সিলেটের গোলাপগঞ্জে একটি ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয় ভবনেই চলেছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান। যেকোনো সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। এতে প্রাণহানিসহ ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন অভিভাবক ও সচেতন মহল। তারা দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ করে শিক্ষার্থীদের স্থানান্তর করে ঝুঁকি এড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।
জানা যায়, নানা সমস্যায় জর্জরিত উপজেলার পশ্চিম আমুড়া ইউনিয়নের কদমরসুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একমাত্র ভবনটিকে ২০১৯ সালের ২০ মে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণার ৫ বছর পেরিয়ে গেলেও নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে ঝুঁকি নিয়েই চলছে পাঠদান।
সরেজমিন বিদ্যালয়ে ঘুরে দেখা যায়, ভবনের বিভিন্ন দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। ছাদ থেকে খসে পড়ছে পলেস্তারা। এর মধ্যেই ঝুঁকি নিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ক্লাস করছেন।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়টিতে ১ম থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত ৯৬ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। ৫ জন শিক্ষকের মধ্যে প্রধান শিক্ষক আম্বিয়া কুলছুম চৌধুরী ২০২৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি বদলি হন। এরপর থেকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়েই চলছে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম। একমাত্র ভবনটিতে ৩টি রুম রয়েছে। এরমধ্যে একটিকে অফিস রুম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। অন্য আরেকটি রুম দুই ভাগ করে চলছে পাঠদান কার্যক্রম। যে কারণে এক সঙ্গে দুটি শ্রেণির ক্লাস নিতে সমস্যা পড়তে হচ্ছে শিক্ষকদের ৷ অসুবিধা হচ্ছে শিক্ষার্থীদেরও। এছাড়া শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য নির্মাণাধীন ওয়াশ ব্লকের কাজ দুই বছরেও শেষ না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পোহাতে হচ্ছে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের। এদিকে বিদ্যালয়ের নিরাপত্তার জন্য সীমানা প্রাচীর না থাকার বিষয়টিও উদ্বেগের বলে জানানো হয়েছে।
বিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, 'প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে আমাদের ক্লাস করতে হয়। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমরা নতুন ভবন চাই।'
সাবেক শিক্ষার্থী জাকির হোসেন বলেন, 'দেশের বেশিরভাগ প্রাইমারি স্কুলের কাজ সমাপ্ত হলেও আমাদের স্কুল এখনও অনেক পিছিয়ে রয়েছে।'
বিদ্যালয়ের এক অভিভাবক বলেন, 'আমরাও এই স্কুলে লেখাপড়া করেছি। বর্তমানে আমাদের বাচ্চাদের স্কুলে দিতে ভয় হয়।'
আমুড়া ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান কামরান হোসেন বলেন, 'সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ অনেক স্কুলে ভবন করে দিয়েছেন। কিন্তু এই স্কুলের কোনো উন্নয়ন করেন নি।’
বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সদস্য সৈয়দ ফরহাদুর রব বলেন, 'নানান সমস্যা রয়েছে এই স্কুলে। শিক্ষার্থীদের ঝুঁকির মধ্যে ক্লাস করতে হয়। আমি সরকারের কাছে অনুরোধ করব এই স্কুলে নতুন একটি ভবন তৈরি করে দেওয়া হোক।'
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বাহার উদ্দিন বলেন, '২০১৯ সালে আমাদের স্কুলটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এরপর ৫ বছর ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান চলছে। একটি রুমকে ভাগ করে দুটি ক্লাস নিতে হয়৷ যে কারণে অনেক অসুবিধা হচ্ছে।'
উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা বীরেন্দ্র চন্দ্র দাশ বলেন, 'ভবনের ব্যাপারে আমি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে নির্দেশ দিয়েছি ১৮ কলামের একটা কলাম রয়েছে সেটা যেন তিনি প্রস্তুত করে দেন। আমরা সেটা অধিদপ্তরে প্রেরণ করব৷ আশা করছি অধিদপ্তর আমাদের একটি নতুন ভবন দিবেন।'
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দেওয়ান নাজমুল আলম বলেন, ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল, এখনো ঘোষণা করা হয়নি। ইঞ্জিনিয়ার অফিস থেকে গিয়ে এটাকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করতে হবে৷ তবে ভবনের জন্য আমরা একবার অধিদপ্তরে পাঠিয়েছি কিন্তু হয়নি৷ আবার পাঠাতে হবে৷
আজকের সিলেট/ডি/এপি
গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি 








