা হাজিরা উঠানো হয়। যখন চা গাছে কম পাতা থাকে তখন ২৪ কেজি পাতা উঠাতে কষ্ট হয়ে যায়। কমে আসে মজুরির পরিমাণও।

নোয়াপাড়া চা বাগানের মালতি সাঁওতাল জানান, সকালে ঘর থেকে বের হয়ে সন্ধ্যায় ফেরেন তারা। ঘর থেকে বাগান অনেক দূরে থাকায় নারী শ্রমিকদের পায়ে হেঁটে ক্লান্ত শরীর নিয়ে বাড়ি ফিরতে হয়। দুপুরের খাবার খান বাগানেই। তেলিয়াপাড়া চা বাগানের নারী শ্রমিক অমরি ভুমিজ বলেন, নারী শ্রমিকরা বাগানের মধ্যে অনেক পরিশ্রমের কাজ করেন। তারা কাজের মধ্যে কোনো ধরনের অলসতা দেখায় না। তবে যে পরিমাণে রেশন পাওয়া যায় তা পরিমাণে খুব কম।

মাধবপুরের মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা পিয়ারা বেগম বলেন, চা বাগানের নারী শ্রমিকসহ চা জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের জন্য সরকারিভাবে তাদের বিভিন্ন সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। বাগান থেকে আরও সুযোগসুবিধা বাড়ানো হলে তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে।

আজকের সিলেট/ডি/এপি

সিলেটজুড়ে


মহানগর